বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৫:৪৪
ওষুধ ছাড়াই উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণের তিন কার্যকর কৌশল

জীবনের নানা পরিস্থিতিতে মানুষ উদ্বেগ ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হয়। কখনো পারিবারিক, কখনো সামাজিক কিংবা ব্যক্তিগত নানা কারণে মনে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই উদ্বেগ কমাতে ওষুধের আশ্রয় নেন। তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন না করে কিছু সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতির মাধ্যমে উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা যেতে পারে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরানের রেডিও মা'আরেফের ‘পারসেমান-এ তারবিয়াতি’ অনুষ্ঠানে উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হাওযায়ে ইলমিয়ার অধ্যক্ষ ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিভিত্তিক কাউন্সেলিং বিশেষজ্ঞ—  হুজ্জাতুল ইসলাম রেজা ইউসুফজাদে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি প্রথমেই সতর্ক করে বলেন, চিকিৎসক বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ সেবন অনেক সময় উপকারের পরিবর্তে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই উদ্বেগের মাত্রা ও কারণ অনুযায়ী প্রয়োজনে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

এর পাশাপাশি উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে তিনি তিনটি সহজ কৌশলের কথা উল্লেখ করেন।

১. উদ্বেগকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন
উদ্বেগ অনুভব করলে প্রথমেই নিজেকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ‘আমি কেন উদ্বিগ্ন হচ্ছি?’—এভাবে নিজেকে বারবার প্রশ্ন করে বা নিজের ওপর বিরক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলা উচিত নয়।

জীবনে নানা ধরনের চাপ ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক। তাই উদ্বেগের অনুভূতি তৈরি হলে সেটিকে অস্বীকার না করে শান্তভাবে গ্রহণ করতে হবে। নিজের অনুভূতিকে বুঝতে শেখা মানসিক প্রশান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

২. অতিরিক্ত খবর ও উদ্বেগজনক স্মৃতি থেকে নিজেকে দূরে রাখুন
উদ্বেগ বাড়ানোর অন্যতম কারণ হতে পারে অতিরিক্ত সংবাদ অনুসরণ করা এবং বারবার দুশ্চিন্তাজনক ঘটনা বা স্মৃতির কথা মনে করা।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কারণে মানুষ মুহূর্তে অসংখ্য ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে। কিন্তু প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা আমাদের জন্য জরুরি নয়। বিশেষ করে যেসব বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেগুলো নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে মানসিক চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।

এ কারণে প্রতিদিন খবর জানার জন্য ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মতো একটি নির্দিষ্ট সময় রাখা যেতে পারে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংবাদ গ্রহণ এবং বারবার উদ্বেগ সৃষ্টিকারী বিষয় নিয়ে চিন্তা করা থেকে বিরত থাকা মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

৩. গভীর ও নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করুন
উদ্বেগ কমাতে তৃতীয় যে পদ্ধতিটি উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো ডায়াফ্রাম্যাটিক ব্রিদিং বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন। এটি একটি সহজ অনুশীলন, যা বসে কিংবা শুয়ে করা যায়।

প্রথমে শরীর ও পেশিগুলোকে শিথিল করুন। এরপর নাক দিয়ে ধীরে ৪ সেকেন্ড ধরে গভীরভাবে শ্বাস নিন। এ সময় চেষ্টা করতে হবে যেন বুকের পরিবর্তে পেটের অংশটি প্রসারিত হয়। এরপর ৭ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখুন। সবশেষে ৮ সেকেন্ড ধরে ধীরে ও নিঃশব্দে শ্বাস ছাড়ুন।

অর্থাৎ, শ্বাস নেওয়ার তুলনায় শ্বাস ছাড়ার সময় দীর্ঘ হবে। নিয়মিত ও শান্তভাবে এই অনুশীলন করলে উদ্বেগের মুহূর্তে নিজেকে স্থির করতে সহায়তা পেতে পারেন।

মানসিক প্রশান্তির যত্ন নেওয়া জরুরি
উদ্বেগ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতির অংশ হলেও তা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তীব্র আকার ধারণ করে বা দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস, অপ্রয়োজনীয় তথ্য ও উদ্বেগজনক বিষয় থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখা এবং নিজের অনুভূতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার মতো অভ্যাস মানসিক স্থিরতা অর্জনে সহায়ক হতে পারে। একজন মুমিনের জন্য এর সঙ্গে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল, দোয়া-জিকির ও ইবাদতের মাধ্যমে অন্তরের প্রশান্তি অনুসন্ধান করাও গুরুত্বপূর্ণ।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha