বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৪:১৮
প্রতিরোধের নেতা সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহর নেতৃত্বের ধরন: মাসউদ আসাদুল্লাহির বর্ণনা

প্রতিরোধের নেতা সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহর নেতৃত্বের ধরন: মাসউদ আসাদুল্লাহির বর্ণনা

হাজি কাসেম ও শহীদ নাসরুল্লাহর সহযোগিতা কীভাবে লেবাননের প্রতিরোধের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছিল?

মাসউদ আসাদুল্লাহি, শহীদ কমান্ডার হাজি কাসেম সোলাইমানির কৌশলগত উপদেষ্টা, বলেছেন-সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর ব্যক্তিত্বকে শুধু তাঁর সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দেখা উচিত নয়। সততা, বিনয় এবং ব্যক্তিগত সুবিধা দাবি করা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তিনি লেবাননের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন। ঐক্য রক্ষার স্বার্থে তিনি রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব বা ক্ষমতার ভাগ দাবি থেকেও বিরত ছিলেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, মাসউদ আসাদুল্লাহি মঙ্গলবার ৭ মেহর (ইরানি বর্ষপঞ্জি) কোমের হযরত সাহিবুল আমর (আ.) ফিকহ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি লেবাননের হিজবুল্লাহর সাবেক মহাসচিবের ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্বের ধরন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ তুলে ধরেন।

ছাত্রজীবন থেকে হিজবুল্লাহর নেতৃত্বে

শহীদ নাসরুল্লাহর কৈশোর ও শিক্ষাজীবনের কথা স্মরণ করে আসাদুল্লাহি বলেন, তিনি দক্ষিণ লেবাননের একটি সাধারণ ও ধর্মপ্রাণ শিয়া পরিবারে বেড়ে ওঠেন। কৈশোর থেকেই তিনি ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। শহীদ সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভির সঙ্গে পরিচয় এবং পরবর্তীতে নাজাফের হাওজায় অধ্যয়ন তাঁর চিন্তাগত ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় ছিল।

তিনি বলেন, নাজাফে শহীদ নাসরুল্লাহ ও শহীদ মুসাভি শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বাকের সাদরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং তাঁর মাধ্যমে ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলের সঙ্গে পরিচিত হন। ইরাক থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তাঁরা লেবাননে ফিরে আসেন এবং সেখানে তাঁদের শিক্ষা ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।

এই আঞ্চলিক বিষয়ক বিশ্লেষক আরও বলেন, শহীদ নাসরুল্লাহর বৈশিষ্ট্যকে শুধু পারিবারিক লালন-পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি ও তাঁর দুই ভাই প্রথমদিকে আমল আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু হিজবুল্লাহ গঠনের সময় কেবল সাইয়্যেদ হাসান নতুন এই পথ বেছে নেন; তাঁর দুই ভাই আমলেই থেকে যান। তাঁর মতে, শহীদ নাসরুল্লাহর মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের জন্য বিশেষ প্রতিভা ও সক্ষমতা ছিল।

আসাদুল্লাহি আরও বলেন, শহীদ নাসরুল্লাহ যখন তরুণ ছিলেন, তখন ইমাম খোমেনি (রহ.) তাঁর জন্য শরয়ি বিষয়ে একটি অনুমতিপত্র বা দায়িত্বসংক্রান্ত নির্দেশ জারি করেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি নিজে শহীদ নাসরুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, এত অল্প বয়সে ইমাম কেন তাঁর প্রতি এমন আস্থা রেখেছিলেন, তা তিনি নিজেও জানতেন না।

তিনি শহীদ নাসরুল্লাহর বাগ্মিতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও দ্রুত শেখার প্রতিভাকে তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোমে অবস্থান ও অধ্যয়নের সময় নাসরুল্লাহ ফারসি ভাষা ভালোভাবে শিখেছিলেন এবং ইরানিদের সঙ্গে ফারসিতে কথা বলতেন।

প্রতিরোধের নেতা সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহর নেতৃত্বের ধরন: মাসউদ আসাদুল্লাহির বর্ণনা

হাজি কাসেম ও শহীদ নাসরুল্লাহর সহযোগিতায় লেবাননের প্রতিরোধের সক্ষমতা বৃদ্ধি

আসাদুল্লাহি ১৩৬১ হিজরি শামসি সালে ইসরায়েলি হামলার পর লেবাননে ইরানি বাহিনী পাঠানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সে সময় হাজি আহমদ মোতাওয়াসেলিয়ানের নেতৃত্বাধীন হযরত রাসুল (সা.) ব্রিগেড এই হামলা মোকাবিলায় সহায়তার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল। তবে তাদের সরাসরি যুদ্ধে প্রবেশের সুযোগ হয়নি।

মোতাওয়াসেলিয়ান ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর কাছে যে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইমাম জোর দিয়ে বলেছিলেন-ইরানের অগ্রাধিকার হচ্ছে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ। তাই ইরানি সেনাদের লেবাননের জনগণের পরিবর্তে যুদ্ধ করা উচিত নয়। বরং যারা নিজেদের দেশ রক্ষায় আগ্রহী, সেই লেবানিজ তরুণদের চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম দিতে হবে।

আসাদুল্লাহির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানি বাহিনীর মিশন সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ থেকে পরামর্শক কার্যক্রমে রূপান্তরিত হয়। এর মাধ্যমে লেবানিজ যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরোধ কাঠামো গড়ে ওঠার ক্ষেত্র তৈরি হয়।

এরপর তিনি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভির শাহাদাতের পর শহীদ নাসরুল্লাহকে হিজবুল্লাহর মহাসচিব নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেন। নেতৃত্ব পরিষদে তাঁর চেয়ে অধিক অভিজ্ঞ ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা থাকা সত্ত্বেও তাঁকেই এই দায়িত্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি প্রতিরোধ পরিচালনা এবং কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজের সক্ষমতা প্রদর্শন করেন।

আসাদুল্লাহি শহীদ নাসরুল্লাহ ও শহীদ কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির সহযোগিতাকে হিজবুল্লাহর সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, হাজি কাসেম ইরানের পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হিজবুল্লাহর কার্যক্রমের কাঠামো সাজানো, কমান্ড সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং সরবরাহ ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সহায়তা করেন। এই সহযোগিতা দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের আগের বছরগুলোতে প্রতিরোধের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

সততার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা

সাবেক কুদস ফোর্সের উপদেষ্টা হিজবুল্লাহর মহাসচিবের ছেলে হাদি নাসরুল্লাহর শাহাদাতকে লেবাননের সমাজে তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতার সন্তান সম্মুখসারিতে অবস্থান করে যুদ্ধে শহীদ হওয়ার ঘটনা লেবাননের সমাজে অত্যন্ত প্রভাব ফেলেছিল।

তিনি আরও বলেন, যখন তাঁর ছেলের জানাজা আলাদাভাবে হস্তান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়, শহীদ নাসরুল্লাহ তা গ্রহণ করেননি। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, তাঁর ছেলে অন্য যোদ্ধাদের থেকে আলাদা নয়; তাই অন্যদের সঙ্গে এবং বন্দিবিনিময়ের কাঠামোর মধ্যেই তাঁর জানাজা ফিরিয়ে দিতে হবে। এই আচরণ দেখিয়েছিল যে তিনি নিজের পরিবারের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করেননি।

২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের পর শহীদ নাসরুল্লাহর ভাষণের কথা উল্লেখ করে আসাদুল্লাহি বলেন, তিনি চাইলে বিজয়কে শুধু হিজবুল্লাহর নামে ঘোষণা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি প্রতিরোধকে যেকোনোভাবে সমর্থনকারী সবাইকে সেই বিজয়ের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করেন-কবি, লেখক, বক্তা ও বিশ্লেষকসহ, তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা না করেই।

তিনি বলেন, এই আচরণ শহীদ নাসরুল্লাহর ব্যক্তিত্বের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি অর্জন নিজের নামে কুক্ষিগত করার পরিবর্তে অন্যদেরও সাফল্যের অংশীদার করতেন।

আসাদুল্লাহি শহীদ নাসরুল্লাহ ও লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরির সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হারিরির স্ত্রী তাঁর স্বামী নিহত হওয়ার পর যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, তা অনুযায়ী হারিরি শহীদ নাসরুল্লাহর সততা, বিনয় ও স্পষ্টবাদিতায় প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে আলোচনায় সন্তুষ্টি অনুভব করতেন।

তিনি আরও বলেন, এসব সাক্ষাতে শহীদ নাসরুল্লাহ আর্থিক সহায়তা চাননি এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়েছে-এই কথা বলে আর্থিক সহযোগিতার প্রস্তাবও গ্রহণ করেননি। হারিরির জন্য বিষয়টি ছিল উল্লেখযোগ্য; কারণ তাঁর আশপাশের অনেকেই তাঁর কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করতেন।

ঐক্য ছিল শহীদ নাসরুল্লাহর রাজনৈতিক অগ্রাধিকার

আসাদুল্লাহি হিজবুল্লাহ ও আমল আন্দোলনের মধ্যকার অতীত সংঘাতের কথা উল্লেখ করে ওই সময়কে লেবাননের শিয়া সমাজের জন্য একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, শহীদ নাসরুল্লাহ নিজ পরিবারে এই সংঘাতের পরিণতি কাছ থেকে দেখেছিলেন। তাঁর এক ভাই বন্দি হয়েছিলেন এবং আরেক ভাই গুরুতর আহত হয়েছিলেন। নাসরুল্লাহ বলতেন, ওই অভিজ্ঞতার পর তিনি আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার করেছিলেন যে, এমন বিরোধ যেন পুনরায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধে রূপ না নেয়, তা তিনি হতে দেবেন না।

শহীদ কমান্ডার মুহাম্মদ পাকপুরের উপদেষ্টা আসাদুল্লাহি আরও বলেন, পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোতেও এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যায়। যখন নাবিহ বেরির পরিবর্তে অন্য কাউকে সংসদের স্পিকার করার জন্য সমর্থনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, শহীদ নাসরুল্লাহ বেরির সমর্থনে অটল ছিলেন। একটি রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে আমলের সঙ্গে জোটকে তিনি ত্যাগ করতে রাজি হননি।

এই আঞ্চলিক বিশ্লেষক সংসদীয় নির্বাচন ও স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে হিজবুল্লাহ ও আমলের সহযোগিতাকেও একই দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এমন সময়ও ছিল যখন হিজবুল্লাহর কিছু সদস্য মনে করতেন তাঁরা আরও বেশি আসন পেতে পারেন। কিন্তু শহীদ নাসরুল্লাহ রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর পরিবর্তে ঐক্য রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতেন। তিনি জোর দিয়ে বলতেন, সংসদ বা সিটি কাউন্সিলের একটি আসনের জন্য নতুন কোনো বিরোধ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

আসাদুল্লাহি এরপর ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতার সঙ্গে শহীদ নাসরুল্লাহর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তিনি তাঁর দিকনির্দেশনার ওপর আস্থা রাখতেন। অন্যদিকে, লেবাননের জটিল সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে শহীদ নাসরুল্লাহর জ্ঞান এবং বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও তাঁর প্রতি আস্থার ভিত্তি ছিল।

নিজের শেষ সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ১৪০০ হিজরি শামসি সালে মাকতাবে সোলাইমানির পক্ষ থেকে ৩৩ দিনের যুদ্ধে হাজি কাসেমের ভূমিকা নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারের জন্য প্রশ্ন তৈরি করার অনুরোধ পান। কিছু প্রশ্ন ছিল বিশেষায়িত ও চ্যালেঞ্জিং। তিনি ধারণা করেছিলেন, এর কয়েকটি প্রশ্ন বাদ দেওয়া হতে পারে। কিন্তু শহীদ নাসরুল্লাহ সব প্রশ্নের উত্তর দিতে সম্মত হন। তাঁর কাছে এটি ছিল শহীদ নাসরুল্লাহর স্পষ্টবাদিতা ও সততার আরেকটি উদাহরণ।

প্রতিরোধের নেতা সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহর নেতৃত্বের ধরন: মাসউদ আসাদুল্লাহির বর্ণনা

শহীদ কমান্ডার মুহাম্মদ পাকপুরের সঙ্গে সহযোগিতার অভিজ্ঞতা

বক্তব্যের শেষাংশে আসাদুল্লাহি শহীদ কমান্ডার মুহাম্মদ পাকপুরের সঙ্গে তাঁর সহযোগিতার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৪০০ হিজরি শামসি সালে ইরানে ফিরে আসার পর ওই শহীদের অনুরোধে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।

তিনি বলেন, স্থলবাহিনী পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করা, সীমান্তবর্তী সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা ও অপারেশনাল সক্ষমতা উন্নত করার ক্ষেত্রে কমান্ডার পাকপুর ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তিনি তাঁর সময়ের একটি বড় অংশ দেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কাটাতেন।

দুর্গম এলাকায় কর্মরত সদস্যদের পরিস্থিতির প্রতি মনোযোগ দেওয়া, চৌকিগুলোতে সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য জ্ঞানভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা ব্যবহার এবং সিস্তান ও বেলুচিস্তানে বৈজ্ঞানিক ও দক্ষতাভিত্তিক অবকাঠামোকে সমর্থন করাকে তিনি শহীদ পাকপুরের দায়িত্বকালে অনুসৃত কয়েকটি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

শহীদ কমান্ডার পাকপুরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা আরও বলেন, তাঁর কমান্ডিং সক্ষমতার পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সদাচরণ ও আন্তরিক ব্যবহারও এমন বৈশিষ্ট্য ছিল, যার কারণে সদস্যরা আন্তরিকভাবে তাঁর সঙ্গে কাজ করতেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha