হাওজা নিউজ এজেন্সি: চলমান অবৈধ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বহু ট্রিলিয়ন রিয়াল ব্যয়ে প্রকল্প দুটি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা এসব প্রকল্পকে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অবকাঠামোগত স্বনির্ভরতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও উন্নয়ন অব্যাহত রাখার সক্ষমতার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী আব্বাস আলীআবাদি আসালুয়েহ ও বোনাকের দুটি পানি শোধনাগারের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় পৌরসভা এবং এ অঞ্চলের ভারী শিল্পের জন্য টেকসই পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দেওয়া হুমকির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আলীআবাদি বলেন, বাহ্যিক চাপ ও হুমকি ইরানের উন্নয়ন কার্যক্রমকে থামিয়ে দিতে পারেনি।
তিনি বলেন, “ইরান একটি সভ্য ও গর্বিত জাতি। এ ধরনের সামান্য হুমকিতে আমরা ভীত নই। স্বল্পতম সময়ে কৌশলগত প্রকল্প বাস্তবায়ন স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা এবং জনগণের সেবার পথ থামিয়ে দেওয়া যাবে না।”
এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান প্রকল্প হলো সদ্য চালু হওয়া আসালুয়েহ লবণাক্ত পানি শোধনাগার। ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এটিকে দেশের প্রথম ‘স্মার্ট’ পানি শোধনাগার হিসেবে উল্লেখ করেছে।
শোধনাগারটির দৈনিক চূড়ান্ত উৎপাদনক্ষমতা ৫ হাজার ঘনমিটার। এর প্রথম ধাপে প্রতিদিন ১ হাজার ঘনমিটার পানি শোধনের সক্ষমতা চালু করা হয়েছে।
প্রকল্পটি ১ লাখ ৭৪ হাজারেরও বেশি ভোক্তার পানি সরবরাহের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে উন্নত রিভার্স অসমোসিস (RO) প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার হতে সক্ষম প্রি-ট্রিটমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানে এই প্রথম কোনো পানি শোধনাগারে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উৎপাদন স্থিতিশীল রাখা এবং পানির মান নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রকল্পটির প্রথম ধাপ এক বছরেরও কম সময়ে সম্পন্ন করে চালু করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত বাস্তবায়নের ফলে অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর পাশাপাশি অবকাঠামো দ্রুত চালু করা সম্ভব হয়েছে।
আসালুয়েহ প্রকল্পের পাশাপাশি জ্বালানিমন্ত্রী আলীআবাদি বোনাক লবণাক্ত পানি শোধনাগারও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
আপনার কমেন্ট