বৃহস্পতিবার ২৮ আগস্ট ২০২৫ - ০৮:১৯
ইসলাম সত্যিকারের সুখের দিশা দেয়, দুঃখের নয়

সমাজে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো—ধর্মীয় জীবন মানেই দুঃখ-কষ্ট ও কঠোরতা। অথচ ইসলাম আনন্দকে ঈমানদারের অন্যতম গুণ হিসেবে দেখে এবং মানুষের জন্য সত্যিকারের ও স্থায়ী সুখের পথ দেখায়। এমন মন্তব্য করেছেন হুজ্জাতুল ইসলাম মোহাম্মদ জারিফি, যিনি একজন ধর্মীয় মনোবিজ্ঞানী।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন: “অনেকেই মনে করেন ধার্মিক মানুষ সবসময়ই বিষণ্ণ থাকে এবং সুখী হতে হলে ধর্ম থেকে দূরে থাকতে হয়। কিন্তু এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। ইসলামের মৌলিক শিক্ষায় স্পষ্ট বলা হয়েছে—ইসলাম কখনো সুখের বিরোধিতা করে না; বরং সুখকে আধ্যাত্মিক প্রয়োজনীয়তা ও একটি মূল্যবান গুণ হিসেবে গণ্য করে।”

ইসলামের দৃষ্টিতে সুখ
কুরআন থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে জারিফি বলেন, প্রকৃত শান্তি ও আনন্দ আল্লাহর স্মরণ থেকেই আসে:
“জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।” (কুরআন ১৩:২৮)

তিনি আরও বলেন, ঈমান ও সৎকর্মের সমন্বয়ে আল্লাহ মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন “হায়াত তাইয়্যেবা” বা পবিত্র জীবন—যা সন্তুষ্টি, প্রশান্তি ও প্রকৃত আনন্দে ভরপুর (কুরআন ১৬:৯৭)।

তিনি কুরআনের আরেকটি আয়াতও উল্লেখ করেন:
“বলুন: আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ার মধ্যে তারা আনন্দ করুক; এটি তাদের সংগৃহীত সবকিছুর চেয়ে উত্তম।” (কুরআন ১০:৫৮)

নবী (সা.) ও আহলে বাইতের জীবন থেকে শিক্ষা
জনাব জারিফির মতে, মহানবী (সা.) ও আহলে বাইতের জীবনই আনন্দময় ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের সেরা উদাহরণ। তিনি বলেন: “রাসুল (সা.) সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন এবং শিক্ষা দিতেন যে ধর্ম হলো সহজতার নাম। ইমাম আলী (আ.) বলেছেন—একজন মুমিনের মুখে থাকে হাসি, আর তার দুঃখ থাকে অন্তরে।”

তিনি আরও যোগ করেন, ইসলামী শিক্ষায় ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে ইবাদত, কাজ, সামাজিকতা ও বৈধ বিনোদন।

ভুল ধারণার কারণ
ধর্মকে দুঃখের প্রতীক মনে করার পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরেন জারিফি:

ধর্মকে অসম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন, যেখানে আশার চেয়ে ভয়-ভীতির ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়।

আধ্যাত্মিক অনুশোচনা বা বেদনাকে হতাশার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা, অথচ তা মানুষকে সৎকর্মে অনুপ্রাণিত করার জন্য।

কিছু ধর্মীয় ব্যক্তির আচরণ, যা গম্ভীর ও নিরানন্দ চিত্র তৈরি করে।

গণমাধ্যমে সুখকে কেবল ভোগবাদে সীমিত রাখা এবং ধার্মিকদের কঠোর বা দুঃখী হিসেবে উপস্থাপন।

প্রকৃত সুখ প্রচারের উপায়
ভুল ধারণা দূর করতে তিনি কয়েকটি করণীয় বিষয় তুলে ধরেন:

ধর্মকে গভীর ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে বোঝা।

নবী (সা.) ও আহলে বাইতের প্রাণোচ্ছল জীবনকে অনুসরণ করা।

শোকানুষ্ঠানের পাশাপাশি আনন্দঘন ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রচলন করা।

সদাচার, মর্যাদা ও প্রফুল্ল আচরণের মাধ্যমে বিশ্বাসের আকর্ষণীয় চিত্র তুলে ধরা।

শেষে তিনি বলেন, “ইসলাম শুধু সুখকে স্বীকৃতি দেয় তাই নয়; বরং প্রকৃত ও স্থায়ী সুখের একমাত্র পথ দেখায়।”

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha