শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৫:০১
ভারতে শিয়াদের ধর্মীয় স্থানে হামলায় ইসরায়েলের ‘গোপন ভূমিকা’র অভিযোগ

সর্বভারতীয় মজলিসে উলামায়ে হিন্দের মহাসচিব সাইয়্যেদ ক্বালবে জাওয়াদ নাকাভী ভারতে শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থানে সাম্প্রতিক অবমাননা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোকে সন্দেহজনক ও পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, ভারতের ধর্মীয় সহাবস্থান ও সাম্প্রদায়িক ঐক্য নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েল-ঘনিষ্ঠ কিছু শক্তি এসব ঘটনার পেছনে থাকতে পারে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের ভোপাল শহরে পুলিশের অভিযানের সময় একটি শিয়া উপাসনালয়ে অবমাননার ঘটনা এবং উত্তরপ্রদেশের ফররুখাবাদ জেলায় হযরত আলী (আ.)-এর নামে সংশ্লিষ্ট একটি মাজারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে তিনি গভীর উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেন।

শিয়াদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ
তিনি বলেন, ভারতের ইতিহাসে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সংঘাতের নজির থাকলেও শিয়া সম্প্রদায়কে পরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনা অতীতে দেখা যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতি একটি বিপজ্জনক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকারের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করে।

জাতীয় পর্যায়ে তদন্ত ও কঠোর শাস্তির দাবি
তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনায় উদাসীনতা ভবিষ্যতে নিরাপত্তাহীনতা ও ধর্মীয় উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

বিদেশি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল-সম্পৃক্ত কিছু গোষ্ঠী ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিয়াদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের কারণেও এ ধরনের তৎপরতা উসকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

বক্তব্যের শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই কেবল ভারতের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha