বুধবার ৭ অক্টোবর ২০২৬ - ১৯:৪২
ঈমান ও তাকওয়ার শক্তিতে শয়তান ও শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে

শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও অনুপ্রবেশের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ইরানের কেন্দ্রীয় প্রদেশে সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ কোরবানআলী দোরি নাজাফাবাদি বলেছেন, শয়তান বিভিন্ন উপায়ে মানুষকে প্রতারিত ও বিপথগামী করার চেষ্টা করে। তাই ঈমান, তাকওয়া, আল্লাহর জিকির ও ধর্মীয় সচেতনতার মাধ্যমে এসব হুমকি মোকাবিলা করতে হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: নাহজুল বালাগার পাঠদানকালে আয়াতুল্লাহ দোরি নাজাফাবাদি মানুষকে পথভ্রষ্ট করার ব্যাপারে ইবলিসের শপথের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনে ইবলিসের বক্তব্য এসেছে—‘আপনার সম্মানের শপথ, আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করব; তবে তাদের মধ্যে আপনার নির্বাচিত বান্দারা ছাড়া।’

তিনি বলেন, শয়তান মানুষের কাছে মন্দ ও কুৎসিত বিষয়কে আকর্ষণীয় করে তুলে তাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করে। দুনিয়ার মোহ, প্রবৃত্তির আকাঙ্ক্ষা, উচ্ছৃঙ্খলতা, দুর্নীতি, অশ্লীলতা, খ্যাতির লোভ ও সুযোগসন্ধানিতা এর অন্যতম মাধ্যম।

আয়াতুল্লাহ দোরি নাজাফাবাদি বলেন, শয়তান শুধু একটি পথেই প্রভাব বিস্তার করে না; কল্পনা ও আবেগ থেকে শুরু করে চোখ, কান এবং মানুষের উপলব্ধির বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারে। তাই এর মোকাবিলায় প্রত্যেককে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে অনুপ্রবেশ ও বিপথগামিতার সুযোগ তৈরি হতে দেওয়া যাবে না।

ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের বিরোধী বিভিন্ন প্রবণতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে এসব প্রবণতা নানা রূপে প্রকাশ পাচ্ছে। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত গোষ্ঠী, সন্ত্রাসী সংগঠন, দুর্নীতিগ্রস্ত বিভিন্ন প্রবাহের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক নেটওয়ার্কও মানুষের চিন্তা ও জীবনধারায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

তিনি গণমাধ্যম, স্যাটেলাইট চ্যানেল, কিছু সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্রভিত্তিক নির্মাণ এবং ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনধারার প্রচারকে এর অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বিদেশি সংস্কৃতি ও ভুল জীবনধারার আদর্শকে ইসলামী ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকল্প হয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মুমিনের জীবনে আল্লাহর ওপর ভরসার গুরুত্ব তুলে ধরে আয়াতুল্লাহ দোরি নাজাফাবাদি বলেন, একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে নিজের ব্যক্তিত্ব ও পরিচয় গড়ে তোলা। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার শয়তানের কুমন্ত্রণা ও বিপথগামী প্রবণতার প্রভাবে পড়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, শয়তানের কুমন্ত্রণা মোকাবিলার উপায় হলো আল্লাহর জিকির, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, ইবাদত, আনুগত্য, ইখলাস ও তাকওয়া। মানুষকে ঈমান, তাকওয়া ও নামাজের শক্তিতে নিজেকে সুরক্ষিত করতে হবে। কারণ পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর জিকির অব্যাহত রাখা এবং আল্লাহর ওলিদের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক মানুষকে পদস্খলন ও বিপথগামিতা থেকে সুরক্ষিত রাখে। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-আরাফে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের যখন শয়তানের কোনো কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে; ফলে তারা স্পষ্টভাবে দেখতে পায়।’

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, মুত্তাকিরা শয়তানের কুমন্ত্রণার মুখোমুখি হলে আল্লাহকে স্মরণ করে। ফলে তারা সঠিক পথ ও বিপথের পার্থক্য বুঝতে পারে এবং শয়তানের ফাঁদে পড়ে না।

তিনি বলেন, শয়তান অর্থনৈতিক বিষয় ও হারাম উপার্জন থেকে শুরু করে দুর্নীতি, অশ্লীলতা, অনৈতিকতা ও অন্যান্য ক্ষেত্র ব্যবহার করে মানুষকে বিপথগামী করতে পারে। তবে তাকওয়া এ ধরনের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করে।

শেষে সমাজে সচেতনতা ও সতর্কতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আয়াতুল্লাহ দোরি নাজাফাবাদি বলেন, একজন মুমিনকে সবসময় অনুপ্রবেশ ও বিপথগামিতার পথগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। ঈমান, তাকওয়া, নামাজ, আল্লাহর জিকির, ধর্মীয় জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে শত্রু ও বিপথগামী প্রবণতাগুলো যেন তার চিন্তা, সংস্কৃতি ও আচরণের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha