হাওজা নিউজ এজেন্সি: হুজ্জতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ড. নাসের রাফিয়ি পবিত্র নবী করিম (সা.)-এর ইন্তেকাল ও ইমাম হাসান মুজতবা (আ.)-এর শাহাদাত উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বলেন, ইমাম হাসান (আ.)-এর শান্তিচুক্তি ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল অধ্যায়। এই সংবেদনশীল পর্বে ইসলামী উম্মাহর গতিপথ বদলে যায় এবং শাসনকার্যের ধারা আহলে বাইত (আ.)-এর হাত থেকে সরে যায়।
তিনি আরও বলেন, নবী করিম (সা.)-এর ইন্তেকালের পর টানা ২৫ বছর খলিফারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। এ সময় আহলে বাইত (আ.) কার্যত সমাজের নেতৃত্ব থেকে দূরে রাখা হয়। তবে তৃতীয় খলিফার হত্যার পর মানুষ আমীরুল মুমিনীন আলী (আ.)-এর দিকে ধাবিত হয়ে তাঁর নিকট শাসনভার গ্রহণের অনুরোধ জানায়।
ড. রাফিয়ি যোগ করেন, আমীরুল মুমিনীন আলী (আ.)-এর শাহাদাতের পর ইমাম হাসান মুজতবা (আ.) উম্মাহর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রায় সাত মাস শাসনভার পালন করেন। কিন্তু তৎকালীন সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁকে এমন অবস্থায় নিয়ে আসে, যেখানে মুআবিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি ছাড়া বিকল্প ছিল না।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, অন্তত চারটি প্রধান কারণ ইমাম হাসান (আ.)-কে শান্তিচুক্তিতে যেতে বাধ্য করেছিল—
১. ইমাম (আ.)-এর বাহিনী ও নিকট সহচরদের মধ্যে শত্রুর অনুপ্রবেশ;
২. সেনাদের স্খলন, দুর্বলতা ও অবিশ্বাস;
৩. সাধারণ মানুষের দুনিয়ালোভ; এবং
৪. প্রভাবশালী মহলের (খাওয়াস) নীরবতা।
তিনি বলেন, যদি প্রভাবশালী মহল ইমাম হাসান (আ.)-এর পাশে দাঁড়াত, তবে শান্তির প্রয়োজন পড়ত না; কিন্তু উমাইয়া প্রচারণা ও প্রলোভনের প্রভাবে তারা নীরব থাকে।
পরিশেষে ড. রাফিয়ি উল্লেখ করেন, ওই পরিস্থিতিতে ইমাম হাসান মুজতবা (আ.) দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞার নিদর্শন রেখে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা পরবর্তীতে কারবালার বিপ্লব ও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মহৎ জিহাদের ভূমি প্রস্তুত করে।
আপনার কমেন্ট