শনিবার ৩ জানুয়ারী ২০২৬ - ০৮:৪৩
ইরানিদের প্রতি শহীদ কাসেম সোলাইমানির সর্বোচ্চ উপদেশ ছিল ‘বেলায়েত-এ ফকিহ’র সুরক্ষা

হাওজায়ে ইলমিয়া (ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে— ইরানের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাজ্জ কাসেম সোলাইমানির সর্ববৃহৎ উপদেশ ছিল বেলায়েত-এ ফকিহ-এর অবস্থান ও নেতৃত্বকে রক্ষা করা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হাজ্জ কাসেম অত্যন্ত প্রজ্ঞার সঙ্গে উপলব্ধি করেছিলেন যে ইসলামি ইরানের স্থায়িত্ব ও মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা সময়ের ওয়ালি-এ ফকিহের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাজ্জ কাসেম সোলাইমানির শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে হাওজায়ে ইলমিয়া ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ পাঠ নিম্নে তুলে ধরা হলো—

বিসমিল্লাহির র’হমানির র’হিম

 مِنَ الْمُؤْمِنِینَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَیْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَی نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ یَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِیلاً

“মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছেন। তাদের কেউ শাহাদাত বরণ করেছেন, আর কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছেন; তারা তাদের অঙ্গীকারে কখনো পরিবর্তন আনেননি।” (সূরা আল-আহযাব: ২৩)

১৩ই দেই (৩ জানুয়ারি) হলো বেলায়েত ও ইসলামি উম্মাহর নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক, শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাজ্জ কাসেম সোলাইমানির পবিত্র শাহাদাত দিবস— যা বিশ্ব প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পরিচিত এবং বৈশ্বিক আধিপত্যবাদ ও ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে আলাভি আত্মমর্যাদা ও ইসলামি মর্যাদার প্রতীক।

শহীদ সোলাইমানি কেবল একজন প্রতিভাবান সামরিক কমান্ডারই ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন এক জীবন্ত ও গতিশীল ‘মক্তব’ (আদর্শিক ধারা)— যা বিশ্বের সকল সত্যসন্ধানী মানুষের জন্য স্বাধীনতা, আধ্যাত্মিকতা ও নিষ্ঠার শিক্ষার উৎস হয়ে উঠেছে।

হাওজায়ে ইলমিয়া ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, এই মহান শহীদ ও তাঁর বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা শহীদ আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের উচ্চ মর্যাদার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে, তাঁদের শাহাদাতবার্ষিকীতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করছে—

১. ইসলামি সভ্যতার আদর্শ মানব
হাজ্জ কাসেম সোলাইমানি গভীর ঈমান, সুদূরপ্রসারী সামরিক প্রজ্ঞা এবং আধ্যাত্মিক নৈতিকতার সমন্বয়ে বিপ্লবের দুই ইমামের মক্তবে গড়ে ওঠা এক অনন্য আদর্শ মানুষ ছিলেন। তিনি প্রমাণ করে গেছেন— কর্মক্ষেত্র ও ইবাদতের নির্জনতার মধ্যে এক অবিচ্ছিন্ন ও গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।

২. প্রতিরোধের কূটনীতি ও উম্মাহর ঐক্য
ইসলামি বিশ্বের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধির মাধ্যমে তিনি ভূমধ্যসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ফ্রন্ট গড়ে তুলতে সক্ষম হন। দায়েশ তথা আইএস নামক ক্যান্সারসদৃশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে পরাজিত করে তিনি কেবল অঞ্চল নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

৩. বেলায়েতের প্রতি অবিচল আনুগত্য
(ইরানের) হাওজায়ে ইলমিয়ার শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ইরানের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি শহীদ সোলাইমানির সর্ববৃহৎ উপদেশ ছিল— বেলায়োত-এ ফকিহ-এর তাঁবু ও নেতৃত্বের সুরক্ষা।

তিনি গভীর প্রজ্ঞায় উপলব্ধি করেছিলেন যে ইসলামি ইরানের অস্তিত্ব ও মুসলমানদের সম্মান সময়ের ওয়ালি-এ ফকিহের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

৪. কঠোর প্রতিশোধের পথের ধারাবাহিকতা
যদিও তাঁর শাহাদাত এক গভীর বেদনা ও শোকের অধ্যায় সৃষ্টি করেছে, তবুও তাঁর পবিত্র রক্ত প্রতিরোধ আন্দোলনের দেহে নতুন প্রাণ ও উদ্দীপনা সঞ্চার করেছে।

হাওজায়ে ইলমিয়া ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ঘোষণা করছে— প্রকৃত প্রতিশোধ হলো অঞ্চল থেকে আমেরিকার সম্পূর্ণ বহিষ্কার এবং পবিত্র কুদসের মুক্তি, যা আল্লাহর অনুগ্রহে নিকট ভবিষ্যতেই বাস্তবায়িত হবে।

আজ হাওজায়ে ইলমিয়ার দায়িত্ব হলো— ‘মক্তবে সোলাইমানি’-কে একটি কার্যকর ও অনুসরণযোগ্য আদর্শ হিসেবে শিক্ষাগত, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাখ্যা ও প্রচার করা এবং তরুণ প্রজন্মকে সেই মহান শহীদের আদর্শ ও চিন্তার সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত করানো।

হাওজায়ে ইলমিয়া ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র
তারিখ: ১৩/১০/১৪০৪ ইরানি বর্ষপঞ্জি (৩রা জানুয়ারী, ২০২৬)

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha