রবিবার ২ মার্চ ২০২৫ - ১৪:২৭
জ্ঞান একটি মূল্যবান ও অমূল্য উত্তরাধিকার, আর অজ্ঞতা সব ধরনের বিচ্যুতির মূল

আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.) জ্ঞানকে একটি মূল্যবান উত্তরাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ইসলামে অন্য কিছুর সাথে তুলনীয় নয়।  

হাওজা নিউজ এজেন্সি, আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.) জ্ঞানকে একটি মূল্যবান উত্তরাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ইসলামে অন্য কিছুর সাথে তুলনীয় নয়। তিনি (আ.) বলেছেন: "الْعِلْمُ وِرَاثَةٌ کَرِیمَةٌ" অর্থাৎ জ্ঞান একটি মহামূল্যবান উত্তরাধিকার।  

ইসলামে জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষাদানের প্রতি যে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা অন্যান্য বিষয় ও প্রসঙ্গে দেখা যায় না। এর কারণ সংক্ষেপে এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে:
 "জ্ঞানের বিপরীতে অজ্ঞতা রয়েছে, আর অজ্ঞতা সব ধরনের বিচ্যুতির মূল।" 

যে জিনিস মানুষকে অজ্ঞতা থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহর বিধানের দিকে পরিচালিত করে, তা হলো জ্ঞান ও প্রজ্ঞা।  

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

 "إِنَّ اَلْمَلاَئِکَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ اَلْعِلْمِ حَتَّی یَطَأَ عَلَیْهَا رِضًا بِهِ"

অর্থাৎ ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেন। তিনি (সা.) আরও বলেছেন:

 "فَضْلُ اَلْعَالِمِ عَلَی اَلْعَابِدِ کَفَضْلِ اَلشَّمْسِ عَلَی اَلْکَوَاکِبِ"

অর্থাৎ আলেমের মর্যাদা আবেদের চেয়ে এমন, যেমন সূর্যের মর্যাদা তারকারাজির চেয়ে। হযরত আবু যর (রা.)-কে তিনি বলেছেন:

 "اَلْجُلُوسُ سَاعَةً عِنْدَ مُذَاکَرَةِ اَلْعِلْمِ.. یَا أَبَا ذَرٍّ اَلْجُلُوسُ سَاعَةً عِنْدَ مُذَاکَرَةِ اَلْعِلْمِ أَحَبُّ إِلَیَّ مِنْ قِرَاءَةِ اَلْقُرْآنِ کُلِّهِ اِثْنَیْ عَشَرَ أَلْفَ مَرَّةٍ" 

অর্থাৎ এক ঘণ্টা জ্ঞানমূলক আলোচনায় বসা বারো হাজার বার কুরআন খতম করার চেয়ে উত্তম।  

একইভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:


 "إِذَا کَانَ یَوْمُ اَلْقِیَامَةِ وُزِنَ مِدَادُ اَلْعُلَمَاءِ بِدِمَاءِ اَلشُّهَدَاءِ، فَیُرَجَّحُ مِدَادُ اَلْعُلَمَاءِ عَلَی دِمَاءِ اَلشُّهَدَاءِ" 

অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আলেমদের কালিকে শহীদদের রক্তের সাথে ওজন করা হবে, এবং আলেমদের (কলমের) কালি শহীদদের রক্তের চেয়ে ভারী হবে।  

ইমাম মা‘সুম (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: যে ব্যক্তি জিহাদ করে, সে ইসলামী সীমানা রক্ষা করে, যাতে শত্রু মুসলমানদের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের উপর আক্রমণ না করতে পারে। যদি তা না হয়, তবে মুসলমানদের জমি কাফেরদের দখলে চলে যাবে। তাদের সম্পদ তাদের হাতে চলে যাবে এবং তাদের সম্মান বিপন্ন হবে। জিহাদের চেয়ে বড় কোনো ফলাফল নেই, কিন্তু জ্ঞান অর্জনকারীরা হৃদয়ের সীমানা রক্ষা করে, শত্রু ও শয়তানকে মুমিনের হৃদয়ে প্রবেশ করতে বাধা দেয় এবং তার ঈমানকে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করে। যখন শত্রু কারও সম্পদে প্রবেশ করে এবং তার মাল লুট করে নেয়, তখন তা তার পার্থিব ক্ষতি হয়, কিন্তু আল্লাহ তাআলা পরকালে এর প্রতিশোধ নেবেন। এমনকি যদি সে মারা যায়, তবে সে কয়েক দিনের পার্থিব জীবন থেকে বঞ্চিত হবে, কিন্তু আল্লাহ তাকে পরকালে চিরস্থায়ী জীবন দান করবেন। তবে এদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত যে, যদি কেউ কারও ঈমানের উপর আক্রমণ করে, তবে তার জন্য কী অবশিষ্ট থাকে? শুধু চিরস্থায়ী শাস্তি!!  

এ কারণেই আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.) জ্ঞানকে একটি মূল্যবান উত্তরাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ইসলামে অন্য কিছুর সাথে তুলনীয় নয়।  

সূত্র:
১. নাহজুল বালাগা, হিকমত ৫।  
২. বিহারুল আনোয়ার, খণ্ড ১, পৃ. ১৭৭।  
৩. বিহারুল আনোয়ার, খণ্ড ২, পৃ. ১৯।  
৪. জামিউল আখবার, খণ্ড ১, পৃ. ৩৭।  
৫. আমালি শেখ তুসি, খণ্ড ১, পৃ. ৫২১।  
৬. আয়াতুল্লাহ মিসবাহ ইয়াজদি, হাওজা ইলমিয়া দিল্লি, জামিয়াতু আহলে বাইত (আ.), শুক্রবার, ৪ মেহের, ১৩৮২।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha