বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬ - ১৪:১৭
কঠিন সময়ে অবিচল থাকতে কোরআনের চার শিক্ষা

কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতিতে অবিচল থাকার জন্য আল্লাহর প্রতি ঈমান, সৎকর্ম, তাঁর প্রতি আশা এবং ইখলাস বা একনিষ্ঠতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইরানের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মুহাম্মদ হাজ্ব আবুল কাসেম। তিনি বলেন, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে আল্লাহর সব শত্রু একজোট হলেও এ জাতি কোরআনের এসব নীতির ওপর ভর করে দৃঢ় ও অবিচল রয়েছে এবং একচুলও পিছপা হচ্ছে না।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র কোম নগরীতে হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা. আ.)-এর পবিত্র মাজারে আয়োজিত ‘ফাতেমি তিলাওয়াত আসর’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে হাজ্ব আবুল কাসেম সুরা কাহাফের ১০৭ থেকে ১১০ নম্বর আয়াতের আলোকে সংকট মোকাবিলায় কোরআনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে মুমিনদের জন্য এসব নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সমাজের বিশেষ পরিস্থিতি, শত্রুদের সম্মিলিত অবস্থান এবং জনগণের অবিচলতার প্রেক্ষাপটে এগুলোর প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রথম শিক্ষা: আল্লাহর প্রতি অবিচল ঈমান
হাজ্ব আবুল কাসেম বলেন, উল্লিখিত আয়াতগুলোর প্রথম শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান। মানুষ শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কিংবা সম্পদ হারাতে পারে; কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তার ঈমান হারানো উচিত নয়। ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুমিনরা শত্রুদের হাতে নানা ধরনের নির্যাতন ও ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি নিজেদের ঈমান হারাননি।

তিনি আরও বলেন, ইসলাম ও বিপ্লব রক্ষার পথে ইরানের জনগণও বছরের পর বছর ধরে নানা ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা নিজেদের ঈমান, বিশ্বাস ও বিপ্লবী চেতনা হারাননি। ঈমান মানুষকে নিরাপত্তা ও প্রশান্তি দেয়। পবিত্র কোরআনের আয়াত অনুযায়ী, নিরাপত্তা মুমিনদের জন্য।

তাঁর ভাষ্য, ঈমানি সমাজে নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও মানুষের আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য—এ বিশ্বাসে মানুষ দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলে।

দ্বিতীয় শিক্ষা: সৎকর্মের মাধ্যমে ঈমানের প্রকাশ
হাজ্ব আবুল কাসেম দ্বিতীয় শিক্ষা হিসেবে সৎকর্মের কথা তুলে ধরে বলেন, ঈমান ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের পর মানুষের আচরণ ও কাজের মধ্যেও সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন অনুযায়ী, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তায়ালা তাদের আবাস হিসেবে মনোরম জান্নাতের বাগান নির্ধারণ করেছেন। তারা সেখানে চিরকাল বসবাস করবে এবং সেখান থেকে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও করবে না।

তৃতীয় শিক্ষা: সংকটেও আল্লাহর প্রতি আশা
হাজ্ব আবুল কাসেম তৃতীয় শিক্ষা হিসেবে ঈমান ও সৎকর্মের পাশাপাশি আশাবাদী থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আল্লাহর বাণী তাঁর অসীম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ, যার কোনো শেষ নেই। সমগ্র সৃষ্টিজগৎই আল্লাহর ক্ষমতার নিদর্শন। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহকে অবলম্বন করে, সে সব সময় আশাবাদী থাকে।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালা শত্রুদের সব সামরিক শক্তির চেয়ে অধিক শক্তিশালী। আল্লাহর ক্ষমতার ওপর ভরসা এবং তাঁর সাহায্য নিয়ে ইসলামের যোদ্ধারা শত্রুদের বহু ড্রোন, বিমান ও ডুবোজাহাজ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছেন।

চতুর্থ শিক্ষা: ইখলাস বা একনিষ্ঠতা
হাজ্ব আবুল কাসেম চতুর্থ শিক্ষা হিসেবে ইখলাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহর ইবাদত করতে হবে একনিষ্ঠভাবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাহায্য প্রত্যাশা করে, তাকে নিষ্ঠার সঙ্গে ইবাদতের পথে চলতে হবে এবং ইবাদতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে অংশীদার করা যাবে না।

তিনি বলেন, একজন মুমিনের বিয়ে, সন্তান প্রতিপালন, এমনকি খাবার গ্রহণও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হতে পারে। তার জীবনের প্রতিটি দিক আল্লাহর জন্য নিবেদিত থাকে; এমনকি তার মৃত্যুও আল্লাহর পথে হয়। যে মুমিন আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করে, শোক পালন করে, রোজা রাখে ও হজ আদায় করে, আল্লাহ তায়ালা তার মৃত্যুকেও নিজের পথে পরিচালিত করেন।

শহীদ নেতার জীবন উৎসর্গের দৃষ্টান্ত
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে হাজ্ব আবুল কাসেম বলেন, ইরানের শহীদ নেতা তাঁর সমগ্র জীবন আল্লাহর পথে উৎসর্গ করেছেন। নিজের চিন্তা, মন, আত্মা ও জীবন—সবকিছুই তিনি আল্লাহর পথে ব্যয় করেছেন। তিনি জাহিদসুলভ জীবনযাপন করেছেন এবং অমর হয়ে রয়েছেন। পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha