হাওজা নিউজ এজেন্সি: আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আয়াতুল্লাহ আ’রাফি নবী করিম হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকীর ১৫০০তম বছরপূর্তি এবং মালয়েশিয়ার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম উম্মাহর পক্ষে, বিশেষত ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণ ও গাজার জন্য আনোয়ার ইব্রাহিমের সাহসী অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আয়াতুল্লাহ আ’রাফি মালয়েশিয়ার সরকার ও জনগণের ইরানের প্রতি সমর্থন, বিশেষত সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ইরানের জনগণ, সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ শক্তি ও দৃঢ়তায় যেকোনো আগ্রাসনের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।” এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, দখলদার জায়নিস্ট শাসন শুধু ফিলিস্তিন নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য বড় হুমকি; তাই এ আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সব মুসলমানের দায়িত্ব।
তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের কৌশলকে “উম্মাহকেন্দ্রিক ও মাজহাব-অতিক্রমী” আখ্যা দিয়ে বলেন, ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরান আফগানিস্তান, বসনিয়া ও ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের মাজহাব বা সম্প্রদায়িক পরিচয় অতিক্রম করে। সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতি ও কষ্ট থাকা সত্ত্বেও এই যুদ্ধ মূল্যবান অভিজ্ঞতা ও সুযোগ এনে দিয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী জাতীয় ঐক্য, জনগণ ও সরকারের সংহতি—এটাই এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
বৈঠকে আয়াতুল্লাহ আ’রাফি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতি এবং হাওযা ইলমিয়ার অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি ইরান ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রস্তুতির কথা জানান।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম দুই দেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পক্ষে মত দেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, মালয়েশিয়ার সরকার ও জনগণ সবসময় ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের, বিশেষত গাজার পাশে রয়েছে।
আপনার কমেন্ট