হাওজা নিউজ এজেন্সি: হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ আলী হোসেইনি বলেন, এমনকি প্রবাহমান নদীর ধারে ওযু করার সময়ও নবী করীম (সা.) অযথা পানি নষ্ট করতে নিষেধ করেছেন। তিনি কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন:
“তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ—যারা আল্লাহ ও পরকালের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।” (কুরআন ৩৩:২১)
প্রকৃতি ও সবুজ আচ্ছাদনের গুরুত্ব
জনাব হোসেইনি বলেন, নবীজীর (সা.) সুন্নাহতে পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্পষ্ট নীতিমালা পাওয়া যায়। তিনি উদ্ধৃত করেন: “পৃথিবীর সবুজ আচ্ছাদন অসাধারণ মূল্যবান। এটি না থাকলে পৃথিবী হয়ে উঠত প্রাণহীন কবরস্থান।”
তিনি যোগ করেন, নবীজী (সা.) বৃক্ষরোপণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে মুসলমানদের গাছ লাগাতে ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেছেন।
যুদ্ধকালীন শিক্ষা
আলেম আরও বলেন, নবী করীম (সা.)-এর পরিবেশ সুরক্ষাবিষয়ক শিক্ষা শুধু শান্তিকালেই নয়, যুদ্ধকালেও প্রযোজ্য।
তিনি বলেন, “রাসুল (সা.) মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছিলেন—বৃদ্ধ, শিশু ও নারীকে হত্যা করা যাবে না। গাছ কাটা যাবে না, ক্ষেত-খামারে আগুন দেওয়া যাবে না, খেজুরবাগান ধ্বংস করা যাবে না এবং জমিতে বিষ ছড়ানো যাবে না।”
পানির অপচয় রোধ
হোসেইনি নবীজীর (সা.) পানির অপচয় রোধে কঠোর সতর্কবার্তার কথা স্মরণ করান। এক ঘটনায় তিনি বলেন, “সাহাবি সা’দ (রা.) ওযু শুরু করলে নবীজী (সা.) বললেন,—‘সা’দ! পানির অপচয় কোরো না, এমনকি প্রবাহমান নদীর ধারে দাঁড়িয়েও।’”
তিনি জানান, পানির অপচয় ও পরিবেশ দূষণ এড়িয়ে চলার বিষয়ে অসংখ্য হাদিস রয়েছে।
বর্তমান সংকটের সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা
আধুনিক জলসংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে পানির প্রধান সমস্যা হলো অযথা অপচয়। গৃহস্থালি থেকে শুরু করে কৃষিক্ষেত্রে আমরা পানির ব্যবহার সঠিকভাবে করছি না। বিশেষ করে ডোবা-সেচ পদ্ধতি পানির মারাত্মক অপচয়ের কারণ।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি আমরা নবীজীর (সা.) শিক্ষা মেনে পানি ব্যবহার করি, তাহলে পানির ঘাটতির সমস্যা অনেকটাই দূর হবে, এমনকি সম্পূর্ণ সমাধানও হতে পারে।”
আপনার কমেন্ট