হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ মেহর তারিখে কায়েনের জাফরিয়া মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত নৈতিকতা বিষয়ক এক অধিবেশনে বক্তব্য দেন হাওজা ইলমিয়ার শিক্ষক হুজ্জাতুল ইসলাম আলী বনি-খাজায়ি। তিনি ধর্মীয় শিক্ষায় আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনচরিতের গুরুত্ব এবং ঈমানদারসুলভ জীবনধারা গঠনে এর ভূমিকা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি পবিত্র ইমামগণের (আ.) ব্যক্তিত্বকে সামগ্রিকভাবে জানার এবং তাঁদের জীবনের বিভিন্ন দিক থেকে বেছে বেছে কিছু অংশের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা পরিহারের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনচরিত অধ্যয়ন মানুষের জ্ঞান ও উপলব্ধি বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পবিত্র ইমামগণের জীবন পর্যালোচনার মাধ্যমে মানুষ সঠিকভাবে জীবনযাপন করার দিকনির্দেশনা পেতে পারে। এর ফলে তার চিন্তাভাবনা ও আচরণে পরিবর্তন আসার সুযোগ তৈরি হয়। তাই তাঁদের জীবনচরিত অধ্যয়নকে শুধু ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনা কিংবা ফজিলত তুলে ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁদের বাস্তব জীবনাচরণ ও আচরণগত আদর্শ গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।
আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ মানে ঐতিহাসিক জীবনের বাহ্যিক অনুকরণ নয়
হাওজা ইলমিয়ার এই শিক্ষক আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের অর্থ ব্যাখ্যা করে বলেন, ইমামগণের (আ.) অনুসরণ করার অর্থ এই নয় যে, তাঁদের যুগের পোশাক-পরিচ্ছদ, জীবনযাপনের বাহ্যিক ধরন কিংবা ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও পাত্রপাতিল হুবহু বর্তমান জীবনে পুনরাবৃত্তি করতে হবে। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁদের জীবনের সেই মূলনীতি ও পদ্ধতিগুলো উপলব্ধি করা, যেগুলো তাঁদের জীবনকে উন্নতি, আধ্যাত্মিক বিকাশ, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণের পথে পরিচালিত করেছিল।
হুজ্জাতুল ইসলাম বনি-খাজায়ি আরও বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে মানুষের জীবনযাপনের পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। তাই সময়ের বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা না করে অতীতের জীবনের প্রতিটি বাহ্যিক দিক বর্তমান সমাজে হুবহু অনুসরণ করার প্রত্যাশা করা যায় না। বরং আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনকে পরিচালিত করা মূল চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ, বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলার পদ্ধতি এবং মানুষকে উন্নতি ও পূর্ণতার দিকে নিয়ে যায়-এমন নীতিগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জীবনচরিত অধ্যয়নের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জীবনের বাস্তব মানদণ্ড সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। মানুষ যখন আহলে বাইত (আ.)-এর আচরণগত নীতিগুলো উপলব্ধি করে নিজের জীবনের পরিস্থিতি অনুযায়ী সেগুলো প্রয়োগ করতে পারবে, তখন ইতিহাস অধ্যয়ন কেবল তথ্য সংগ্রহের কাজ হয়ে থাকবে না; বরং তা আচরণ সংশোধন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করার কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠবে।
আনুষ্ঠানিক উপলক্ষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে ইমামগণের (আ.) জীবনের সব দিক জানা জরুরি
হাওজা ইলমিয়ার এই শিক্ষক বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আহলে বাইত (আ.)-সম্পর্কিত জ্ঞান অনেক সময় তাঁদের জন্ম ও শাহাদাতের দিবস পালনের মতো ধর্মীয় উপলক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ধর্মীয় দিবসগুলো পালন করা অবশ্যই মূল্যবান ও প্রয়োজনীয়; তবে পবিত্র ইমামগণের (আ.) ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের সামগ্রিক জ্ঞানকে শুধু এসব উপলক্ষ কিংবা তাঁদের জীবনের বিশেষ কিছু ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করতে হবে। প্রত্যেক ইমামের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাবলির বাইরেও নানা ক্ষেত্রে বিস্তৃত জীবনাদর্শ রয়েছে। এসব দিক সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা অর্জন করলে তাঁদের শিক্ষা আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করা এবং সচেতনভাবে তাঁদের অনুসরণ করা সম্ভব হবে।
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ব্যক্তিত্ব ও আশুরার ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরে হুজ্জাতুল ইসলাম বনি-খাজায়ি বলেন, আশুরা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ধারক অধ্যায়। তবে তাঁর সমগ্র ব্যক্তিত্বকে শুধু এই ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা যায় না। ইমাম হুসাইন (আ.)-কে সামগ্রিকভাবে জানতে হলে তাঁর জীবনের অন্যান্য দিক, আচরণ ও জীবনাদর্শও অধ্যয়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ধর্মীয় আদর্শ ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান মানুষের আচরণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁদের জীবনের বিভিন্ন দিক যত বেশি নির্ভুল, সামগ্রিক ও বাস্তবভিত্তিকভাবে তুলে ধরা হবে, মানুষ তত বেশি সচেতনভাবে তাঁদের অনুসরণ করতে পারবে এবং ধর্মীয় শিক্ষাকে বাস্তব আচরণে রূপ দিতে সক্ষম হবে।
আদর্শ ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞান সচেতনভাবে তাঁদের অনুসরণের পথ তৈরি করে
হাওজা ইলমিয়ার এই শিক্ষক জীবনযাপনের ধরন গঠনে আদর্শ ব্যক্তিত্বের ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, মানুষ সাধারণত সেই ব্যক্তিত্বের দ্বারা প্রভাবিত হয়, যার সম্পর্কে তার ভালোভাবে জানা রয়েছে। এ কারণে আদর্শ ব্যক্তিত্বের পরিচয় তুলে ধরা শুধু তাঁদের সম্পর্কে কিছু তথ্য জানানো নয়; বরং তা মানুষের পছন্দ, আচরণ এবং দৈনন্দিন অভ্যাসেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তরুণ প্রজন্মের জীবনে পরিচিত ব্যক্তিত্বদের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যখন কোনো ব্যক্তিকে নিজের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে, তখন পোশাক-পরিচ্ছদ, দৈনন্দিন কর্মসূচি, ঘুম, খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য অভ্যাসের ক্ষেত্রেও তার অনুসরণ করতে পারে। এ থেকেই বোঝা যায়, মানুষের আচরণ ও জীবনধারা গঠনে আদর্শ ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং তাঁদের পরিচয় তুলে ধরার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
হুজ্জাতুল ইসলাম বনি-খাজায়ি জোর দিয়ে বলেন, আহলে বাইত (আ.)-এর পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তাঁদের জীবনের বিভিন্ন দিক ও ব্যক্তিত্বের সব মাত্রার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম কেবল কয়েকটি ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে পরিচিত থাকার পরিবর্তে তাঁদের জীবনাদর্শ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারবে এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে।
তিনি আহলে বাইত (আ.)-এর বাণীর সৌন্দর্য ও উৎকর্ষ মানুষের সামনে তুলে ধরার বিষয়ে ইমাম রেজা (আ.)-এর একটি বর্ণনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আহলে বাইত (আ.)-এর শিক্ষার যথাযথ পরিচিতি মানুষের মধ্যে তাঁদের জ্ঞান ও আদর্শ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং এই মাযহাবের প্রতি আকর্ষণ জোরদার করতে পারে। এ কারণে ইমামগণের (আ.) শিক্ষা ও জীবনাদর্শ এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, যাতে ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে হতাশা ও অসহায়ত্বের অনুভূতি থেকে দূরে রাখে
হাওজা ইলমিয়ার শিক্ষক হুজ্জাতুল ইসলাম আলী বনি-খাজায়ি তাঁর বক্তব্যের অন্য এক অংশে উন্নতি ও বিকাশের পথে এগিয়ে যেতে এবং আশাবাদী থাকতে ধর্মীয় আদর্শ ব্যক্তিত্বদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে হতাশা কিংবা জীবনের পথচলা শেষ হয়ে গেছে-এমন অনুভূতির দিকে আহ্বান করে না। বরং নিজের সক্ষমতা উপলব্ধি করা, সঠিক পথ বেছে নেওয়া এবং সমস্যাগুলো অতিক্রম করার জন্য প্রচেষ্টা চালানোর দিকনির্দেশনা দেয়।
পবিত্র কোরআনের সূরা যুমারের ৫৩ নম্বর আয়াতের মর্মার্থ-আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়ার নির্দেশ-উল্লেখ করে হুজ্জাতুল ইসলাম বনি-খাজায়ি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়ে রাখা এবং তাকে অসহায়ত্ব ও অচলাবস্থার অনুভূতিতে নিমজ্জিত হওয়া থেকে রক্ষা করা। তাই যোগ্য আদর্শ ব্যক্তিত্বদের পরিচয় এমনভাবে তুলে ধরতে হবে, যাতে তা মানুষের প্রেরণা বৃদ্ধি, নিজস্ব সক্ষমতা উপলব্ধি এবং উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।
নিজের সামর্থ্য উপলব্ধি করা এবং উপযুক্ত আদর্শ বেছে নেওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে তিনি দাবা চ্যাম্পিয়ন আলেকজান্ডার আলেখিনকে নিয়ে একটি গল্পের উল্লেখ করেন। বক্তব্যে বর্ণিত ওই ঘটনা অনুযায়ী, একজন অভিজ্ঞ দাবাড়ু অপরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে খেলতে গিয়ে পরাজিত হন। পরে তিনি উপলব্ধি করেন, তাঁর প্রতিপক্ষ এ বিষয়ে তাঁর চেয়ে বেশি জ্ঞান ও দক্ষতার অধিকারী ছিলেন।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে হাওজা ইলমিয়ার শিক্ষক ব্যক্তি ও তাঁদের সক্ষমতা যথাযথভাবে চেনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সঠিক জ্ঞানের ভিত্তিতে পথ ও আদর্শ নির্বাচন করা উচিত। কারণ যথাযথ উপলব্ধি মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে এবং তাকে ভুল সিদ্ধান্ত থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।
ইতিহাসের বাহ্যিক ঘটনাবলির ঊর্ধ্বে উঠে আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনাদর্শ মূল্যায়ন জরুরি
হুজ্জাতুল ইসলাম বনি-খাজায়ি পবিত্র ইমামগণের (আ.) জীবনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, মানুষের চরিত্র গঠন ও সমাজ বিনির্মাণে তাঁদের জীবনাদর্শের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি।
কারবালার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ঐতিহাসিক ঘটনাকে শুধু তার বাহ্যিক রূপ কিংবা স্বল্পমেয়াদি ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করলে সাফল্য ও ব্যর্থতা নির্ধারণের পূর্ণাঙ্গ মানদণ্ড পাওয়া যায় না। কোনো ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রকৃত অবস্থান উপলব্ধি করতে হলে এর পরিণতি, শিক্ষামূলক প্রভাব এবং ইতিহাসের গতিপথে এর অবদানও বিবেচনায় নিতে হবে।
হাওজা ইলমিয়ার এই শিক্ষক আরও বলেন, আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনাদর্শ পর্যালোচনার সময় রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির পাশাপাশি মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা, ছাত্রদের প্রশিক্ষণ, যোগ্য ব্যক্তিত্ব তৈরি এবং ধর্মীয় জ্ঞান প্রচারের বিষয়গুলোও বিবেচনা করতে হবে। এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পবিত্র ইমামগণের (আ.) কার্যক্রম সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা অর্জনে সহায়তা করে এবং তাঁদের অবদানকে কেবল বাহ্যিক ও সাময়িক ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রবণতা থেকে রক্ষা করে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের অনুসারীর সংখ্যা কিংবা তাঁর আন্দোলনের বাহ্যিক বিস্তৃতি একাই তাঁর কার্যক্রম মূল্যায়নের পূর্ণাঙ্গ মানদণ্ড হতে পারে না। বরং তিনি কীভাবে মানুষকে গড়ে তুলেছেন, তাঁদের ওপর তাঁর প্রভাব কতটা গভীর এবং তাঁর কার্যক্রমের স্থায়ী ফলাফল কী-এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা জরুরি।
ইমাম বাকির (আ.)-এর জ্ঞান ও নৈতিক মর্যাদা নিয়ে ঐতিহাসিক বর্ণনা
বক্তব্যের আরেক অংশে ওই শিক্ষক উমাইয়া শাসনামলে ইমাম মুহাম্মদ বাকির (আ.)-এর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কার্যক্রম পরিচালনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি মদিনার গভর্নরের সঙ্গে তৎকালীন খলিফার পত্রবিনিময়সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক প্রতিবেদনের কথা তুলে ধরেন।
বক্তব্যে উদ্ধৃত বর্ণনা অনুযায়ী, শাসকগোষ্ঠী যখন ইমাম বাকির (আ.)-এর মর্যাদা ও কার্যক্রম সম্পর্কে সংবেদনশীল ছিল, তখন মদিনার গভর্নরের পাঠানো একটি চিঠিতে তাঁর তাকওয়া, মানুষের প্রতি আন্তরিকতা, জ্ঞান ও ইবাদতের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে হুজ্জাতুল ইসলাম বনি-খাজায়ি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে বাস্তব আচরণের প্রভাবের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনাদর্শ তাঁদের মানুষের সঙ্গে আচরণ ও সম্পর্ক স্থাপনের পদ্ধতির মধ্যেও খুঁজে পাওয়া যায়। কারণ একজন মানুষের নৈতিক চরিত্র ও জ্ঞান এমনকি তাঁর সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে-এমন ব্যক্তিদের মধ্যেও প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।
ধর্মের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের পরিচয় তুলে ধরার জন্য শুধু তাঁদের ফজিলত বর্ণনা কিংবা নৈতিক উপদেশ দেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং তাঁদের বাস্তব জীবনযাপন ও কর্মপদ্ধতিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। দায়িত্বশীল আচরণ, উন্নত নৈতিকতা এবং অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার পদ্ধতি-এসবই আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনাদর্শ উপলব্ধি করার গুরুত্বপূর্ণ দিক।
আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনাদর্শের সঙ্গে সমকালীন সমাজের সমস্যাগুলোর সংযোগ
হাওজা ইলমিয়ার এই শিক্ষক সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আহলে বাইত (আ.)-এর শিক্ষার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে বর্তমান জীবনে পবিত্র ইমামগণের (আ.) জীবনাদর্শের বাস্তব প্রয়োগ পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা এবং সামাজিক দায়িত্বের মতো ক্ষেত্রগুলোর উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনাদর্শ থেকে প্রাপ্ত মূলনীতি ও মূল্যবোধ এসব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যক্রম পরিচালনার সময় কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, জীবনাদর্শ অধ্যয়নকে কেবল ধর্মীয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা কিংবা ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলোর সঙ্গে এর সম্পর্ক স্পষ্ট হলে এই অধ্যয়ন আরও কার্যকর হয়ে উঠবে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত আচরণ সংশোধন, দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্পর্ক উন্নত করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
হুজ্জাতুল ইসলাম বনি-খাজায়ি বিভিন্ন প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় শিক্ষার যথাযথ পরিচিতি তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি ইসলামী জ্ঞানের সামগ্রিক দিকগুলো বিবেচনায় নেওয়া এবং ইসলামী শিক্ষার সীমিত বা খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরা থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ধর্মের সামগ্রিক পরিচিতি ও আহলে বাইত (আ.)-এর বাস্তব জীবনাদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ
বক্তব্যের উপসংহারে হুজ্জাতুল ইসলাম আলী বনি-খাজায়ি পুনরায় আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনাদর্শ সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করা এবং ধর্মীয় জ্ঞানকে বাস্তব আচরণে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, পবিত্র ইমামগণের (আ.) জীবনাদর্শের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতি, জীবনযাপনের মান সংশোধন এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জোরদার করার পথ সুগম করবে।
আপনার কমেন্ট