হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক বিষয়ক বিশ্লেষক মোহাম্মদ শাহেদি এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর পার্লামেন্ট নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রসঙ্গে বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর এটাই প্রথম নেসেট (পার্লামেন্ট) নির্বাচন। অর্থাৎ এটি ‘তুফান আল-আকসা’ এবং এর পর গাজা, লেবানন ও ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বহুমুখী যুদ্ধের পর প্রথম নির্বাচন।
তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের বিরোধীরা এখনো ৭ অক্টোবরের ঘটনা এবং গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাগত ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহুকে দায়ী করেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহু এখনো সাতটি ফ্রন্টে যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম তীর, ইয়েমেন, ইরাক ও সিরিয়া। ইসরায়েলি সমাজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ব্যাপক প্রচারণা ও কিছু কৌশলগত সাফল্য সত্ত্বেও নেতানিয়াহু এসব যুদ্ধ কোনো ফ্রন্টেই পুরোপুরি শেষ করতে পারেননি। কোনো সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছাড়াই পরিস্থিতি চলমান রয়েছে। কারণ হামাস ও হিজবুল্লাহ এখনো অস্তিত্বশীল এবং নিরস্ত্র করা হয়নি।
ইরানও প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে। ইয়েমেন ও ইরাকেও ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরোধ বাহিনীগুলো দুর্বল হয়নি। এমনকি সিরিয়ার ফ্রন্টকেও নিশ্চিন্তে বাদ দেওয়া যায় না। যদিও ইসরায়েল গোলান, কুনেইত্রা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাবাল আল-শেখ বা হারমোন পর্বতশ্রেণির উচ্চভূমি দখল করেছে, এসব অঞ্চল সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিনের ওপর ব্যাপক নজরদারির সুযোগ দেয়।
নেতানিয়াহুর অক্ষমতা
এই পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ইসরায়েলি সমাজ, বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের উদ্বেগ হলো-নেতানিয়াহু যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারছেন না। ফলে তিনি সমাজকে রাজনৈতিক, সামাজিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সংকট এবং দ্বন্দ্বের মধ্যে ফেলেছেন। তাই বিরোধীদের মতে, সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো তাঁর সরে দাঁড়ানো এবং বিরোধী পক্ষকে সুযোগ দেওয়া।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু নিজেকে চার্চিল, ত্রাণকর্তা এবং ‘মশীহ’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন-যিনি ইসরায়েলকে অস্তিত্বগত হুমকি ও কথিত ‘শেষ যুগের যুদ্ধ’ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। ফলে তিনি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য সবকিছুই করছেন। এ কারণে তিনি মূলত পরাজয়ের কথা ভাবছেন না; কারণ পরাজয় তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের সমাপ্তি ঘটাতে পারে।
এই বিশ্লেষক আরও বলেন, বৈদেশিক ফ্রন্টে নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে তৃতীয় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার দাবি করছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর চূড়ান্ত আঘাত এবং তেহরানের সরকার পরিবর্তনের কথাও বলছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি সমাজের নেতানিয়াহুর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত-এমন একটি ধারণাই তিনি তৈরি করছেন। কারণ তিনি নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর অস্তিত্বের সঙ্গে একীভূত করেছেন।
কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাচ্ছে না
তিনি বলেন, ইসরায়েলি সমাজে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও তীব্র। আজ যদি ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে বিরোধী জোট-আইজেনকোট, বেনেট, লাপিদ, লিবারম্যান ও গোলানের সমন্বয়ে-নেসেটে ৫৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোট-লিকুদ, শাস, ধর্মীয় জায়নবাদ ও ‘জিউইশ পাওয়ার’ দলগুলোর সমন্বয়ে-৫০টি আসন পেতে পারে।
এই জরিপ অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো একটি জোটই অর্জন করতে পারবে না। আরব দলগুলো প্রায় ১২টি আসন পেতে পারে। তবে এবারের নির্বাচনে আরবদের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।
আরবরা নির্বাহী ক্ষমতার বাইরে
শাহেদি বলেন, আরবরা ইসরায়েলি সমাজের প্রায় ২২ শতাংশ। কিন্তু তারা সবসময়ই নেসেটে তুলনামূলক কম আসন পেয়েছে। তা সত্ত্বেও ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল ঘোষণা করেছে যে, তারা কোনো পরিস্থিতিতেই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করবে না। বিরোধী দলগুলো এমনও জানিয়েছে যে, জোট হলেও আরবদের মন্ত্রিসভায় কোনো ভূমিকা বা পদ দেওয়া হবে না।
এদিকে নির্বাচনের প্রাক্কালে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আরব দলগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকার বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। একদিকে, যাদের প্রার্থিতা বাতিলের বিরোধিতা করা হয়েছে, তারা এটিকে আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সীমিত করা এবং নির্বাচনী সমীকরণে তাদের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, লিকুদের মতো ডানপন্থী দল ও অন্যান্য ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তি প্রার্থিতা বাতিলের পক্ষে নিরাপত্তাসংক্রান্ত অবস্থান এবং সশস্ত্র সংগ্রামের প্রতি সমর্থন অথবা ইসরায়েলের মৌলিক নীতিগুলো গ্রহণ না করার মতো বিষয়কে কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
তবে বিষয়টির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হবে নির্বাচনের পর আসন বণ্টন এমন হলে যে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া এবং বিরোধী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য কাটিয়ে কোনো পক্ষই অন্তত ৬১টি আসন অর্জন করতে না পারে। সে ক্ষেত্রে আবারও নির্বাচন এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেখার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
নেতানিয়াহুর চেয়েও কঠোর আইজেনকোট
ফিলিস্তিন বিষয়ক এই বিশেষজ্ঞকে প্রশ্ন করা হয়, নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোট নির্বাচনে জয়ী হলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে?
তিনি বলেন, এই নির্বাচনে বামপন্থী বা ধর্মনিরপেক্ষ কোনো রাজনৈতিক ধারা নেই। সবাই হয় উগ্র ডানপন্থী, নয়তো মধ্যপন্থী। তাই জেনারেল গাদি আইজেনকোটের নির্বাচন-যিনি উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান এবং সাবেক সেনাপ্রধান ছিলেন এবং ৭ অক্টোবরের যুদ্ধে তাঁর ছেলেও নিহত হয়েছে-নেতানিয়াহুর চেয়ে কম কঠোর হবে, এমনটি বলা যায় না; বরং অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে।
তিনি বলেন, আইজেনকোটই ‘দাহিয়া ডকট্রিন’ এবং ‘ছায়াযুদ্ধ’-এর অন্যতম স্থপতি এবং তিনি দখল করা যেকোনো স্থান ধ্বংস করার নীতির কথা বলেছেন। ২০০৬ সালেও আইজেনকোট মনে করতেন, লেবাননের প্রতিরোধকে ধ্বংস করার জন্য যুদ্ধাপরাধ সংঘটন এবং অবকাঠামো ধ্বংস করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।
তাই তাঁকে মধ্যপন্থী ডানপন্থী হিসেবে দেখা হলেও ইরান, গাজা, লেবানন ও ইয়েমেনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে না। ফলে তিনিও প্রতিরোধ আন্দোলনকে মৌলিকভাবে নির্মূল করার চেষ্টা করবেন। তবে তাঁর মধ্যে নেতানিয়াহুর মতো ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক ক্যারিশমা নেই।
ইসরায়েল: সংকট সৃষ্টিকারী ও সংকটনির্ভর শাসকগোষ্ঠী
গাজা, লেবানন ও ইয়েমেনের যুদ্ধ ইসরায়েলি নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলতে পারে-এ প্রশ্নের জবাবে পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক এই বিশেষজ্ঞ বলেন, আমরা এমন একটি শাসকগোষ্ঠীর মুখোমুখি, যা সংকট সৃষ্টি করে এবং সংকটের মধ্যেই টিকে থাকে। মূলত এই শাসকগোষ্ঠীর চরিত্র যুদ্ধ, হত্যাকাণ্ড ও রক্তপাতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শান্তি ও স্থিতিশীলতা তাদের জন্য মৃত্যুর সমতুল্য। এমন একটি শাসকগোষ্ঠীর কাছে যুদ্ধ একটি স্বাভাবিক ও সাময়িক বিষয়; কারণ তারা আঞ্চলিক অনিরাপত্তা, সংকট ও সংঘাতকে নিজেদের নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের অংশ হিসেবে দেখে।
তিনি আরও বলেন, গাজা, লেবানন, ইরান এবং এখন ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এমন দাবি করে তিনি বলেন, এসব যুদ্ধের লক্ষ্য আধিপত্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী উদ্দেশ্য এবং বৃহত্তর ইসরায়েলের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা।
তাঁর মতে, এসব যুদ্ধের ক্ষেত্র খোলা থাকা এবং কোনো সুস্পষ্ট সমাপ্তির দিগন্ত না থাকায় এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে না পুরোপুরি যুদ্ধ আছে, না শান্তি। একই সঙ্গে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বারবার চুক্তি লঙ্ঘন ও প্রতিদিনের কথিত অপরাধের অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব বিষয় ইসরায়েলি নির্বাচনে খুব বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। যদিও বিরোধী দলগুলো যুদ্ধের বিপুল ব্যয়, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং সেনাবাহিনী ও ইসরায়েলি সমাজের নানা সমস্যার কারণে তেল আবিব সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু গাজা, পশ্চিম তীর, লেবানন ও সিরিয়ায় আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ‘হেরেদি’ ও উগ্র ডানপন্থী দলগুলোর সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এমনকি বর্তমানে তিনি ইরানের সঙ্গে তৃতীয় যুদ্ধের প্রস্তুতির কথাও বলছেন।
নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি
নির্বাচনের পর তেল আবিবের নীতি ও কর্মকৌশল কেমন হতে পারে-এ প্রশ্নের জবাবে শাহেদি বলেন, আমরা একটি স্বাভাবিক ও প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার মুখোমুখি নই। তাই কোনো অলৌকিক পরিবর্তন বা বিশেষ ঘটনা আশা করা উচিত নয়। তবে কয়েকটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনা করা যেতে পারে।
প্রথম পরিস্থিতি: নেতানিয়াহু নিজেকে নির্বাচনে জয়ের প্রধান দাবিদার মনে করছেন। ক্ষমতায় ফিরে তিনি তাঁর ভাষায় অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে পারবেন এবং তথাকথিত ‘শেষ যুগের যুদ্ধের’ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন। অর্থাৎ বিষয়টি তাঁর কাছে শাসকগোষ্ঠীর ধ্বংস অথবা প্রতিরোধ ফ্রন্টের ধ্বংস-এই দ্বৈততার মধ্যে আবর্তিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিনি তাঁর পুরোনো কৌশল-বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের প্রলুব্ধ করা এবং দলগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি-ব্যবহার করতে পারেন। অতীতেও তিনি এহুদ বারাক, বেনি গান্তজ ও নাফতালি বেনেটের রাজনৈতিক জোট বা গোষ্ঠী ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে বিশ্লেষক উল্লেখ করেন।
দ্বিতীয় পরিস্থিতি: নির্বাচনে আইজেনকোটের দল ‘ইয়াশার’ জয়ী হলে তাঁকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা থাকবে। কারণ লিবারম্যানের মতো মিত্ররা আরব দলগুলোর ভোট গ্রহণে রাজি নয় এবং মধ্য-ডানপন্থী শিবিরের নেতৃত্ব নিয়ে বেনেটের সঙ্গেও তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে সরকার গঠিত হলেও তা বিরোধীদের মোকাবিলায় অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও দুর্বল হতে পারে-এমন বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
তৃতীয় পরিস্থিতি: ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট হারৎসগের পরিকল্পনা। বিশ্লেষকের মতে, উগ্রপন্থী সরকারের কারণে তেল আবিবের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তাতে হারৎসগ উদ্বিগ্ন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার গঠনের দায়িত্ব এমন ব্যক্তিকে দেবেন, যাঁর স্থিতিশীল সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এমনকি অচলাবস্থা এড়াতে তিনি আলোচনাগুলো প্রকাশ্য করার পক্ষেও যেতে পারেন।
চতুর্থ পরিস্থিতি: আবারও আগাম নির্বাচনের চক্রে প্রবেশ। বিশ্লেষকের মতে, মৌলিক আইনের অধীনে সরকার গঠনের জন্য পরামর্শ ও আলোচনা প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ পাঁচ মাস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এরপর পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে। এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে পারেন। বিশ্লেষকের দাবি অনুযায়ী, এতে দুর্নীতির মামলায় বিচার অথবা যুদ্ধসংক্রান্ত তদন্তে জবাবদিহির ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান প্রভাবিত হতে পারে।
আপনার কমেন্ট