সোমবার ৫ জানুয়ারী ২০২৬ - ২৩:৫০
হযরত জয়নাব (সা.আ.) ছিলেন নারী সমাজে আলাভি জ্ঞানের প্রচারক

ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমে অবস্থিত হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা.আ.)-এর পবিত্র মাজার শরীফে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বক্তা হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মোহাম্মদ জাওয়াদ হাজ আলী আকবরি বলেন, হযরত জয়নাব সালামুল্লাহি আলাইহা তাঁর সম্মানিত পিতা আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.)-এর সান্নিধ্যে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন নারী সমাজে আলাভি জ্ঞানের বরকত পৌঁছে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: তেহরানের জুমার ইমাম ও হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মোহাম্মদ জাওয়াদ হাজ আলী আকবরি হযরত জয়নাবে কুবরা (সা.আ.)-এর ওফাত উপলক্ষে আয়োজিত এক জ্ঞানগর্ভ সমাবেশে এই বক্তব্য প্রদান করেন।

তিনি বলেন, যখন আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.) ও হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.) সদ্য জন্ম নেওয়া কন্যা হযরত জয়নাব (সা.আ.)-এর মুখমণ্ডল দর্শন করেন, তখন থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে সিদ্দিকায়ে তাহেরা (সা.আ.)-এর কোলে এমন এক মহীয়সী নারী লালিত-পালিত হচ্ছেন, যিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবেন এবং ভবিষ্যতে ইসলামের স্থায়িত্ব ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত জয়নাব (সা.আ.)-এর প্রতি বিশেষ স্নেহ ও গুরুত্ব প্রদর্শন করতেন এবং শুরু থেকেই সবাইকে তাঁর মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার নির্দেশ দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হযরত জয়নাব (সা.আ.) মর্যাদার দিক থেকে হযরত খাদিজা (সা.আ.)-এর ন্যায়।

তেহরানের জুমার ইমাম বলেন, হযরত জয়নাব (সা.আ.) প্রায় ছয় বছর রাসুলুল্লাহ (সা.) ও হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর বিশেষ সান্নিধ্য ও তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তিনি আমিরুল মুমিনিন (আ.)-এর অনন্য ও বিশেষ তারবিয়াতপূর্ণ পরিবেশে প্রবেশ করেন। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন আল্লাহর দুই মহান হুজ্জাত—ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.)। ফলে জ্ঞান, মারেফত ও ঐশী শিক্ষার দ্বার তাঁর জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং তাঁর অসাধারণ মেধা ও আত্মিক যোগ্যতার কারণে তিনি অল্প সময়েই উচ্চতর আত্মিক স্তরে উপনীত হন।

হুজ্জাতুল ইসলাম হাজ আলী আকবরি বলেন, হযরত জয়নাব (সা.আ.)-এর অন্তরে সাহসিকতা ও আত্মিক দৃঢ়তা দিন দিন আরও গভীর হচ্ছিল। কঠিন ও সংকটময় সময়ে তিনি আমিরুল মুমিনিন (আ.)-এর জন্য ছিলেন এক বিশ্বস্ত সহচর, গর্ব ও মর্যাদার প্রতীক। একই সঙ্গে তিনি নারীদের সমাজে আলাভি জ্ঞানের আলো পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, নারীদের সমাজে হযরত জয়নাব (সা.আ.)-এর বলিষ্ঠ ও প্রাঞ্জল ভাষা ছিল ঐশী জ্ঞানের সঙ্গে এক দৃঢ় সেতুবন্ধন, যা তাঁর পিতার জন্য ছিল গর্বের কারণ এবং আহলে বাইতের জন্য এক আনন্দ ও আশার উৎস।

বক্তা বলেন, আত্মিক ফয়েজ ও ঐশী জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে হযরত জয়নাব (সা.আ.) কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলেন না; বরং তিনি আল্লাহপ্রদত্ত বিশেষ আত্মিক সক্ষমতা ও যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন।

তিনি উপসংহারে বলেন, জীবনের সকল কঠিন ও বেদনাদায়ক মুহূর্তে হযরত জয়নাব (সা.আ.) তাঁর পিতার পাশে ছিলেন এবং কখনোই তাঁকে একা ছেড়ে দেননি। বিভিন্ন কঠোর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও দৃঢ়তার শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং সেই শিক্ষাকে নিজের জীবনে পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করেন।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha