শনিবার ৫ এপ্রিল ২০২৫ - ১৭:১৭
কোন জিকির সবচেয়ে বেশি কার্যকর?

আল্লাহর পবিত্র সত্তার যিকিরের পর মৃত্যুর স্মরণের সমান প্রভাবশালী কোনো জিকির নেই!

হাওজা নিউজ এজেন্সি: আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলী এক বক্তৃতায় “মৃত্যুর স্মরণের গুরুত্ব ও তাকওয়া অর্জনে এর ভূমিকা” প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আপনারা প্রায়শই শুনে থাকবেন যে অনেক মানুষ জিকিরের সন্ধানে থাকে এবং জিজ্ঞেস করে—কোন জিকির আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করবে? প্রাচীন সুফি-আরেফ (আধ্যাত্মিক জ্ঞানী) মধ্যে একজন সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, 'আল্লাহর জিকিরের পর মৃত্যুর স্মরণ (জিকরুল মাউত) এর চেয়ে বেশি কার্যকর কোনো জিকির নেই।' 

তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'আমরা বহু স্থান পরিভ্রমণ করেছি, অসংখ্য আলেমের সান্নিধ্য পেয়েছি, অগণিত বক্তব্য শুনেছি ও বলেছি। কিন্তু আল্লাহর পবিত্র সত্তার জিকিরের পর মৃত্যুর স্মরণের সমান প্রভাবশালী কোনো জিকির পাইনি। আপনি আর কী খুঁজছেন?! মানুষের জন্য মৃত্যুর স্মরণই যথেষ্ট। এটি সমস্ত পার্থিব সুখ-ভোগ ধ্বংসকারী। আল্লাহর নিকটবর্তী হতে চাইলে মৃত্যুকে স্মরণ করুন।' 

এই মহান আরেফ তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন, “মৃত্যুর জিকির বা স্মরণ  হৃদয়ে তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) জন্ম দেয়। যে ব্যক্তি মৃত্যুর কথা স্মরণ করে, তার পক্ষে গুনাহ করা সহজ নয়। খালি হাতে ও লজ্জাজনক অবস্থায় (কবরে) যাওয়ার চিন্তা করলে স্বাভাবিকভাবে সে তাকওয়ার পথ বেছে নেয়।” 

[উৎস: ২৫ ফারভার্দিন, ১৩৮০ (ইরানি ক্যালেন্ডার) তারিখের জুমার খুতবা]

বক্ত্যবের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:

- মৃত্যুর স্মরণ (যিকরুল মাউত) আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। 

- এটি পার্থিব মোহ কেটে আধ্যাত্মিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে। 

- তাকওয়া অর্জনে মৃত্যুর চিন্তার ভূমিকা অপরিসীম। 

- ইসলামী দর্শনে মৃত্যুকে “দুনিয়াবী অসুখের (ভোগ-বিলাসিতা, প্রাচুর্য) ধ্বংসকারী” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha