হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসলামি পরিবার-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হুজ্জাতুল ইসলাম রেজা ইউসুফজাদেহ ‘সন্তান জন্মের পর স্ত্রীর ঈর্ষা কীভাবে সামলানো যায়’—এই বিষয়ে একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: আমার মেয়ে আমাকে খুব ভালোবাসে। এ কারণে আমার স্ত্রী ঈর্ষান্বিত হন। এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলাব, যাতে আমাদের দাম্পত্য জীবনে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়?
উত্তর: সন্তান জন্মের পর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো পারিবারিক ভূমিকা ও সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে ভারসাম্য তৈরি করা। সন্তান আসার আগে পরিবারে মূলত স্বামী ও স্ত্রী—এই দুজনকে ঘিরেই ভালোবাসা, মনোযোগ ও পারস্পরিক যোগাযোগ আবর্তিত হয়। কিন্তু সন্তান জন্মের পর পরিবারের পরিসরে আরও একজন সদস্য যুক্ত হয়। ফলে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং নতুন ভারসাম্য তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম বিষয় হলো, আপনাকে ভেবে দেখতে হবে—সন্তানের প্রতি তাঁর মনোযোগ কি ভারসাম্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে কি না।
অর্থাৎ, তিনি যখন বাড়িতে আসেন, তখন কি স্বাভাবিকের তুলনায় তাঁর মনোযোগ অতিরিক্তভাবে শুধু সন্তানের দিকেই থাকে? যদি এমন হয়, তাহলে তা সন্তানের মা—অর্থাৎ স্ত্রীর—অসন্তোষ বা অভিযোগের কারণ হতে পারে। কখনো কখনো একই বিষয় বাবার ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। তাই প্রথমেই দেখতে হবে, সন্তানের প্রতি মনোযোগ ও জীবনসঙ্গীর প্রতি মনোযোগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় আছে কি না।
দ্বিতীয় বিষয় হলো, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা যখন কোনো আচরণকে ‘ঈর্ষা’ বলে অভিহিত করি, তখন বিষয়টিকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা দরকার। আমার মনে হয়, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব সময় এই অনুভূতিকে এতটা জোরালোভাবে ‘ঈর্ষা’ বলা ঠিক নয়। যেহেতু প্রশ্নকারী নিজেই এটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, আমি বরং এটিকে ‘আমাকেও একটু মনোযোগ দাও’—এই আকুতি হিসেবে দেখব।
অর্থাৎ, আমরা যখন ‘ঈর্ষা’ বলছি, তখন অনেক সময় সেই স্ত্রী তাঁর আচরণ, কথা কিংবা নীরবতার মাধ্যমে স্বামীকে আসলে বলতে চাইছেন:
“আমার প্রতি তোমার মনোযোগ আগের তুলনায় কমে গেছে।”
তাই যদি আমি বাস্তব ও ব্যবহারিক পরামর্শ দিতে চাই, তাহলে এই ভাইকে বলব—আপনার স্ত্রীর প্রতি মনোযোগকে আরও প্রকাশ্য, বেশি এবং বৈচিত্র্যময় করুন।
যাতে আপনার স্ত্রী এমন অনুভব না করেন যে, সন্তান আসার পর তিনি এই সংসারে গৌণ হয়ে গেছেন; তিনি আর আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছেন না, তাঁকে আর কেউ দেখছে না কিংবা তাঁর প্রতি আগের মতো মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
আরেকটি বিষয় হলো, সন্তানের ব্যক্তিত্ব ও মানসিক বিকাশের জন্যও এটি ভালো যে, বাবা-মা একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে আচরণ করবেন, যাতে সন্তান তার বাবা-মায়ের পারস্পরিক ভালোবাসা ও গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে দেখতে পায়।
অর্থাৎ, বাবা তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে এমনভাবে আচরণ করবেন, যাতে সন্তান অনুভব করে—
“আমার মা আমার বাবার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষ; তিনিই যেন তাঁর জীবনের কেন্দ্র।”
এরপর মা-ও বাবার সঙ্গে এমনভাবে আচরণ করবেন, যাতে সন্তানরা অনুভব করে—
“আমার বাবা আমাদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু, আমাদের পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।”
বাবা-মায়ের পারস্পরিক এই ধরনের আচরণ সন্তানের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।
আপনার কমেন্ট