হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, "ইরাকের অর্থসম্পদ (assets) মাযুরার নিয়ন্ত্রণে/ইরানের ওপর ভূরাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার/তেহরানের কাছে বাগদাদের ঋণের বোঝা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেল (পেট্রোলিয়াম) বিক্রি থেকে ইরাকের লব্ধ আয়ের ওপর মাযুরার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।"
এতদসংক্রান্ত কিছু কথা:
২০০৩ সাল থেকে এ (২০২৬ সাল) পর্যন্ত তেল বিক্রি লব্ধ আয়ের ওপর ইরাকের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং তা ইরাকের হাতেও নেই।ইরাকের তেল বিক্রি হয় ডলারে এবং ইরাকের তেল বিক্রি লব্ধ আয় (পেট্রোডলার) সরাসরি জমা হয় মাযুরার ফেডারেল রিজার্ভের ব্যাংক একাউন্টে। এরপর মাযুরা প্রয়োজন মাফিক ডলার ইরাককে প্রদান করে।এর মানে হলো নিজের টাকা ও অর্থ সম্পদ ইরাক স্বাধীন ভাবে ব্যবহার করতে পারে না।এ কেমন ইরাকের সার্বভৌমত্ব?!!!
ইরাকের অর্থসম্পদ মাযুরার নিয়ন্ত্রণে
মাযুরার আক্রমণ ও জবর দখলের কারণে সাদ্দামের পতনের পর ইরাকের অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরাকের বিদ্যুৎ খাতও এর ব্যতিক্রম নয়। ইরান সাদ্দামের পতনের পর ইরাকের জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করছে।কারণ ইরাকের সার্বিক গ্যাস ও বৈদ্যুতিক কাঠামো নষ্ট হয়ে গেছে।
একারণেই ইরান ইরাকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ করছে ২০০৩ সালে থেকেই। কিন্তু ইরাক গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল সরাসরি পরিশোধ করতে পারে না দুটো কারণে ১. ইরানের ওপর মাযুরা আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং ২. ইরাকের একমাত্র রপ্তানি পণ্য অর্থাৎ জ্বালানি তেল বিক্রি লব্ধ আয় সম্পূর্ণ মাযুরার নিয়ন্ত্রণে।
তাই ইরানের গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধের প্রসঙ্গ এলেই মাযুরা বাঁধ সাধে এবং বিল পরিশোধ বাবদ অর্থ প্রদান করে না এবং ইরাক সরকারের যে কোনো সংস্থা বা কোম্পানি উক্ত বিলের কিছু অংশ প্রদান করতে গেলেই মাযুরার নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়। তাই ইরাক সরকার বাধ্য হয়ে অতি জটিল, দীর্ঘ মেয়াদী ও অপ্রত্যক্ষ পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ায় ইরানের বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হয় এবং এতে পরিশোধ প্রক্রিয়া ও অর্থের ট্রান্সফার হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে এবং এ কারণে বকেয়া বিলের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে বিধায় ইরানের কাছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস কেন্দ্রিক ইরাকের ঋণ দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছে।
দেখুন,যে মাযুরা ইরাকের তেল রফতানি লব্ধ আয়ের সিংহভাগ ভোগ করছে সেই মাযুরা মাদুরোকে অন্যায় ভাবে বেআইনি সন্ত্রাসী কায়দায় আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ভঙ্গ ও পদদলিত করে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে অপহরণ করেছে এবং এখন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ দখল ও গলাধঃকরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে যা থেকে প্রতীয়মান হয়েছে যে মাযুরা হচ্ছে বিশ্ব লুটেরা। আর ইরানের তেল ও অন্য সকল সম্পদ ভোগ দখল ও লুট করার জন্য ইরান দখলের সর্বাত্মক চেষ্টা ও পাঁয়তারা করছে মাযুরা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্পদ লুটপাট করার পরও মাযুরার ডলারের মূল্যমান তথা ডলার সাম্রাজ্যের পতন অর্থাৎ মাযুরার অর্থনীতির পতন অত্যাসন্ন যে ব্যাপারে ইতিমধ্যে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এ শিরোনামে:
"পিটার শিফের (Peter Schiff) হুঁশিয়ারি: ডলারের (মূল্যমানের) আসন্ন পতন এবং স্বর্ণ-রৌপ্যের মূল্যের উল্লম্ফন ও আকস্মিক স্ফীতি"
এটাই হচ্ছে একবিংশ শতকের অভিনব অভূতপূর্ব নয়া সাম্রাজ্যবাদের বাস্তব নমুনা যা হচ্ছে বিশ্বগ্রাসী ও বিশ্ব লুটেরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ।
বিশ্বের যাবতীয় ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করেও মাযুরার অর্থনীতিতে কোনো বরকত নেই যার প্রমাণ মাযুরার পর্বত প্রমাণ লাগামহীন ঋণের বোঝা যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। হারাম আয় ও উপার্জনে আল্লাহ পাক কখনো বরকত দেন না যদিও হারাম উপার্জনকারী অবৈধ হারাম পন্থায় সম্পদের পাহাড় গড়ে।
মাযুরা সম্পদের বিশাল পাহাড় গড়েছে ঠিকই কিন্তু দেশটির বিশাল পর্বত প্রমাণ ঋণের বোঝা প্রমাণ করে যে হারাম ও অবৈধ পন্থায় বিশাল পর্বত প্রমাণ সম্পদ বানিয়েও মাযুরার সরকার ও জনগণের বরকত হচ্ছে না এবং ডলারের মূল্যমানের অত্যাসন্ন পতনে অর্থনৈতিক মহা মন্দা গ্রাস করবে দেশটিকে। তাই মাযুরা প্রেমিকদের উদ্দেশ্যে বলতে হয়:মাযুরা তোমাদের উপকারে আসবে না।মাযুরার সাথে সম্পর্ক রাখলে বরকত উবে যাবে। এমনকি সম্পদের পাহাড় গড়লেও লাভ হবে না।
ইসলামী চিন্তাবিদ গবেষক ও লেখক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট