বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৬:২৭
ধর্মকে দুনিয়া উপার্জনের মাধ্যম বানানো লোকেরা জাহান্নামী; মাওলানা তাকি আব্বাস রিজভী 

হাওজা / আমাদের মধ্যে অনেকেই দুনিয়া উপার্জনের জন্য দ্বীনি জ্ঞান ও রূহানিয়াতের পোশাককে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে রেখেছেন। তারা শুধু নিজের জন্যই নয়, পুরো জাতির জন্যও এক বড় বিপদের কারণ!

হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিশিষ্ট আলেম, গবেষক ও লেখক এবং আহলে বাইত (আ.) ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা তাকি আব্বাস রিজভী বলেন, আমাদের মধ্যে বহু লোক দুনিয়া উপার্জনের উদ্দেশ্যে দ্বীনি জ্ঞান ও রূহানিয়াতের পোশাককে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা শুধু তাদের নিজেদের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্যও এক মারাত্মক বিপদ।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ইসলামের পুনর্জাগরণ। কিন্তু তাদের দেখা ও শোনার পর মনে হয় তারা ইসলামের নয়, বরং নিজেদের অস্তিত্ব ও ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্যের পুনর্জাগরণেই ব্যস্ত। তারা এই জ্ঞান ইসলামকে জীবিত করার জন্য নয়, বরং দুনিয়া উপার্জনের জন্যই অর্জন করেছে। একটি বর্ণনায় এসেছে:
“যে ব্যক্তি এমন জ্ঞান অর্জন করে যার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, কিন্তু সে তা দুনিয়ার সম্পদ অর্জনে ব্যয় করে, কিয়ামতের দিন সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।”
আরেকটি হাদিসে আছে:
“যে ব্যক্তি এ উদ্দেশ্যে জ্ঞান অর্জন করে যে, সে আলেমদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে, মূর্খদের সঙ্গে তর্ক করবে, বা এর মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি নিজের দিকে আকর্ষণ করবে—আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।”
তিনি বলেন, এ ধরনের স্বঘোষিত আলেমদের থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন, যারা নিজেদের অপ্রমাণিত চিন্তা-ভাবনা ও আকীদার মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্মের নিষ্পাপ তরুণদের প্রভাবিত ও মোহাবিষ্ট করে ‘মুকাল্লিদ ও গাইরে-মুকাল্লিদ’, ‘মুকাসসির ও গাইরে-মুকাসসির’ ইত্যাদি বিভেদের অশুভতায় নিমজ্জিত করছে।
এরা সেই লোক, যারা দুনিয়ায় নাম-যশ ও পদমর্যাদা অর্জনের জন্য নিজেদের চিরশত্রুকে সুযোগ করে দিচ্ছে, যাতে তারা আমাদের সৎ মূল্যবোধ, দ্বীনি আকীদা-চিন্তা ও সার্বজনীন শিক্ষাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে উপহাস করে এবং তা বিকৃত রূপে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করে।
এরা সচেতন বা অসচেতনভাবে নিজেদের আচরণ ও বক্তব্যের মাধ্যমে শত্রুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে। দ্বীনি জ্ঞানের শিক্ষার্থী ও ফাজিলদের উচিত এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা।
তাদের খেলা হলো রিয়াকারী, আর কৌশল হলো ছলনা ও প্রতারণা।
মাযহাবে তাশাইউর সারিতে এবং এর বিপরীতে আন্তর্জাতিক শত্রুরা ‘আখবারিয়ত’, ‘নুসাইরিয়ত’ ও ‘মালংগিয়ত’-এর প্রসারের দায়িত্ব এদের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে নানাভাবে অর্থায়ন করছে।
এ কথা বলা হয়তো অযৌক্তিক হবে না যে, বর্তমান সময়ে আমাদের অভ্যন্তরে যে ধর্মীয় প্রতিকূলতা ও বিভক্তি সৃষ্টি হচ্ছে, তা এসব ব্যক্তির কৃত্রিম আকীদা-চিন্তা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মনোভাব ও কর্মের ফল।
বন্ধুরা, ভালোবাসার শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে শুরু করেছে,
শওকের গলিতে কী তবে লালসাপরায়ণ লোকেরা ঢুকে পড়েছে?

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha