হাওজা নিউজ এজেন্সি: ধার্মিক সন্তান গড়ে তোলা হলো একটি উজ্জ্বল ও আধ্যাত্মিক ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। এ প্রক্রিয়াটি প্রজ্ঞা ও সূক্ষ্মতার সাথে পরিচালনা করতে হবে, যাতে সন্তানের সার্বিক বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের হৃদয়ে বিশ্বাস ও নৈতিকতার বীজ রোপণ করা যায়।
ধর্মীয় শিক্ষার ১০টি মূল নীতি:
১. বয়স ও বুদ্ধির স্তর অনুযায়ী শিক্ষা: ধর্মীয় বিষয়াদির শিক্ষা সন্তানের বয়স, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানসিক বিকাশের মাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
২. সন্দেহ নিরসন ও যুক্তিসম্মত ব্যাখ্যা: ধর্মীয় বিধি-নিষেধ পালনের কারণগুলি যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিন। সন্তানের ধর্মীয় প্রশ্ন ও সংশয়ের সঠিক সমাধান করুন।
৩. অন্ধ অনুসরণ এড়ানো: শুধুমাত্র রীতিনীতি বা অভ্যাসের ভিত্তিতে ধর্ম পালনের প্রবণতা থেকে বিরত থাকুন। যান্ত্রিকভাবে নির্দেশ মানার পরিবর্তে সচেতনতা গড়ে তুলুন।
৪. পরোক্ষ ও অনুকরণীয় পদ্ধতি: ধর্মীয় আচরণ নিজেই পালন করে সন্তানের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করুন। কথার চেয়ে কর্মের মাধ্যমে শিক্ষা দিন।
৫. প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করুন: সন্তান যেন নির্দ্বিধায় ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারে সে সুযোগ দিন। তাদের যুক্তিসঙ্গত উত্তর প্রদান করুন।
৬. সর্বাঙ্গীণ বিকাশের সংযোগ: ধর্মীয় শিক্ষাকে শারীরিক, বৌদ্ধিক, আবেগিক ও সামাজিক বিকাশের সাথে সম্পৃক্ত করুন।
৭. জোরজবরদস্তি পরিহার: ধর্মীয় অনুশাসন চাপিয়ে না দিয়ে বরং সহজবোধ্য ও প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করুন।
৮. প্রকৃতির মাধ্যমে চিন্তার উদ্রেক: সৃষ্টির নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করতে উৎসাহ দিন। প্রাকৃতিক বিস্ময়ের মাধ্যমে স্রষ্টার পরিচয় খুঁজে পেতে সাহায্য করুন।
৯. উপযুক্ত ধর্মীয় আদর্শের পরিচয়: সন্তানের বয়স ও মানসিকতায় উপযোগী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা ঘটনাগুলো তুলে ধরুন।
১০. সমন্বিত প্রচেষ্টা: পিতা-মাতা, শিক্ষক এবং গণমাধ্যম—সবাই যেন ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে একই রূপরেখা অনুসরণ করে।
সতর্কতা: শিক্ষাদানকারীদের কথার সাথে কাজের অসামঞ্জস্যতা সন্তানের ধর্মীয় বিশ্বাসে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সুতরাং, আচরণ ও নির্দেশের মধ্যে অবশ্যই সঙ্গতি বজায় রাখুন।
গ্রন্থ সূত্র: “পিতা-মাতা ও সন্তানের ধর্মীয় শিক্ষা”, পৃষ্ঠা- ৪৩
হাওজা নিউজ এজেন্সি/ রাসেল আহমেদ রিজভী
আপনার কমেন্ট