বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬ - ১৫:১২
আল্লাহর শক্তিকে পরাভূত করার সাধ্য কারও নেই, ইরানের বিজয় স্বীকার করছে বিশ্ব: আয়াতুল্লাহ রজাভী

ঐশী সাহায্য ও জনগণের প্রতিরোধের কারণে শত্রুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান বিজয়ী হয়েছে এবং বিশ্ব আজ তা স্বীকার করছে বলে দাবি করেছেন ইমাম খোমেনি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান আয়াতুল্লাহ মাহমুদ রজাভী। তিনি বলেন, আল্লাহর শক্তিকে পরাভূত করার সাধ্য কারও নেই।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া বার্তার প্রসঙ্গ টেনে রজাভী বলেন, ঐশী হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতেই সর্বোচ্চ নেতা ইরানকে বিশ্বের প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আয়াতুল্লাহ রজাভীর ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় ও কোরআনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিজয় ও শক্তি অর্জনের ক্ষেত্রে বস্তুগত উপাদানের পাশাপাশি এমন কিছু বিষয়ও ভূমিকা রাখে, যা বস্তুগত উপাদানের ঊর্ধ্বে। বিশ্বপরিস্থিতিতেও এসব বিষয়ের প্রভাব দেখা যায়। এর অন্যতম হলো আল্লাহর সাহায্য, যার উল্লেখ পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে রয়েছে। সাম্প্রতিক দুটি চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুর মোকাবিলায় ইরানের জনগণ মহান আল্লাহর সাহায্য প্রত্যক্ষ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

ঈমানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ঐশী সাহায্য
ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রেসিডিয়াম বোর্ডের সদস্য আয়াতুল্লাহ রজাভী বলেন, এসবই মহান আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের অংশ। আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করলে তাঁর পক্ষ থেকেও সাহায্য পাওয়া যায়—এ শিক্ষা তাঁরা উপলব্ধি করেছেন।

ইরানের হাওজা শিক্ষাব্যবস্থার সর্বোচ্চ পরিষদের এই সদস্য আরও বলেন, নিছক জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সবকিছুকে বস্তুগত উপাদানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু ধর্মীয় ও ঐশী দৃষ্টিভঙ্গিতে বস্তুগত উপাদানের পাশাপাশি অবস্তুগত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনের আয়াতের আলোকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও অন্যান্য নবীর জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সীমিত সম্পদ ও অল্পসংখ্যক জনবল নিয়েও একটি দল অধিকসংখ্যক সৈন্য ও উন্নত সরঞ্জামে সজ্জিত শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে। কোনো কোনো যুদ্ধে মহানবী (সা.)-এর বাহিনীর সদস্যসংখ্যা শত্রুপক্ষের অর্ধেক, এমনকি এক-তৃতীয়াংশও ছিল। তা সত্ত্বেও আল্লাহর অনুমতি ও সাহায্যে তাঁরা বিজয়ী হয়েছেন। বিভিন্ন যুদ্ধে মুমিনরাও ঐশী সাহায্য লাভ করেছেন।

সর্বোচ্চ নেতা কেন ইরানকে বিশ্বের প্রধান শক্তি বলেছেন?
আয়াতুল্লাহ রজাভী বলেন, পবিত্র কোরআন অনুযায়ী, বস্তুগত উপাদানগুলোও মহান আল্লাহর কর্তৃত্বাধীন, কারণ সবকিছুই তাঁর সৃষ্টি। ফলে সব উপাদানের ওপর আল্লাহর কর্তৃত্ব নিশ্চিত ও অকাট্য। আয়াতুল কুরসিতেও এ বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে।

ইমাম খোমেনি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান আরও বলেন, ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের প্রাথমিক বছরগুলোতে তাবাসের ঘটনা এবং সাম্প্রতিক চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় ইসফাহানের কাছে ইরানের ভূখণ্ডে শত্রুপক্ষের অনুপ্রবেশের ঘটনা পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় মার্কিন বাহিনী অপদস্থ হয়েছিল। তিনি ঘটনাগুলোকে মহান আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সর্বোচ্চ নেতার ইরানকে বিশ্বের প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করার বক্তব্যও এই ঐশী হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।

ঐশী শক্তির কাছে কোনো শক্তিই বাধা হতে পারে না
আয়াতুল্লাহ রজাভী বলেন, মহান আল্লাহ যখন কোনো জাতির জন্য বিজয় ও সাহায্য নির্ধারণ করেন, তখন কোনো শক্তিই তাঁর ইচ্ছার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। ফলে সেই জাতি অন্য সব শক্তিকে অতিক্রম করে বিজয় অর্জন করে।

তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, মহান আল্লাহর প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ রাখা এবং মাসুম ইমামদের (আ.) উসিলায় তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে একটি শক্তিশালী ভিত্তি পাওয়া যায়। এর ওপর নির্ভর করে ঐশী শক্তির বিরোধী সব শক্তিকে পরাজিত করা সম্ভব। তাঁর মতে, এভাবে ইরান বিশ্বের একক ও অতুলনীয় পরাশক্তিতে পরিণত হবে।

আল্লাহর ওপর ভরসা ও আহলে বাইতের (আ.) উসিলা গ্রহণের গুরুত্ব
আয়াতুল্লাহ রজাভী বলেন, আহলে বাইতের (আ.) উসিলা গ্রহণের ওপর সর্বোচ্চ নেতার গুরুত্বারোপের কারণ হলো, পবিত্র ইমামগণ (আ.) ঐশী অনুগ্রহ লাভের মাধ্যম। তাঁর ব্যাখ্যায়, মানুষের কাছে যে কল্যাণ, সাহায্য ও সাফল্য আসে, তা আহলে বাইতের (আ.) মাধ্যমে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

তিনি বলেন, এ দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, একদিকে রয়েছেন মহান আল্লাহ ও আহলে বাইত (আ.), যাঁদের শক্তি অপরাজেয়; অন্যদিকে রয়েছে বস্তুগত উপাদানের ওপর নির্ভরশীল শক্তিগুলো, যেগুলোর নিজস্ব কোনো স্বতন্ত্র কার্যক্ষমতা নেই। তাই মহান আল্লাহ যেমন অস্তিত্বজগতের সর্বোচ্চ শক্তি, তেমনি তাঁর শক্তিতে বলীয়ান মুমিনরাও বিশ্বের প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হন।

ইরানের জনগণের শক্তি ও মর্যাদার ভিত্তি
রজাভী বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বেলায়াতে ফকিহের প্রতি আনুগত্যের ফলে ইরানের জনগণ এ ধরনের শক্তির অধিকারী হয়েছেন। তাঁর মতে, এর ফলে তাঁরা আজ বিশ্বের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছেন।

এর প্রমাণ হিসেবে তিনি সাম্প্রতিক দুটি চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুটি শক্তি আরও বহু দেশের গোপন ও পরোক্ষ সহযোগিতা নিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও জনগণের প্রতিরোধের কারণে তারা পরাজয়ের মুখে পড়ে।

বিশ্বের স্বীকৃতি
আয়াতুল্লাহ মাহমুদ রজাভী বলেন, বাস্তবতা হলো, আজ বিশ্ব স্বীকার করছে যে সাম্প্রতিক যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয়ী হয়েছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও দেশটির জনগণ।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha