হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘সামতে খোদা’য় সমাজের চিন্তা ও সংস্কৃতির বিকাশে সৌন্দর্যের ভূমিকা নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন পানাহিয়ান বলেন, মানুষকে বিপথগামী করতে শত্রু ও শয়তানের মনস্তাত্ত্বিক কৌশলগুলোর অন্যতম হলো ভুল আচরণকে সুন্দর এবং ঐশী সত্য ও মূল্যবোধকে অসুন্দরভাবে উপস্থাপন করা। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে এ কৌশলের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাই শত্রুর চিন্তাগত ও সাংস্কৃতিক যুদ্ধ মোকাবিলায় এ কৌশল সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআনে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে, মানুষের দৃষ্টিতে ভুল কাজকে সুশোভিত করে তোলা হয়। কখনো কখনো মানুষ নিজের ভুল আচরণকেই সুন্দর মনে করে এবং সেটিকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও সঠিক সিদ্ধান্ত বলে বিবেচনা করে। অথচ তার এ দৃষ্টিভঙ্গি চিন্তা ও হৃদয়ের ওপর বাইরের বিভিন্ন প্রভাবের ফল হতে পারে। এ অবস্থায় মানুষ নিজের আচরণের অসংগতি উপলব্ধি করতে পারে না; বরং সেটিকে মূল্যবান ও সমর্থনযোগ্য বলে মনে করতে শুরু করে।
এই আলেমে দ্বীন বলেন, বাতিলপন্থীদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে গিয়ে পবিত্র কোরআন কেবল মতাদর্শগত বিরোধের কথা বলেনি; বরং কিছু ক্ষেত্রে দেখিয়েছে, মানুষের ভুল কাজগুলোকে তাদের চোখে সুশোভিত করে তোলা হয়। তাই মানুষের আচরণ বুঝতে শুধু তাদের বাহ্যিক যুক্তি ও বক্তব্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া যথেষ্ট নয়। কারণ, তাদের কাছে সৌন্দর্য ও অসুন্দরের ধারণাই হয়তো বদলে গেছে।
মানুষের নৈতিক গঠন ও সঠিক পথের দিশা দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের মৌলিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে মুমিনদের অন্তরে ঈমানকে প্রিয় করে দেওয়া এবং কুফর, অবাধ্যতা ও পাপাচারকে তাদের কাছে অপছন্দনীয় করে তোলার কথা বলেছেন।
সুরা হুজুরাতের ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ الْإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ
কিন্তু আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তোমাদের অন্তরে তাকে সুশোভিত করেছেন। আর কুফর, অবাধ্যতা ও পাপাচারকে তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন।
হুজ্জাতুল ইসলাম পানাহিয়ান আরও বলেন, পবিত্র কোরআনের সব সূক্ষ্ম তাৎপর্য মানুষ হয়তো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারে না, কিন্তু তা সত্ত্বেও এর সৌন্দর্য অনুভব করতে পারে। যেমন, ফেরদৌসি কিংবা হাফিজের কবিতার সব অর্থ ও তাৎপর্য না বুঝলেও মানুষ তাঁদের কবিতার ভাষাগত সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে। একইভাবে, কোরআন তিলাওয়াতের সব অর্থ বিস্তারিতভাবে উপলব্ধি করার আগেই মানুষ ঐশী বাণীর সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হতে পারে।
ধর্মীয় প্রচারের পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, কোরআন থেকে আমাদের এ শিক্ষা নিতে হবে যে, ধর্মীয় সত্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে শুধু যৌক্তিক যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং সত্যের সৌন্দর্যও মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। ধর্মীয় সত্যকে যথাযথ ও হৃদয়গ্রাহীভাবে উপস্থাপন করা গেলে মানুষের সঙ্গে এসব সত্যের গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।
আপনার কমেন্ট