সোমবার ১২ অক্টোবর ২০২৬ - ০১:২৮
মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুর সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র বিভেদ, লক্ষ্য ইসলামি ঐক্যে আঘাত: লেবাননের সুন্নি আলেম

হাওজা নিউজ এজেন্সি— মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং ইসলামি ঐক্যে আঘাত হানাই শত্রুর সবচেয়ে বিপজ্জনক কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন লেবাননের ইসলামি আলেম পরিষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রধান শেখ গাজি হানিনা। তিনি গাজা, লেবানন, ইরান, ইয়েমেন, ইরাক ও সিরিয়ায় প্রতিরোধযোদ্ধাদের প্রতি সংহতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অপারেশন ‘তুফান আল-আকসা’র তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে লেবাননের সাইদা শহরে বিশ্ব প্রতিরোধ আলেম ইউনিয়নের প্রধান শেখ মাহের হাম্মুদের কার্যালয়ে ‘অবিচলতা ও আনুগত্য’ শীর্ষক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। সভায় বক্তব্য দেন শেখ গাজি হানিনা।

শেখ গাজি হানিনা বলেন, “তুফান আল-আকসা এমন একটি দিন, যার আগে বা পরে এর মতো আর কোনো দিন আসেনি। ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরান ও ইয়েমেনে এক লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং এসব দেশে প্রায় দুই লাখ মানুষ আহত হয়েছেন।”

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমি নিশ্চিতভাবে এবং সবার শোনার জন্য বলছি—আমরা বিজয়ী হয়েছি। শত্রুর কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য ছিল আমাদের বিজয়ের আকাঙ্ক্ষা ও মনোবল ভেঙে দেওয়া।”

তিনি আরও বলেন, “গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ, লেবাননে ধ্বংসযজ্ঞ, কমান্ডারদের হত্যা, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরান ও ইয়েমেনের মানুষকে হত্যা এবং আমাদের সন্তান, যুবক-যুবতী, নারী, পুরুষ ও শিশুদের হারানো—এসবকিছুর লক্ষ্য ছিল বিজয়ের আকাঙ্ক্ষা ভেঙে দেওয়া। কিন্তু বিজয় অর্জিত হয়েছে। কারণ, ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ প্রকল্প এখন বিভ্রান্তি ও বিস্মৃতির মধ্যে রয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছায় এই প্রকল্প ধ্বংস হলে ছোট ইসরায়েলও পতনের দিকে এগিয়ে যাবে।”

লেবাননের এই সুন্নি আলেম বলেন, এ পথে এগিয়ে যেতে সময় ও ধৈর্যের প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমরা শাহাদাতের জাতি। আমরা বদর, ওহুদ, খন্দক, মুতা, আইন জালুত, হিত্তিন ও ইয়ারমুকের উত্তরসূরি। আমরা সেই বীরদের সন্তান, যাঁরা আমাদের জন্য মর্যাদা ও সম্মানের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। আমাদের দায়িত্ব সেই মর্যাদা ও সম্মান পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।”

শেখ হানিনা বলেন, শত্রুর সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র হলো বিভেদ সৃষ্টি করা। আরব ও মুসলিম জাতিগুলোর মধ্যে বিরোধ উসকে দিয়ে ইসলামি ঐক্য দুর্বল করার চেষ্টা করছে শত্রুপক্ষ।

তিনি ইসলামি ও জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে গাজা, দক্ষিণ লেবানন, ইরান, ইয়েমেন, ইরাক ও সিরিয়ার প্রতিরোধযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

সিরিয়ার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বলছি, সময় যতই অতিবাহিত হোক না কেন, আল্লাহর ইচ্ছায় সিরিয়া আবারও তার অতীত গৌরব ফিরে পাবে।”

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha