হাওজা নিউজ এজেন্সি: শনিবার রাতে তুর্কমেন কাউন্টিতে এক জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হানাফি বলেন, দেশের প্রতি সমর্থন জানাতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি জাতি ও ধর্মের মধ্যে গভীর জাতীয় বন্ধনের প্রতিফলন। সংকটময় মুহূর্তে ইরানের জনগণ প্রমাণ করেছে, জাতিগত ও ধর্মীয় পার্থক্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথে বাধা হতে পারে না।
ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদদের রক্ত বিপ্লবের স্থায়িত্ব এবং সমাজে প্রতিরোধের চেতনা জোরদার করার ভিত্তি। দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগই আজ জনগণকে টিকে থাকার ও আশাবাদী হওয়ার প্রেরণা জোগাচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপ ও হুমকির প্রসঙ্গ তুলে হানাফি বলেন, শত্রুরা ভেবেছিল, সামরিক কমান্ডার, কর্মকর্তা ও দেশের নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করে জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং সামাজিক সংহতি দুর্বল করা সম্ভব হবে। কিন্তু জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, তাদের এই হিসাব ব্যর্থ হয়েছে।
দেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাহিনীর প্রস্তুতি, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই আজ ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হানাফি মানবাধিকারকর্মীদের নীরবতার সমালোচনা করেন। তিনি এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান।
হানাফি আরও বলেন, জাতিগত ও ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করা শত্রুদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাই সামাজিক সচেতনতা বজায় রাখা এবং জাতীয় বন্ধন শক্তিশালী করা জরুরি, যাতে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পার্থক্য বিভেদের কারণ হয়ে না দাঁড়ায় এবং শত্রুরা নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ না পায়।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, ইরান সব ইরানির। তুর্কমেন, ফার্সি, তুর্কি, লুর, শিয়া ও সুন্নি—সবাই অভিন্ন ইরানি পরিচয়ের অধিকারী। দেশের ভূমি রক্ষায় সবার দায়িত্ব সমান। ইরান সবার যৌথ মাতৃভূমি, আর তা রক্ষা করা প্রত্যেকের কর্তব্য।
আপনার কমেন্ট