মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৫:৪৫
ইরান বিশ্বের প্রথম পরাশক্তি

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতাবা খামেনেয়ীর ৬ মেহর উপলক্ষে দেওয়া বার্তাকে নিছক আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়, বরং ইরানের অতীত থেকে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের পথচলার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বার্তায় স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, জনগণের ঐক্য, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও প্রতিরোধের ওপর ভিত্তি করে ইরানের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে শহীদ সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, প্রতিরোধের আদর্শ কোনো ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা একটি অব্যাহত পথ ও চেতনা।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাপ্ত স্মারকলিপি: সর্বোচ্চ নেতার ৬ মেহর (২৮ সেপ্টেম্বর) উপলক্ষে দেওয়া বার্তাকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বা উপলক্ষভিত্তিক বার্তা হিসেবে দেখা যায় না।

এই বার্তায় ইরানি জাতি অতীত থেকে আজ পর্যন্ত যে পথ পাড়ি দিয়েছে এবং সামনে যে দিগন্ত উন্মুক্ত রয়েছে, তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এমন একজন নেতার কণ্ঠে এই বার্তা উচ্চারিত হয়েছে, যার প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব ও কৌশল এই পথচলায় দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

তিনি দুটি সময়কালকে পাশাপাশি তুলে ধরেছেন। একটি হলো সেই সময়, যখন দেশের ভাগ্য নিজের হাতে থাকার চেয়ে পরাধীনতা ও বিদেশিদের হস্তক্ষেপের ছায়ায় বেশি আবদ্ধ ছিল। অন্যটি হলো বর্তমান সময়-যার মূল বৈশিষ্ট্য স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা ও দৃঢ়তার মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে।

ইরান সেই সময়কাল অতিক্রম করে এসেছে। জনগণের ঈমান, আত্মত্যাগ ও শহীদদের রক্ত এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও সাহায্যের মাধ্যমেই এই অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে।

আজ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সমীকরণে ইরান এমন কোনো দেশ নয়, যাকে উপেক্ষা করা যায়। আল্লাহর অনুগ্রহে এবং তাঁর ওপর ভরসার ছায়ায় দেশটি বৈশ্বিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেছে।

সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ-জনগণের ময়দানে উপস্থিতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং জাতীয় ঐক্য। এই তিনটি দেশের শক্তি ও কর্তৃত্বের প্রধান স্তম্ভ।

আমার মতে, তাঁর এই বিশ্লেষণ যথার্থ এবং ইরানি জাতির ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তবে এই স্তম্ভগুলো ততক্ষণই দৃঢ় থাকবে, যতক্ষণ এগুলো মহান আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।

বার্তার শেষাংশে শহীদ সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের কথা স্মরণ করার মধ্য দিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। এর অর্থ হলো-প্রতিরোধের পথ কোনো একক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত নয়; কোনো একজন ব্যক্তির চলে যাওয়ার কারণে এই পথ থেমে যায় না।

সর্বোচ্চ নেতার ভাষ্যে আজকের ইরান কোনো প্রান্তিক রাষ্ট্র নয়। বরং এটি এমন একটি জাতি, যে ঈমান, ঐক্য এবং মহান আল্লাহর অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করে বিশ্বে নিজের ভূমিকা পালন এবং নিজের মর্যাদা ও অবস্থান রক্ষার জন্য দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

মোহসেন ফালাহ আরদেস্তানি

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha