হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী স্মরণ করে তাঁর পথকে চিরন্তন এবং তাঁর পবিত্র রক্তকে প্রতিরোধের শক্তির এক প্রবহমান উৎস হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইসলামী প্রতিরোধের মর্যাদা ও গৌরব বৃদ্ধিতে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছে।
বিবৃতির একাংশে বলা হয়েছে: সেই রক্তাক্ত দিন এবং নৃশংস সন্ত্রাসী অপরাধের দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে। সেদিন শয়তানসদৃশ ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর অপরাধী হাত প্রতিরোধের সাইয়্যেদ, মুক্তিকামিতার পতাকাবাহী হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহকে ইসলামী প্রতিরোধ ফ্রন্ট, বিশেষত লেবাননের বীর হিজবুল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। কিন্তু শত্রুর ধারণা ও শয়তানি অভিপ্রায়ের বিপরীতে তাঁর পবিত্র রক্তের দীপ্তি শুধু নিভে যায়নি, বরং তা প্রতিরোধের দেহে শক্তি ও বিকাশের এক প্রবহমান উৎসে পরিণত হয়ে চিরস্থায়ী হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ কেবল একজন নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন আধুনিক প্রতিরোধের কৌশলগত স্থপতি, রণাঙ্গন ও কূটনীতির কৌশলবিদ এবং এ অঞ্চলের প্রতিরোধী জাতিগুলোর অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের বাস্তব প্রতীক।
নিজের নেতা ও আদর্শপুরুষ শহীদ ইমাম খামেনেয়ীর (কুদ্দিসা সিররুহু) পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি প্রতিরোধকে একটি কৌশল থেকে উন্নীত করে একটি চিন্তাধারা, পরিচয় ও সভ্যতাভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করেছিলেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, প্রতিরোধ কোনো প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি একটি কৌশলগত নির্বাচন এবং মর্যাদাপূর্ণ ও শক্তি সৃষ্টিকারী জীবনধারা।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিরোধের এই সম্মানিত ও বীর সেনানী ছিলেন অতুলনীয় সাহস, সততা, বাগ্মিতা ও দৃঢ়তার অধিকারী। তাঁর বক্তব্য পাহাড়কেও কাঁপিয়ে দিত এবং মানুষের হৃদয়কে আলোকিত করত।
শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর প্রভাব ছিল আঞ্চলিক সীমানার ঊর্ধ্বে। লেবানন ও ফিলিস্তিন থেকে ইয়েমেন, ইরাক, সিরিয়া এবং এর বাইরেও তাঁর প্রভাব বিস্তৃত হয়েছিল এবং তিনি ইসলামী উম্মাহর জাগ্রত বিবেকের কণ্ঠে পরিণত হয়েছিলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শহীদ নাসরুল্লাহ বিশ্বাস করতেন যে, প্রতিরোধ একটি অভিন্ন ফ্রন্ট এবং এই ফ্রন্টের যেকোনো স্থানে বিজয় অর্জিত হলে তা সবার বিজয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে: নিঃসন্দেহে, মহান শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর নেতৃত্বকাল প্রিয় লেবাননের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও গৌরবময় অধ্যায় এবং সমসাময়িক আঞ্চলিক ইতিহাসে তাঁর মর্যাদা বিরল ও চিরস্মরণীয়। প্রতিরোধের চিন্তাধারায় তাঁর নাম সর্বদা এমন একজন কৌশলবিদ ও তাত্ত্বিক হিসেবে পরিচিত থাকবে, যিনি প্রতিরোধকে প্রান্তিক অবস্থান থেকে মূলধারায় নিয়ে এসেছিলেন এবং আঞ্চলিক সমীকরণে একটি প্রভাবশালী মতাদর্শে পরিণত করেছিলেন। শাহাদাত পর্যন্ত তিনি ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন এবং তাদের অপরাজেয়তার মিথ চিরতরে ভেঙে দিয়েছিলেন।
বিবৃতির পরবর্তী অংশে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর পথ তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন শায়খ নাঈম কাসেমের নেতৃত্বে লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ ও হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের মাধ্যমে মর্যাদা, গৌরব ও শক্তির সর্বোচ্চ শিখরে অব্যাহত থাকবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে নজিরবিহীন প্রতিরোধ এবং আলী আল-তাহের এলাকায় বীরত্ব ও ইতিহাস সৃষ্টিকারী ঘটনাবলি বিপরীতমুখী অভিবাসনের প্রবণতাকে তীব্র করেছে এবং ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর আসন্ন পতনের বার্তা দিচ্ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আজ সমগ্র অঞ্চলে প্রতিরোধ ফ্রন্ট-বিশেষত সন্ত্রাসী আমেরিকা ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত ১২ দিন ও ৪০ দিনের আরোপিত যুদ্ধের পর-প্রমাণ করেছে যে, এটি মর্যাদা, মুক্তিকামিতা এবং আধিপত্য ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে অবিচল অবস্থানের প্রতীক।
ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বিবৃতির শেষাংশে মহান দুই ইমামের সঙ্গে পুনরায় অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া এবং বিপ্লবের শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি প্রতিরোধ ফ্রন্টের মহান শহীদদের, বিশেষত শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ও মেজর জেনারেল পাসদার আব্বাস নিলফোরুশান-এর উচ্চ আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
বিবৃতিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইসলামের বীর যোদ্ধাদের মাধ্যমে প্রতিরোধ ফ্রন্টের নিয়ন্ত্রণ, সার্বিক পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনাকে বর্তমান সভ্যতাগত ও অস্তিত্বের লড়াইয়ের মধ্যেও আল্লাহর সাহায্যের প্রতি ঈমান ও বিশ্বাসের অন্যতম অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে: আমরা পুনরায় দৃপ্তকণ্ঠে ও পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করছি-প্রতিরোধ ফ্রন্টকে সমর্থন করা, নিপীড়িতদের অধিকার রক্ষা করা এবং পবিত্র কুদসের পূর্ণ মুক্তি পর্যন্ত অবিচল থাকা-শক্তিশালী জনগণভিত্তিক ও বিপ্লবী আইআরজিসি এবং দেশের অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর চিরন্তন, জাতীয় ও মানবিক দায়িত্ব।
আল্লাহর অনুগ্রহে, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ ইমাম সাইয়্যেদ মুজতবা হুসাইনি খামেনেয়ীর (আল্লাহ তাঁর মর্যাদা সমুন্নত রাখুন) দিকনির্দেশনা, ইরানি জনগণের গৌরবময় ও শক্তিশালী ভূমিকা এবং বিভিন্ন অঙ্গনের ঐক্যের বরকতে মহাশয়তান সন্ত্রাসী আমেরিকা, তার উন্মত্ত কুকুর দখলদার ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থকদের ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হবে না।
ইসলামের যোদ্ধারাই ভবিষ্যতের ইতিহাস রচনা করবেন এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত এক পা-ও পিছিয়ে যাবেন না।
আপনার কমেন্ট