হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসফাহান থেকে হাওজা নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ দুপুরের আগে ইসফাহানের ইমাম হুসাইন (আ.) সাফিরানে হেদায়াত হাওজা ইলমিয়ায় ‘আল্লামা হিল্লি স্কুল উৎসব’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মোহসেন জালালি শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা ও বিশেষায়িত জ্ঞানচর্চার মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণ ও তাত্ত্বিক পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি ‘ব্যবহারিক ও গবেষণাভিত্তিক নৈতিকতা’ চর্চার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও হাওজা ইলমিয়ার তালাবাদের অধ্যয়নের আদব এবং পেশাগত নৈতিকতার আলোকে নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। এর ফলে তাদের আচরণগত উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশেও সহায়তা হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে হুজ্জাতুল ইসলাম জালালি বলেন, সংক্ষিপ্তসারনির্ভর পড়াশোনা এবং ছোট ছোট নোটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
তিনি গভীর অধ্যয়ন, মৌলিক জ্ঞানসূত্রে ফিরে যাওয়া এবং বই পড়ার সংস্কৃতি শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বৈজ্ঞানিক পরিচয় গঠন ও গণমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মুখস্থবিদ্যার ঊর্ধ্বে রচনা ও গবেষণা
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন জালালি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং গ্রন্থাগারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গ্রন্থাগারগুলোকে কেবল ‘বইয়ের গুদাম’ হিসেবে না রেখে ‘জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্রে’ পরিণত করার ওপর জোর দেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রন্থাগারের সীমিত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি লেখক ও গবেষকদের সহায়তা এবং শিক্ষার্থী ও তালাবাদের গ্রন্থাগারমুখী করতে উৎসাহমূলক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি লেখালেখিকে মানসিক সুস্থতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, লেখালেখির মাধ্যমে চিন্তাভাবনা প্রকাশ করা যায় এবং মানসিক প্রশান্তি অর্জিত হয়।
হাওজা ইলমিয়ায় অধ্যয়নের লক্ষ্য শুধু পাঠ্যবিষয় মুখস্থ করা হওয়া উচিত নয়; বরং গ্রন্থ রচনা ও জ্ঞান উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছানোই একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞানগত পরিপক্বতার পরিচায়ক।
ইসফাহানের হাওজা ইলমিয়ার গবেষণা বিভাগের উপপ্রধান লেখক ও গবেষকদের পৃষ্ঠপোষকতার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জ্ঞান উৎপাদন বলতে শুধু সম্পূর্ণ নতুন কিছু উদ্ভাবন করাকে বোঝায় না। কঠিন বিষয়ের ব্যাখ্যা, গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার তৈরি এবং সমকালীন ভাষা ও লেখনশৈলীতে পুরোনো গ্রন্থ পুনর্লিখনও জ্ঞানচর্চার বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
সাধারণ রচনা থেকে ব্যবহারিক গবেষণায় উত্তরণ জরুরি
বই প্রকাশ ও জ্ঞান উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নগত সমস্যাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে হুজ্জাতুল ইসলাম জালালি লেখকদের আগ্রহ এবং প্রশাসনিক বাধার মধ্যকার ব্যবধান তুলে ধরেন। এসব বাধার মধ্যে রয়েছে জনবলের ঘাটতি এবং প্রকাশনার অনুমতি পাওয়ার জটিল প্রক্রিয়া।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব সমস্যা বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা ও জ্ঞানভিত্তিক রচনা প্রকাশের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
ইসফাহানের হাওজা ইলমিয়ার গবেষণা বিভাগের উপপ্রধান বিষয়বস্তু ও গবেষণাপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বিশেষায়িত অনুবাদ এবং ‘ব্যবস্থাগত ফিকহ’সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও সামাজিক সমস্যার ওপর গবেষণা জোরদার করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, গবেষণাকে গতানুগতিক বিষয়ের পুনরাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামী সমাজের বাস্তব চাহিদার উত্তর দেওয়ার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
পরিশেষে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন জালালি হাওজা ইলমিয়ার চারটি দায়িত্ব-ফকিহ, বিচারক, শিক্ষক ও ধর্মপ্রচারক তৈরি-স্মরণ করিয়ে দিয়ে জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা ও বিশেষায়িত বিষয়বস্তু উৎপাদন জোরদার করার আহ্বান জানান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৈজ্ঞানিক ও গবেষণামূলক কার্যক্রম শুধু বই লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং সমকালীন সমাজের চাহিদার উত্তর দেওয়ার জন্য সমালোচনা ও মতবিনিময়মূলক সভা এবং ধারাবাহিক জ্ঞানভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমেও তা অব্যাহত রাখতে হবে।
আপনার কমেন্ট