শনিবার ২৩ আগস্ট ২০২৫ - ১২:২৩
কিয়ামতের দিন শাফায়াত থেকে বঞ্চিত পাঁচ শ্রেণি

ইসলামী শিক্ষায় শাফায়াত (সুপারিশ) এমন এক বাস্তবতা, যা কিয়ামতের দিন বহু মুমিনের জন্য মুক্তির হাতিয়ার হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: আল্লাহ্‌র অনুমতি ও ইচ্ছার অধীনে নবী-রাসূলগণ, আহলে বাইত (আ.) এবং কিছু সৎকর্মশীল বান্দা গুনাহগারদের জন্য সুপারিশ করবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—সবাই কি এই শাফায়াতের অংশীদার হতে পারবে? হাদীসের আলোকে দেখা যায়, কিছু শ্রেণি একেবারেই শাফায়াত থেকে বঞ্চিত হবে।

শাফায়াত থেকে বঞ্চিত পাঁচ শ্রেণি
হুজ্জাতুল ইসলাম নাসের রাফিয়ি’র বয়ান অনুযায়ী, কুরআন ও হাদীসে পাঁচ শ্রেণির মানুষকে স্পষ্টভাবে শাফায়াতের বাইরে ঘোষণা করা হয়েছে:

১. কাফেররা: এরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকারকারী। যেমন: আবু জাহল, আবু লাহাব।

কুরআন বলে: “إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ” (সূরা বাকারা, ১৬১)

২. মুশরিকরা: যারা আল্লাহর সাথে শরিক স্থাপন করে। হোক তা তিনজন, দুইজন বা এমনকি একজনকেও আল্লাহর সমকক্ষ বানানো।

কুরআন বলছে: “إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ” (সূরা নিসা, ৪৮) – “আল্লাহ্‌ শিরককে ক্ষমা করবেন না।”
 

৩. মুনাফিকরা: দ্বিমুখী মানুষ—বাহ্যিকভাবে ঈমানের দাবি করে, অন্তরে কুফর লালন করে।

ইসলাম নেফাককে কুফরের থেকেও নিকৃষ্ট বলেছে। কুরআনে বলা হয়েছে: “إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ” (সূরা নিসা, ১৪৫) – “নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সবচেয়ে নিচুতম স্তরে থাকবে।”

৪. শাফায়াত অস্বীকারকারীরা: যারা বিশ্বাসই করে না যে শাফায়াত একটি সত্য ও কিয়ামতের দিনে কার্যকর বিষয়।

যেহেতু তারা শাফায়াতকে অস্বীকার করেছে, তাই আল্লাহ তাদের এর কোনো অংশীদার বানাবেন না।

৫. নামাজকে হালকা জ্ঞানকারীরা: নামাজ ইসলামের স্তম্ভ। অথচ যারা এটিকে অবহেলা করে, গুরুত্ব দেয় না, কিংবা জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে না, তাদের জন্য হুঁশিয়ারি এসেছে।

এ অবহেলা হতে পারে: নামাজ দেরি করে পড়া। খেলা, সিনেমা, খাবার, বিশ্রামকে নামাজের চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া। ফজরের নামাজ সূর্যোদয়ের সময় পড়া। মাগরিব প্রায় সূর্যাস্তের প্রান্তে পড়া।

শেষ উপদেশ রেওয়ায়েতে আছে—ইমাম সাদিক (আ.) মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। পরিবারের সবাই তাঁকে ঘিরে বসেছিল, সবাই ভেবেছিল ইমাম কোনো বিশেষ রহস্যময় বাণী দেবেন। কিন্তু তাঁর শেষ উপদেশ ছিল:

“আমাদের শাফায়াত কখনো তার কাছে পৌঁছাবে না, যে নামাজকে হালকা জ্ঞান করে।”

এই বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয়—শাফায়াত কোনো অযৌক্তিক আশ্বাস নয়। বরং এটি সেই মুমিনদের জন্য, যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, শিরক থেকে বাঁচে, অন্তরে ও বাইরে ঈমানের পরিচয় দেয়, শাফায়াতকে বিশ্বাস করে এবং নামাজকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু বানায়। অন্যদিকে, যারা উপরোক্ত পাঁচ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, তারা চিরতরে এই মহৎ নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হবে।

তাই আমাদের উচিত—নামাজে যত্নবান হওয়া, শিরক ও নিফাক থেকে দূরে থাকা এবং শাফায়াতকে সত্য হিসেবে মানা, যাতে কিয়ামতের দিনে প্রিয় নবী (সা.) ও আহলে বাইত (আ.)-এর শাফায়াতের যোগ্য হতে পারি।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha