হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, লেবাননের হিজবুল্লাহর সীমান্ত ও সম্পদবিষয়ক দপ্তরের প্রধান সাইয়্যেদ নাওয়াফ আল-মুসাভি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং তাঁর ভাষায় ওয়াশিংটনের ‘কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র’ সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
আল-তানফে হামলা আঙ্কারা ও দামেস্কের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে
আল-মুসাভি বলেন, আল-তানফে অবস্থিত মার্কিন দখলদার সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা কিছু দাবির বিপরীতে তুরস্ক বা সিরিয়া সরকারের উদ্দেশে কোনো বার্তা ছিল না; বরং তা উভয় দেশেরই উপকারে এসেছে।
তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, আল-তানফে হামলা তুরস্ক এবং দামেস্কের সিরিয়ান সরকারের স্বার্থেই হয়েছে এবং এটি তাদের বিরুদ্ধে কোনো বার্তা ছিল না। ট্রাম্পের সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল তুরস্ক ও সিরিয়া সরকারকে চাপ দিয়ে লেবাননের যুদ্ধে টেনে আনা।
কিন্তু আজ যখন একটি মার্কিন ঘাঁটি হামলার শিকার হয়, তখন যুক্তরাষ্ট্রকে বলা সম্ভব হয়: 'আগে নিজের সমস্যার সমাধান কর।' তাই আমি আল-তানফে হামলাকে তুরস্ক ও সিরিয়ার সেই অবস্থানের সমর্থন হিসেবে দেখি, যেখানে তারা লেবাননের একটি আত্মঘাতী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
তুরস্কের নিরাপত্তা বৈরুত ও দামেস্ক থেকেই শুরু হয়
হিজবুল্লাহর এই কর্মকর্তা ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে লেবাননের প্রতিরোধ ফ্রন্টের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে তুরস্কের অবস্থান এবং প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন।
তিনি বলেন, যখন এরদোয়ান বলেন, 'তুরস্কের নিরাপত্তা দামেস্ক ও বৈরুত থেকে শুরু হয়', তখন প্রশ্ন আসে-বৈরুতের নিরাপত্তা কোন হুমকির বিরুদ্ধে? ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে। তাহলে লেবাননে কে ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদের মোকাবিলা করতে পারে?
এ কারণেই আমরা বুঝতে পেরেছি যে অঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তাই আজ তুরস্ক আঞ্চলিক পরিবর্তনের গতিপথ নির্ধারণে এবং এই সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তুর্কিদের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ আছে কি না, আমার উত্তর সবসময়ই হবে-'হ্যাঁ'।
জনগণের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা হচ্ছে
আল-মুসাভি বলেন, পশ্চিমা শক্তি এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা ইচ্ছাকৃতভাবে বৈরিতা উসকে দিয়ে অঞ্চলের জনগণকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।
এই ধারণা খণ্ডন করতে তিনি ইতিহাসের কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর বাহিনীতে আমির হুসামুদ্দিন বাশারার মতো বিশিষ্ট শিয়া সেনাপতিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শিয়াদের সঙ্গে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সম্পর্কও ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এমনভাবে তুলে ধরা হয় যেন দুই পক্ষের সম্পর্ক সবসময়ই নিপীড়ন ও সংঘাতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। অথচ উসমানীয় যুগের অভিজ্ঞতাকে সঠিকভাবে অধ্যয়ন করা উচিত।
ড. সাদুন হামাদা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন এবং দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, সে সময় হারমেল, বেকা ও জুবাইল অঞ্চলের প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা হামাদা পরিবার উসমানীয় সরকারের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রেখেছিল।
ইসলামী ঐক্য কোনো কৌশল নয়, এটি একটি বিশ্বাস
বক্তব্যের শেষে হিজবুল্লাহর সীমান্ত ও সম্পদবিষয়ক দপ্তরের প্রধান বলেন, উপনিবেশবাদ ও ঔদ্ধত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ভিত্তি হলো ইসলামী ঐক্য। প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতাদের অবস্থান এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রতি তাঁদের সমর্থনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের চিন্তাগত ও আদর্শিক ভিত্তি শিয়া-সুন্নি ঐক্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী, যিনি ঔদ্ধত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন, তিনি সবসময় শিয়া-সুন্নি ঐক্যের অপরিহার্যতা উপলব্ধি করেছেন। এমনকি তিনি তাঁর কাফনের ওপরও শিয়া-সুন্নি ঐক্যের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।
যদি তা না হতো, তাহলে আজ আমরা হামাস, ইসলামিক জিহাদ কিংবা যে কোনো প্রতিরোধ আন্দোলনের পাশে-তাদের মাজহাবি পরিচয় নির্বিশেষে-দাঁড়াতাম না। তারা যদি আহলে সুন্নাতও হয়, তবুও আমরা নিঃসন্দেহে তাদের পাশে থাকব।
আপনার কমেন্ট