হাওজা নিউজ এজেন্সি: এই কৌতুহল ও প্রশ্নের উত্তরের জন্য হজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন রেজাপুর ইসমাইলের সঙ্গে আলোচনার সারাংশ তুলে ধরছি:
প্রশ্ন: কেন কোরআনের সব গল্পের মধ্যে সূরা ইউসুফকে ‘আহসানুল কাসাস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তর (হজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন রেজাপুর ইসমাইল): বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। কোরআনে হযরত ইউসুফের গল্পকে “আহসানুল কাসাস” বলা হয়েছে। এটি সূরা ইউসুফের তৃতীয় আয়াতে উল্লেখ রয়েছে। তাফসীরকারীরা এই আয়াতের প্রেক্ষিতে গভীর ও বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
গল্পটির শ্রেষ্ঠত্ব বোঝার জন্য প্রথমে কোরআনের গল্প বলার উদ্দেশ্যকে বুঝতে হবে। কোরআনের লক্ষ্য কেবল গল্প বলা বা ইতিহাস বর্ণনা নয়; কোরআন হেদায়েতের বই। তাই গল্পগুলোও মূলত মানবকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে পথপ্রদর্শন করার জন্য বর্ণিত হয়েছে।
অতএব, ‘আহসানুল কাসাস’ সেই গল্পকে বলা হয় যা কোরআনের উদ্দেশ্য—মানবকে হেদায়েত করা—সর্বাধিক পূরণ করে।
সূরা ইউসুফের বিশেষ বৈশিষ্ট্য
১. সমন্বিত কাঠামো: সূরা ইউসুফে পুরো জীবনের ঘটনা এক সূরায় সুসংহতভাবে উপস্থাপিত। এতে গল্পের শুরু, মধ্য ও সমাপ্তি স্পষ্ট এবং গল্পটি সুন্দর ও প্রাঞ্জল। অন্য গল্প যেমন বনী-ইস্রায়েলের কাহিনী অনেক সূরায় ছড়িয়ে আছে।
২. বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য ও সংঘাত: গল্পে বিপরীততা ও সংঘাত লক্ষ্য করা যায়, যা নৈতিক শিক্ষা দেয়। যেমন:
কূপ থেকে সিংহাসন: শিশুকালেই কূপে ফেলা থেকে মিশরের ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হওয়া।
বিচ্ছেদ ও মিলন: দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর মিলন।
পাপ থেকে ক্ষমা: ভাইদের প্রতারণা বনাম হযরত ইউসুফের মহান ক্ষমা।
আবেগ থেকে সতীত্ব ও তওবা: জুলেখার প্রলোভন ও পরবর্তী তওবা।
অজ্ঞতা থেকে জ্ঞান: স্বপ্নের ব্যাখ্যা ও স্রষ্টার জ্ঞান।
এই বিপরীততা গল্পটিকে আকর্ষণীয় করে তোলে এবং কোরআনের শিক্ষামূলক উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক।
৩. নায়কের অনুকরণীয় চরিত্র
ইউসুফ (আ.) ধৈর্য, তকওয়া, বুদ্ধিমত্তা ও নৈতিকতার নিখুঁত উদাহরণ। সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি অহংকার বা অন্যায়ে লিপ্ত হননি। কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহকে ভুলেননি। তার ক্ষমতা তাকে নষ্ট করতে পারেনি; বরং তিনি তা ব্যবহার করে মহান নৈতিকতা ও ক্ষমাশীলতার উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
৪. নৈতিক ও শিক্ষামূলক বার্তা
▫️ধৈর্য ও তকওয়ার চূড়ান্ত বিজয়।
▫️নিরাশার মধ্যে আশা ও আল্লাহর করুণার আলো।
▫️ক্ষমা ও উদারতা।
▫️সঙ্কট ও দুর্যোগে বুদ্ধি ও কার্যকর নেতৃত্ব।
▫️স্রষ্টার নৈতিক ও বিচক্ষণ পরিকল্পনার শাসন।
সূরা ইউসুফকে ‘আহসানুল কাসাস’ বলা হয়েছে কারণ এতে রয়েছে সমন্বিত কাঠামো, বিস্তৃত বিষয়বস্তু, নিখুঁত চরিত্রায়ণ এবং শিক্ষণীয় নৈতিক বার্তা।
গল্পটি পাঠককে নৈতিক উৎকর্ষ, মানবিক গুণাবলী ও আধ্যাত্মিক উন্নতির দিকে প্রেরণা দেয়। এটি কোরআনের মূল উদ্দেশ্য—মানবকে হেদায়েত করা—সফলভাবে পূরণ করে।
আপনার কমেন্ট