সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ২১:৫২
ইমাম আলী (আ.)-এর পবিত্র রওজায় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী; ১৪ দেশের ৬০ জন শিল্পীর অংশগ্রহণ

হাওজা / ইরাকের নাজাফ আশরাফে অবস্থিত ইমাম আলী (আ.)-এর পবিত্র রওজায় “ইন্তেজার-এ-ফারাজের দর্শন” শিরোনামে আন্তর্জাতিক ভিজ্যুয়াল আর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিশ্বের ১৪টি দেশের ৬০ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করেছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, নাজাফ আশরাফে অবস্থিত পবিত্র রওজায় আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক ভিজ্যুয়াল আর্ট প্রদর্শনীতে চিত্রকলা, সমকালীন ও ধ্রুপদী স্কেচ, ডিজিটাল আর্ট এবং দুর্লভ ক্যালিগ্রাফিক পাণ্ডুলিপিসহ নানা ধরনের শিল্পকর্ম উপস্থাপন করা হয়েছে। 
প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে ঐক্যকে তুলে ধরা এবং ইমাম মাহদী (আ.)-এর আবির্ভাবের অপেক্ষার ধারণা বিষয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা।
ইমাম হাসান (আ.)-এর বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক সাইয়্যেদ কাজিম আল-খুরাসান এই প্রদর্শনীকে সীমান্ত অতিক্রমকারী ঐক্যের বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, “ইন্তেজার-এ-ফারাজ”কে একটি অভিন্ন আধ্যাত্মিক ও মানবিক মূল্যবোধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন জাতি ও সমাজের মধ্যে চিন্তাগত ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রত্নতত্ত্ব ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ইউনিটের প্রধান ড. আব্দুলহাদি আল-ইবরাহিমি সভ্যতাসমূহের মধ্যে সংলাপ জোরদারে শিল্পের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ধর্ম শিল্পীদের গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ের দিকে পথনির্দেশনা দেয়। 
তিনি এ অনুষ্ঠানকে ইসলামী শিল্পের একটি বৈশ্বিক পরিচিতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে বিস্তৃত করে।
“কাফ” আর্ট অ্যান্ড মিডিয়া ফাউন্ডেশনের প্রধানও তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেন, বিভিন্ন দেশ ও ধর্মের শিল্পীরা নিজ নিজ দেশের সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। 
চীন ও ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশের শিল্পীরা প্রথমবারের মতো ইরাক ও নাজাফ আশরাফে এসেছেন, যা এই প্রদর্শনীর বৈশ্বিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিস্তৃতি নির্দেশ করে।
এই আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচি শুধু চারুকলার প্রদর্শনী নয়; বরং ইমাম মাহদী (আ.)-এর অপেক্ষার বৈশ্বিক ও মানবিক বার্তা তুলে ধরার একটি কার্যকর প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha