হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি ২৪ মেহর (১৬ অক্টোবর) ইরানের সেনাবাহিনীর আদর্শিক ও রাজনৈতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী উপলক্ষে এক বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বার্তায় তিনি বলেন, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনির দূরদর্শী সিদ্ধান্তে এবং তৎকালীন নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রস্তাবের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর আদর্শিক ও রাজনৈতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। বিপ্লবী সেনাবাহিনীর ধর্মীয় বিশ্বাসকে গভীর করা, রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেনাসদস্যদের আদর্শিক ও আধ্যাত্মিক ভিত্তি সুদৃঢ় করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
গত ৪৭ বছরে সংস্থাটি ইরানের সেনাবাহিনীর ধর্মীয়, বিপ্লবী ও প্রতিরক্ষাগত পরিচয় বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মেজর জেনারেল হাতামি বলেন, প্রায় পাঁচ দশকের ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংস্থাটি ইসলামের শিক্ষা প্রচার, বিপ্লবী চেতনা সুদৃঢ় করা, সেনাসদস্যদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঈমান, অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধের মধ্যে গভীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
এ ছাড়া ইরানের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষায় প্রস্তুত, ধর্মবিশ্বাসী, সচেতন ও নেতৃত্বের প্রতি অনুগত সেনাসদস্য গড়ে তুলতেও সংস্থাটি অবদান রেখেছে। তাঁর মতে, সামরিক জ্ঞান, দক্ষতা ও যুদ্ধপ্রস্তুতির পাশাপাশি আধ্যাত্মিক ও আদর্শিক শক্তিও সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, ‘সফট ওয়ার’ বা মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা এবং শত্রুপক্ষের জ্ঞানগত যুদ্ধ মোকাবিলায় সংস্থাটি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্কতা, ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ধর্মীয় ও বিপ্লবী মূল্যবোধের প্রসারের মাধ্যমে সেনাসদস্য ও তাঁদের পরিবারের ইসলামী ও বিপ্লবী পরিচয় সুরক্ষায় কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেজর জেনারেল হাতামির ভাষ্য অনুযায়ী, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শত্রুপক্ষ সম্পর্কে সচেতনতা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিরোধক্ষমতা জোরদার করার মাধ্যমে সংস্থাটি শত্রুপক্ষের বুদ্ধিবৃত্তিক, গণমাধ্যমভিত্তিক ও আদর্শিক আক্রমণ মোকাবিলায় সহায়তা করছে।
ইরানের সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমানে সম্মিলিত যুদ্ধ এবং বহুমাত্রিক হুমকি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মনোবল, ঈমান ও সচেতনতাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এমন পরিস্থিতিতে ধর্মীয় বিশ্বাস গভীর করা, আত্মত্যাগ ও শাহাদাতের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া, জিহাদি মনোভাব জোরদার করা এবং মাতৃভূমি রক্ষার প্রেরণা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর আদর্শিক ও রাজনৈতিক সংস্থার ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, শত্রুর বিরুদ্ধে সেনাসদস্যদের দৃঢ় প্রতিরোধ, যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁদের অবিচল উপস্থিতি এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় তাঁদের দায়িত্ব পালন ঈমান ও সামরিক শক্তির সমন্বয়ের প্রতিফলন। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, প্রতিরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সেনাসদস্যদের যুদ্ধের মনোবল ধরে রাখার ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিকতা ও সচেতনতা নির্ধারক ভূমিকা পালন করে।
বার্তার শেষাংশে মেজর জেনারেল হাতামি সেনাবাহিনীর আদর্শিক ও রাজনৈতিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা, প্রয়াত নেতা এবং সেনাবাহিনীর আদর্শিক, সাংস্কৃতিক ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তিনি সংস্থাটির প্রধান আব্বাস মোহাম্মদ হাসানি, পরিচালক ও কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা, কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা অব্যাহত রাখা, ঈমান ও সচেতনতা আরও গভীর করা, ইসলামী বিপ্লবের মূল্যবোধ রক্ষা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাফল্য কামনা করেন
আপনার কমেন্ট