হাওজা নিউজ এজেন্সি: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা) ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক এসব মন্তব্য করেন।
‘আমরা মাথানত করিনি, করবও না’
আরাকচি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, “আমার দেশ গত এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দুবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বর্বর ও অবৈধ আগ্রাসনের শিকার হয়েছে।” তিনি ইরানের জনগণের প্রতিরোধের মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, সন্ত্রাসী হিংসার মুখোমুখি হয়েও ইরানি জনগণ দৃঢ় ও গর্বিত অবস্থান ধরে রেখেছে। “উত্তর সুস্পষ্ট: আমরা মাথানত করিনি এবং কখনোই করব না।”
‘আগ্রাসনের ফল ভোগ করতে হয় সব পক্ষকেই’
আরাকচি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যারা বেপরোয়া দুঃসাহসিক কাজ করে তারা মনে করতে পারে যে তা তাদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের ভোক্তা ও সরকারগুলো এখন বুঝতে পেরেছে, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সবার জন্য ক্ষতির কারণ—আগ্রাসীদের জন্যও।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, চাপের মুখে ইরান কখনো দুর্বল হয়নি, বরং আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। “যদিও আমরা আমাদের স্বাধীনতা ও ভূখণ্ড রক্ষায় যা কিছু আছে তাই নিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত, তবুও আমরা কূটনীতির পথ অনুসরণ ও রক্ষা করতে সমানভাবে প্রস্তুত।”
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিকস সদস্য দেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সব দায়িত্বশীল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনার জোরালো নিন্দা করতে হবে। পাশাপাশি, যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধে এবং জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধের কোনো সামরিক সমাধান নেই। কূটনীতি ও সংলাপই স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ।”
আপনার কমেন্ট