রবিবার ৪ জানুয়ারী ২০২৬ - ০৬:৩০
সিরাতুল মুস্তাকিমের প্রকৃত অর্থ হলো ইমাম আলী (আ.)–এর মারেফাত

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ইসমাইল নূরী বলেছেন, পবিত্র কোরআনের বহু আয়াত সরাসরি কিংবা আহলে বাইত (আ.)–এর সঙ্গে যৌথভাবে আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (আ.)–এর মর্যাদা, ফজিলত ও বেলায়াতের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র সারি প্রতিনিধি সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে, ১৩ রজব আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)–এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি বলেন, “কোরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাসে হযরত আলী (আ.)–এর অসংখ্য ফজিলত সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাফসিরকারদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রায় ৮০টি আয়াত বিশেষভাবে তাঁর শানে অবতীর্ণ হয়েছে, যেখানে তাঁর সঙ্গে অন্য কারও অংশীদারিত্ব নেই।”

তিনি আরও বলেন, কোরআনে হযরত আলী (আ.)–কে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.)–এর বর্ণনা অনুযায়ী, প্রায় ৩০০টি আয়াত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হযরত আলী (আ.)–এর বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।

আল্লামা মাজলিসি তাঁর গ্রন্থে এ ধরনের প্রায় ৩০০টি আয়াত সংকলন করেছেন, যা আমিরুল মুমিনিন (আ.)–এর মর্যাদা ও অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করে।

একইভাবে শেখ আবদুল্লাহ বাহরানি এই প্রসঙ্গে প্রায় ৪০টি আয়াত উল্লেখ করেছেন।

হাওজায়ে ইলমিয়ার এই শিক্ষাবিদ বলেন, হযরত আলী (আ.)–এর ফজিলত দুই প্রকার— বিশেষ ও যৌথ। যেসব আয়াত হযরত ফাতিমা (সা.আ.) ও আহলে বাইত (আ.)–এর সম্মিলিত ফজিলতের কথা বলে, সেগুলোও ইমাম আলী (আ.)–এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ, সূরা বাকারা’র ২০৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মত্যাগকারীদের কথা বলা হয়েছে; সূরা আদিয়াতে হযরত আলী (আ.)–এর নেতৃত্বে ইসলামী বাহিনীর বিজয়ের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে; সূরা মায়েদার ৫৫ নম্বর আয়াতে রুকু অবস্থায় সাহায্যপ্রার্থীর প্রতি হযরত আলী (আ.)–এর দান করার ঘটনাকে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, সূরা মায়েদার ৬৭ নম্বর আয়াত ‘আয়াতে তাবলিগ’ নামে পরিচিত, যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.)–কে হযরত আলী (আ.)–এর বেলায়াত ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই ঘোষণা সম্পন্ন হওয়ার পর সূরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াত অবতীর্ণ হয়, যেখানে দ্বীন পূর্ণতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সূরা মা‘আরিজ, সূরা ফাতিহাসহ আরও কয়েকটি আয়াতে বেলায়াতের গুরুত্ব এবং তা অস্বীকারের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

হুজ্জাতুল ইসলাম নূরী বলেন, “ইহদিনাস সিরাতা’ল মুস্তাকিম” অর্থ হলো সঠিক দ্বীনের পথে হিদায়াত প্রার্থনা— যে দ্বীন হযরত জিবরাইল (আ.) রাসূলুল্লাহ (সা.)–এর ওপর নাজিল করেছেন। আর “সিরাতাল্লাজিনা আন‘আমতা আলাইহিম” দ্বারা সেই সব মানুষকে বোঝানো হয়েছে, যারা আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত ও হেদায়াতপ্রাপ্ত— যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.) ও তাঁর অনুসারীরা।

তিনি বলেন, বিভিন্ন তাফসিরে ‘সিরাতে মুস্তাকিম’–কে বেলায়াতের পথ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন, ইমামকে চেনা এবং তাঁর পথ অনুসরণ করাই প্রকৃত সরল পথ। একইভাবে ইমাম মুহাম্মদ বাকির (আ.)–এর বর্ণনায় বলা হয়েছে, সরল পথ হলো আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর নির্দেশনার প্রতি অবিচল থাকা— যার বাস্তব রূপ হলেন আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.)।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সূরা ইয়াসিনের ১২ নম্বর আয়াতে ‘ইমামে মু্বিন’–এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাধারণভাবে ‘লাওহে মাহফুজ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে ইমাম বাকির (আ.)–এর বর্ণনা অনুযায়ী, এই আয়াতে ‘ইমামে মু্বিন’ বলতে আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.)–কে বোঝানো হয়েছে।

তিনি জানান, আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার পর আবু খলিফা বকর ও উমর রাসূলুল্লাহ (সা.)–এর কাছে ‘ইমাম মু্বিন’ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন— “এই ইমাম হলেন আমিরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবু তালিব (আ.)।”

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha