হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইহুদিবাদী ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবা কেনাবেচার শরয়ি বিধান সম্পর্কে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে মারজায়ে তাকলিদের ফতোয়া থেকে জানা যায়, এমন কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, যা ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে, তা জায়েজ নয় এবং মুকাল্লিদদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত।
এ বিষয়ে শরয়ি বিধানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হুজ্জাতুল ইসলাম আমিনি বলেন,
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
ইহুদিবাদী ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট পণ্য কেনাবেচার বিধান নিয়ে আমরা আপনাদের সামনে আলোচনা করছিলাম। এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যা আপনাদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। এ নিয়ে অনেক প্রশ্নও করা হয়।
এ কথা সঠিক যে, যেসব কোম্পানির মুনাফা ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে সহায়তা করে, তাদের কাছ থেকে পণ্য কেনা উচিত নয়, যাতে তাদের কোনো ধরনের সহযোগিতা করা না হয়। এটি সঠিক কথা। কিন্তু কোন কোম্পানি ইহুদিবাদী ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট এবং কোনটি নয়—তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনেক মানুষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। অনেকের কাছেই বিষয়টি স্পষ্ট নয় যে, অমুক কোম্পানি ইহুদিবাদী কোম্পানি কি না।
এ বিষয়ে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা প্রয়োজন।
প্রথম বিষয়: এ বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতার ফতোয়ায় যে বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা হলো—কোনো কোম্পানি থেকে পণ্য কেনা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন কোনো ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে জানেন এবং অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাঁর কাছে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে যে, উদাহরণস্বরূপ, ‘ক’ কোম্পানিটি একটি ইহুদিবাদী কোম্পানি। এমন ক্ষেত্রে ওই কোম্পানি থেকে পণ্য কেনা উচিত নয়।
কিন্তু কখনো কখনো কোনো ব্যক্তি সন্দেহের মধ্যে থাকেন। যেমন, এদিক-সেদিক শোনা বিভিন্ন কথার ভিত্তিতে তিনি ৮০ বা ৯০ শতাংশ ধারণা করেন যে, কোনো কোম্পানি ইহুদিবাদী হতে পারে; কিন্তু তাঁর কাছে এ বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান নেই।
সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, এ ধরনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিশ্চিতভাবে জানেন না এবং আপনার কাছে এটি প্রমাণিত হয়নি যে, অমুক কোম্পানি, অমুক প্রসাধনী, অমুক পানীয় কিংবা অমুক খাদ্যপণ্যের অর্থ সত্যিই ইহুদিবাদী কোম্পানিগুলোর কাছে যাচ্ছে কি না—আর বিষয়টি যদি শুধু মানুষের মুখে শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে হয় এবং আপনি নিশ্চিত না হন—তাহলে তা কেনাবেচায় কোনো সমস্যা নেই।
দ্বিতীয় বিষয়: এ বিষয়ে অনুসন্ধান করাও বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ, কেউ যদি বলেন, ‘আমি তো জানি না; তাহলে কি আমাকে অনুসন্ধান ও যাচাই করতে হবে, যাতে জানতে পারি এই কোম্পানি ইহুদিবাদী কি না?’ এর উত্তর হলো—না, তা বাধ্যতামূলক নয়।
অবশ্যই, একজন ব্যক্তি যদি বিষয়টি যাচাই করেন, অনুসন্ধান করেন এবং এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেন, তাহলে তা ভালো। তবে কোনো বিষয়ে তিনি না জানলে, তিনি সেই পণ্য কিনতে পারবেন; এ বিষয়ে অনুসন্ধান করা তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই। ‘ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে বয়কটের বৈশ্বিক কমিটি’ নামে একটি কমিটি রয়েছে। তারা নিশ্চিতভাবে ইহুদিবাদী ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। আমি দেখেছি, আপনারা সরকারি তথ্যভাণ্ডারের ওয়েবসাইটে এই নামটি অনুসন্ধান করলেও বিষয়টি খুঁজে পাবেন। সেখানে নিশ্চিতভাবে ইহুদিবাদী ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এসবের মধ্যে কিছু কোম্পানি পণ্য, খাদ্যসামগ্রী ও প্রসাধনী কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট; আবার কিছু কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করে। আপনারা সরকারি তথ্যভাণ্ডারের ওয়েবসাইট থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করে বিষয়টি জানতে পারবেন।
তবে কোনো ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি যদি বুঝতে না পারেন যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তাহলে তিনি সেই কোম্পানির পণ্য কিনতে পারবেন।
আশা করি, আল্লাহর সাহায্যে আপনারা সফল ও কল্যাণময় হবেন। আল্লাহর আশ্রয়ে থাকুন।
আপনার কমেন্ট