বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬ - ২২:২৯
যন্তরমন্তরের রক্তাক্ত দুপুর 

‘যন্তরমন্তরের রক্তাক্ত দুপুর’-শিরোনামটি যেন আজও কানে বাজে। সেখ মঈনুল হকের কবিতা যখন লাঠির আঘাত আর রক্তমাখা ধুলোর গন্ধ বয়ে আনে, তখন বুঝতে পারি, এটি কোনো কাব্যিক কল্পনা নয়; এটি এক টুকরো বাস্তবের প্রতিচ্ছবি, যেখানে প্রশ্ন করার অধিকারটাই যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সেই রক্তাক্ত দুপুরেও যে কয়েকজন বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল, তাদের মেরুদণ্ডের গল্পই আজ ইতিহাসের পাতায় অক্ষর হয়ে আছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,

কলমে - সেখ মঈনুল হক 

লাঠির আঘাতে স্তব্ধ করতে চেয়েছে কণ্ঠ,
তবু কি থেমেছে সত্যের উচ্চারণ ?
রক্তে লেখা প্রশ্ন আজও বাতাসে ভাসে —
স্বপ্ন দেখা কি তবে আজ অপরাধ ?

যন্তরমন্তরের পথে পথে
ছড়িয়ে আছে বইয়ের ছেঁড়া পাতা,
ভাঙা চশমা, ছিঁড়ে ব্যাগ, রক্তমাখা ধুলো —
তবু নিভে যায়নি আগামী সকালের আলো।

রাষ্ট্র যখন সংলাপ ভুলে
দমনের ভাষায় কথা বলে,
ইতিহাস তখন নীরবে
তার অন্য ভাষা লিখে রাখে।

যে হাতে থাকার কথা ছিল
আইন, ন্যায় আর সংবিধানের মর্যাদা,
সেই হাতেই উঠল লাঠি;
কিন্তু প্রতিটি আঘাতের নিচে
আরও সোজা হয়ে দাঁড়ায়
মানুষের মেরুদণ্ড।

তোমরা ব্যারিকেড তুলেছ পথে,
আমরা খুলে দিয়েছি
বিবেকের জানালা।
তোমরা কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছ,
আমরা জ্বালিয়েছি
প্রশ্নের প্রদীপ।

মনে রেখো —
ভয় কোনোদিন ভবিষ্যৎ লেখে না,
দমন কোনোদিন ইতিহাসের
শেষ বাক্য নয়।

সময়ের আদালতে
প্রতিটি আঘাত সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায়,
প্রতিটি নীরবতা একদিন ভাষা পায়।

আজ যন্তরমন্তরের মাটি
নিঃশব্দে শুধু এতটুকুই বলে —

মানুষকে থামানো যায়,
চিন্তাকে নয়।
রক্ত শুকিয়ে যায়,
কিন্তু প্রশ্ন শুকায় না।
লাঠি ভেঙে যায়,
কিন্তু বিবেকের মেরুদণ্ড
ভাঙে না।

একদিন ধুলো থিতিয়ে যাবে,
ব্যারিকেড সরে যাবে,
ক্ষমতার কোলাহল স্তব্ধ হবে।
শুধু ইতিহাস খুলে দেখবে —
যারা লাঠি তুলেছিল,
তাদের নাম ছিল ক্ষমতায়;
আর যারা বুক তুলে দাঁড়িয়েছিল,
তাদের নাম ছিল
মানুষের পাশে।

সেই নামই বেঁচে থাকে।
বাকিগুলো কেবল
সময়ের ধুলো।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha