বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর ২০২৬ - ২০:২০
স্থায়ী প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়তে যুদ্ধ ও আলোচনার সমন্বয় জরুরি: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাও চালিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মাদ বাকের কালিবফ। তাঁর মতে, শুধু চুক্তি স্বাক্ষর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে সামরিক শক্তি ও প্রতিরোধ সক্ষমতার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে হবে, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: বুধবার এক সাক্ষাৎকারে কালিবফ প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে ওয়াশিংটনের অঙ্গীকারসংবলিত কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করা হলেও তা ভবিষ্যতে ইরানের ওপর হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে পারবে কি না।

তিনি একই সঙ্গে কেবল সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনা বাড়িয়ে শত্রুপক্ষকে ক্লান্ত করে তোলার কৌশলও প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা গভীরভাবে প্রোথিত। ওয়াশিংটনের আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতা দেশটিকে পিছু হটানোর পরিবর্তে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী করে তুলছে।

কালিবফ বলেন, “স্থায়ী প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রতিষ্ঠার উপায় হলো একই সঙ্গে যুদ্ধ করা ও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।”

তিনি বলেন, এমন সামরিক শক্তি অর্জন করতে হবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষগুলো উপলব্ধি করে যে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে তাদের উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব নয়।

কালিবফের ভাষায়, “কেউ যেন আমাদের ওপর হামলা চালানোর সাহস না পায়। কেউ যদি এমন বোকামিপূর্ণ চিন্তা করে, তাহলে তার উচিত অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং উপলব্ধি করা যে ইরান শক্তিশালী। কেউ আমাদের মোকাবিলা করতে বা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে না।”

পার্লামেন্ট স্পিকার জোর দিয়ে বলেন, কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের কাছে সেই শক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করাও জরুরি। প্রয়োজন হলে ইরানকে পূর্ণ শক্তি নিয়ে লড়াই করতে হবে, সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতে হবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যকে কূটনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অর্জনে রূপ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “যখনই আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক বিজয় অর্জন করব, তখন সেই বিজয়কে রাজনৈতিক বিজয়েও রূপ দিতে হবে, তা সুসংহত করতে হবে এবং শত্রুর পরাজয়ের দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন কর্মকর্তাদের কঠোর বক্তব্যের মধ্যে কালিবফ এসব মন্তব্য করলেন।

তেহরান বারবার সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাবে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নৌসম্পদে হামলা চালানো হবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha