শুক্রবার ৪ এপ্রিল ২০২৫ - ২০:০০
প্রতিশ্রুত বিজয় যুদ্ধে সোনা ও সন্তান উৎসর্গ থেকে মিডিয়া তৎপরতা পর্যন্ত  

পশ্চিমা ও বিরোধী মিডিয়াগুলো ইয়েমেনের শক্তিশালী ও পরহেযগার নারীদের নিরক্ষর ও দুর্বল হিসেবে চিত্রিত করতে চায়। অথচ তারা ভালো করেই জানে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নারীরা ইয়েমেনেই বাস করেন।  

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে ইয়েমেনের ইসলামি প্রতিরোধ অগ্রগামী ভূমিকা রাখছে। যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইয়েমেনিরা প্রতিরোধে সহায়তায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করছে। গত এক দশকজুড়ে সৌদি-মার্কিন জোটের আগ্রাসন মোকাবিলায় ইয়েমেনি নারীদের অবদান অনস্বীকার্য।  

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নারীরা ইয়েমেনে

নারী সমাজের অর্ধেক, তাদের প্রভাব গভীর। ইতিহাস প্রমাণ করে, প্রতিটি মহৎ পুরুষের পেছনে একজন মহীয়সী নারী আছেন। ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক, ইরান ও ইয়েমেনের নারীরা প্রতিরোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন। তারা সিয়োনিবাদী আগ্রাসন ও মার্কিন-ইসরায়েলি দোসরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অগ্রণী।  

ইয়েমেনি নারীরা গত এক দশক ধরে শত্রুর মোকাবিলায় অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। সৌদি-মার্কিন আগ্রাসনের শুরুতেও তারা সরাসরি প্রতিরোধে সামিল হয়েছেন। কীভাবে তারা সমাজের শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলেন? কী তাদের সাহসের উৎস?  

ঐতিহাসিক নারীদের আদর্শে অনুপ্রাণিত

ইয়েমেনি লেখিকা ও কর্মী উম্মে সাদিক আল-শরীফ আল-মানার টিভিকে বলেন, ইয়েমেনি নারীরা খাদিজা (রা.), ফাতিমা (রা.) এবং কারবালায় জয়নব (সা.)-এর অবিচলতার আদর্শে অনুপ্রাণিত। তিনি বলেন, ১০ বছর ধরে হাসপাতাল, স্কুল, তেলের ডিপোতে বেপরোয়া বোমাবর্ষণ, ৮ বছরজুড়ে স্থল-নৌ-বায়ু অবরোধ সত্ত্বেও আমরা দাঁড়িয়ে আছি। ইয়েমেনিরা যখন অস্ত্র ধারণ করল, 'বড় শয়তান' (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়।

সন্তান, সোনা ও কলমের জিহাদ

তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রতিশ্রুত বিজয় যুদ্ধে নারীরা আত্মিক ও বস্তুগত সমর্থন দিয়েছেন। সন্তানদের জিহাদের ময়দানে পাঠিয়েছেন, ১০ বছর ধরে অটল থাকায়। তাদের দোয়া ও সমর্থন মুজাহিদদের শক্তি যুগিয়েছে। সোনা-গহনা বিক্রি করে অস্ত্র কেনা হয়েছে। গাজা সমর্থনে ইয়েমেনের নারীরা সরাসরি যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন।

মিডিয়া ফ্রন্টেও তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। আল-শরীফ বলেন, যে নারীরা আগে পর্দার আড়ালে ছিলেন, এখন টেলিভিশনের পর্দায় শত্রুর মুখোশ উন্মোচন করছেন। আমাদের নেতা সাইয়েদ আব্দুল মালিক বদরুদ্দিনের বাণী প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদপত্রে সক্রিয় তারা।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha