হাওজা নিউজ এজেন্সি: মজলিসে বক্তব্য করেন হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা হাশেম আব্বাস সাহেব, যিনি উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে হযরত জয়নাব (সা.আ.)-এর জীবনী, তাঁর অবদান এবং কারবালার পরবর্তী সময়ের নেতৃত্বমূলক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
মাওলানা হাশেম আব্বাস বলেন, “হযরত জয়নাব (সা.আ.) শুধু কারবালার চরম বিপর্যয় থেকে পরিবারকে রক্ষা করেননি, তিনি ইসলামের চিরন্তন বার্তা ও ন্যায়ের পথে মানুষের চোখ খুলেছেন। তাঁর দৃঢ়তা, ধৈর্য ও বজ্রকণ্ঠ ভাষণ আমাদের জন্য সত্য ও ন্যায়ের পথে স্থির থাকার অনুপ্রেরণা।”
মজলিসে দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে হযরত জয়নাব (সা.আ.)-এর আত্মত্যাগের স্মরণ করা হয়।
হযরত জয়নাব (সা.আ.) হিজরি ৫ বা ৬ সালের ৫ই জমাদিউল উলা, মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী (আ.) এবং মাতা হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)। তাঁর স্বামী ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর। তাঁদের তিন পুত্র—আলী, আউন ও জাফর এবং এক কন্যা—উম্মে কুলসুম।
হযরত জয়নাব (সা.আ.) ছিলেন অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, স্মৃতিশক্তি ও ধৈর্যের অধিকারিণী। তিনি শৈশবকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি শিক্ষা ও ভাষণ মুখস্থ করতে পারতেন। কারবালা পরবর্তী বন্দিত্বের সময়ও তাঁর বজ্রকণ্ঠ ভাষণ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব কারবালার চিরন্তন বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেয়।
কারবালার ঘটনার পর হযরত জয়নাব (সা.আ.) প্রায় এক বছর ছয় মাস জীবিত ছিলেন। কুফা ও শামে বন্দিত্বকালে তিনি ও ইমাম সাজ্জাদ (আ.) যৌথভাবে কারবালার বন্দিদের নেতৃত্ব দেন। শামের দরবারে তাঁর ভাষণ ইয়াজিদের বিজয়োৎসবকে শোক ও লজ্জায় রূপান্তরিত করেছিল।
মাওলানা হাশেম আব্বাস এ প্রসঙ্গে বলেন, “হযরত জয়নাব (সা.আ.)-এর গৌরব শুধু নিজের বাঁচার জন্য নয়, বরং তিনি বন্দিত্বের মধ্য দিয়ে ইসলামের চিরন্তন বার্তা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এটি আমাদের জন্য সাহস ও ধৈর্যের এক অনুপ্রেরণা।”
হযরত জয়নাব (সা.আ.)-এর ইন্তেকাল সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। প্রসিদ্ধ মতানুসারে তিনি হিজরি ৬২ সালের ১৫ রজব, রবিবার ইন্তেকাল করেন।
আপনার কমেন্ট