হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, নার্স দিবস উপলক্ষে বিপ্লবের শহীদ নেতা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নার্সিংকে সমাজের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত মূল্যবান, কঠিন ও অপরিহার্য পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ নেতা-তাঁর নার্স সমাজ সম্পর্কে প্রদত্ত বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ সম্মানিত পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।
স্বাস্থ্য-জীবনের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
স্বাস্থ্য হলো সমাজের জীবনের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই প্রসিদ্ধ হাদিস-
«نعمتان مجهولتان الصّحّة و الأمان»
অর্থাৎ, ‘দুটি নিয়ামতের মূল্য মানুষ প্রায়ই উপলব্ধি করতে পারে না-সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা।’
বাস্তবিক অর্থেই এই হাদিস একটি মৌলিক ও জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়ের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা-উভয়ই মহান নিয়ামত। মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত এসব নিয়ামত থেকে বঞ্চিত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণত এগুলোর গুরুত্ব ও মূল্য উপলব্ধি করতে পারে না। যেমন-বাতাস ও শ্বাস-প্রশ্বাস। মানুষ যতক্ষণ স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারে, ততক্ষণ এই বিনামূল্যের ও সর্বত্র বিদ্যমান নিয়ামতের গুরুত্ব অনুভব করে না। কিন্তু শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিলে তখনই সে বুঝতে পারে, কত বড় নিয়ামত তার হাতছাড়া হয়েছে।
(১ মে ২০১০)
সমাজের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নার্সদের ভূমিকা
চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রকৃতপক্ষে সমাজের জন্য এই মহান নিয়ামত নিশ্চিত করে। আর এ ক্ষেত্রে নার্সদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য।
(১ মে ২০১০)
স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নার্সরা অত্যন্ত প্রভাবশালী
নার্সরা এমন একটি পেশাজীবী শ্রেণি, যাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নার্স এবং ধাত্রীদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিশাল। রোগীর পাশে যদি একজন সহানুভূতিশীল ও মমতাময়ী নার্স না থাকেন, তাহলে চিকিৎসকের চিকিৎসাও রোগীর ওপর কার্যকর প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হতে পারে-এমন আশঙ্কা যথেষ্ট রয়েছে।
সেই স্বর্গীয় সত্তার মতো মানুষটি, যিনি রোগীকে অসুস্থতার দীর্ঘ ও কঠিন পথ এবং রোগের তীব্রতা অতিক্রম করতে সহায়তা করেন, তিনি হলেন নার্স।
আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে যাঁরা কখনো অসুস্থ হয়েছেন, গুরুতর রোগে ভুগেছেন কিংবা জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে গেছেন-আমিসহ-তাঁরা বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নার্সদের এই ভূমিকা উপলব্ধি করেছেন এবং এখনো করেন।
নার্সদের ভূমিকা হলো জীবন পুনরুদ্ধারের ভূমিকা; তাঁরা মানুষকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিতে সহায়তা করেন।
(৯ মে ২০০৯)
নার্স-রহমতের ফেরেশতা
নার্সরা সব ধরনের রোগী ও কর্মক্ষমতা হারানো মানুষের ব্যথা-বেদনার সঙ্গী। যেসব মানুষ কষ্ট ও যন্ত্রণার মুহূর্তে একজন সঙ্গী এবং সেবকের প্রয়োজন অনুভব করেন, নার্সরা তাঁদের সেই কঠিন সময়ের সঙ্গী হয়ে থাকেন।
(১৫ জুন ২০০৫)
প্রিয় নার্সরা সত্যিকার অর্থেই সমাজের সব অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের পরিচর্যাকারীদের জন্য রহমতের ফেরেশতা।
(২৪ জুন ২০০৪)
একজন নার্স রোগীর জন্য রহমতের ফেরেশতা। যখন রোগীর সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, যখন এমনকি তাঁর স্ত্রী বা স্বামী, সন্তান কিংবা মা-বাবাও শয্যাপাশে উপস্থিত থাকেন না, তখন আল্লাহর পর তাঁর আশার কেন্দ্র হয়ে ওঠেন নার্স।
সেই নার্সই যেন আসমানি ফেরেশতা ও রহমতের দূতের মতো রোগীর শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা, সমস্যা এবং প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দেন। এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহর কাছে এসব কাজ কখনো বিস্মৃত হয় না।
অবশ্য এমনও হতে পারে, আপনার এই পরিশ্রম কেউ দেখছে না। আপনারা যে কত পরিশ্রম করেন এবং কত কষ্ট সহ্য করেন, তার অনেক কিছুই মানুষের চোখে পড়ে না। কখনো কখনো বিষণ্ন হৃদয়ের কোনো রোগীর প্রতি আপনাদের একটি হাসিই তাঁর মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। কিন্তু সেই হাসি কে দেখতে পায়?
(২৪ জুন ২০০৪)
নার্সিং-সবচেয়ে কঠিন পেশাগুলোর একটি
নার্স হলেন এমন একজন মমতাময়ী মানুষ, যিনি নিজের আচরণ, নৈতিকতা ও সেবার মাধ্যমে রোগীকে সুস্থতার পথে এগিয়ে দেন। চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসার কাজ সম্পন্ন করলেও নার্সিং সেবা ছাড়া রোগীর সুস্থতা নিশ্চিত করা কঠিন।
যাঁরা মমতাময়ী নার্সদের সেবা পেয়েছেন, তাঁরা জানেন রোগীদের সুস্থতা ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নার্সদের ভূমিকা কতটা কার্যকর।
এই মানুষটি, যিনি ফেরেশতার মতো কাজ করেন, তাঁকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বিভিন্ন ধরনের রোগী, শয্যাশায়ী ও যন্ত্রণাক্লিষ্ট রোগীর রূঢ় আচরণ, রোগীর শারীরিক অবস্থাজনিত সমস্যা, জটিল রোগ, কখনো কখনো সংক্রামক ব্যাধি এবং হাসপাতালের বিষণ্ন পরিবেশ-এসব বিষয় নার্সিং পেশাকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।
পেশাটির মর্যাদা ও পবিত্রতা থাকা সত্ত্বেও এসব কারণে এটি সবচেয়ে কঠিন পেশাগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়।
(৩ আগস্ট ২০০১)
নার্সিং-সবচেয়ে মূল্যবান পেশাগুলোর একটি
মানুষের বিভিন্ন শ্রেণি একে অপরকে যে সেবা প্রদান করে, সেসব সেবার মূল্য যদি এভাবে নির্ধারণ করা হয় যে-
- যে সেবা সরাসরি মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত, তার মূল্য বেশি;
- যে সেবার মাধ্যমে অন্য মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করা হয়, তার মূল্য বেশি;
- যে সেবা প্রদান করতে গিয়ে সেবাদানকারীকে বেশি কষ্ট সহ্য করতে হয়, তার মূল্য বেশি;
- আর যে সেবা জ্ঞান, উপলব্ধি, সচেতনতা ও শিক্ষার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়, তার মূল্যও বেশি;
তাহলে আমার মনে হয়, নার্সিং সেবা সবচেয়ে মূল্যবান পেশা ও মানবসেবামূলক কাজগুলোর অন্যতম হবে।
কারণ, নার্সরা সরাসরি মানুষের সঙ্গে কাজ করেন। তাঁরা এমন একজন মানুষের দুঃখের সঙ্গী হন, যিনি সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করেন। পাশাপাশি, আল্লাহর রহমতে এই কাজ জ্ঞান, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক দক্ষতার ভিত্তিতেও পরিচালিত হয়।
(১২ অক্টোবর ১৯৯৪)
নার্সরা সব সময় মানসিক ও আবেগগত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যান। বিষয়টি শুধু তাঁদের শারীরিক ক্লান্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানসিক অবসাদ, রোগী ও যন্ত্রণাক্লিষ্ট মানুষের মুখোমুখি হওয়া এবং তাঁদের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক সুস্থতার জন্য দায়িত্ব পালনের অনুভূতি-সব মিলিয়ে এটি অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও কঠিন কাজ।
এই গুরুদায়িত্ব নার্সরাই নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
আপনারা নিশ্চিত থাকুন, রোগীর প্রতি কর্তব্যবোধ নিয়ে এই কাজে ব্যয় করা প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি সেকেন্ড ও প্রতিটি মিনিটের বিনিময়ে আপনারা মহান আল্লাহর কাছ থেকে নেকি ও প্রতিদান লাভ করেন।
আল্লাহর হিসাবের খাতায় একটি সেকেন্ডও হারিয়ে যায় না। কোনো নার্স যখন রোগীর শয্যাপাশে কঠিন মুহূর্তগুলো অতিবাহিত করেন, তখন তাঁর সেই কষ্ট মহান আল্লাহর হিসাব থেকে বাদ পড়বে-এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই।
আপনারা যে প্রতিটি মুহূর্ত ব্যয় করেন, যে প্রতিটি প্রচেষ্টা চালান এবং প্রতিকূলতার মুখে নিজেদের প্রবৃত্তি ও আবেগকে সংযত রাখেন-এসবই নেকি ও প্রতিদানযোগ্য কাজ। মহান আল্লাহ এই প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব সংরক্ষণ করেন।
এই কঠিন কাজগুলোর প্রভাব অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত।
একটি বর্ণনা
একটি বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ মানুষের শয্যাপাশে যায়, সে যেন মহান আল্লাহর রহমতের মধ্যে নিমজ্জিত হয়।
কেউ কেউ হয়তো বিস্মিত হতে পারেন-একজন অসুস্থ ব্যক্তির কাছে যাওয়ার মধ্যে এমন কী বিশেষত্ব রয়েছে?
কিন্তু আপনারা, যারা রোগীর প্রয়োজন এবং নিজেদের কাজের প্রভাব সম্পর্কে অবগত, তাঁরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারেন কেন রোগীর পরিচর্যাকারী ও নার্সদের জন্য এত বড় প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে। কারণ, তাঁদের কাজের প্রভাব এমন, যা সাধারণ হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না; বরং তা প্রচলিত হিসাবের ঊর্ধ্বে।
কখনো কখনো রোগীকে মানসিকভাবে সাহস জোগানো তাঁর জন্য ওষুধ দেওয়ার চেয়েও বেশি জীবনদায়ী ও কার্যকর হতে পারে। আর এই মনোবল আপনারাই জোগান।
আমরা দোয়ায় পড়ি:
«اللهم إني أسألك موجبات رحمتك»
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার রহমত লাভের উপায়সমূহ আপনার কাছে প্রার্থনা করছি।’
মহান আল্লাহর রহমত কোনো কারণ ছাড়া বা হিসাবহীনভাবে কারও কাছে আসে না। তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে হয়, যেন তিনি আমাদের এমন কাজ করার তাওফিক দেন, যা তাঁর রহমত লাভের কারণ হয়ে ওঠে। অর্থাৎ, আমাদের এমন কাজ করতে হবে, যা আল্লাহর রহমত আকর্ষণ করে; এরপর তিনি আমাদের ওপর তাঁর রহমত বর্ষণ করবেন।
রোগীর সেবা ও পরিচর্যা এমনই একটি কাজ, যা আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। এটি অত্যন্ত মূল্যবান ও বিরল সুযোগ।
(২৪ জুন ২০০৪)
নার্সরা! কাজ করুন নিখুঁত ও পরিপূর্ণভাবে
নার্স এবং সম্মানিত ধাত্রীদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, তাঁরা যেন নিজেদের এই সেবা ও মহান নিয়ামতের মূল্য উপলব্ধি করেন। মানুষ যেমন তাঁদের সম্মানের চোখে দেখবে, তেমনি তাঁদেরও নিজেদের পেশাকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখতে হবে।
নিজের কাজকে সম্মান করা এবং নিজের মর্যাদা উপলব্ধি করার বিষয়টি সব পেশাজীবী শ্রেণির কাজের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আমাদের প্রথম পরামর্শ হলো, প্রত্যেকে যেন নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্বকে আগ্রহ ও ভালোবাসার সঙ্গে গ্রহণ করেন, এর মূল্য উপলব্ধি করেন, গুরুত্ব দেন এবং কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করেন।
আমরা বারবার মহানবী (সা.)-এর এই বাণীটি উল্লেখ করেছি:
«رحم الله امرأ عمل عملاً فأتقنه»
অর্থ: ‘আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে কোনো কাজ সম্পাদন করে তা নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে।’
এই নির্দেশনা আমার, আপনাদের এবং প্রত্যেক শ্রমিক, শিক্ষক, নার্সসহ সব পেশা, কর্মক্ষেত্র ও দায়িত্বে নিয়োজিত মানুষের জন্য প্রযোজ্য। আমরা যে কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, তা যেন নিখুঁত, যথাযথ ও পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করি।
(৯ মে ২০০৯)
আমি আমাদের প্রিয় নার্সদের-পুরুষ ও নারী উভয়কেই-বলতে চাই, আপনারা যে এই মহান সুযোগ লাভ করেছেন, এই বড় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং মূল্যবান সেবা প্রদান করছেন, সেই সেবাকে নিজেরাও সম্মান করুন।
কোনো অবহেলা, ভুল কিংবা অনুপযুক্ত আচরণের মাধ্যমে যেন এত মহান ও মূল্যবান কাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
আপনারা যত বেশি এবং যত সঠিকভাবে এই সেবা প্রদান করবেন, মানুষের জীবনযাত্রার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা তত উন্নত হবে এবং আপনাদের প্রতিদান ও সওয়াবও তত বৃদ্ধি পাবে।
(১২ অক্টোবর ১৯৯৪)
নার্সদের জন্য নৈতিক সনদ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা
অবশ্যই আপনাদের দায়িত্বও অনেক ভারী। তাই সেই দায়িত্বের প্রতিও মনোযোগ দিতে হবে। চিকিৎসকদের নৈতিকতার মতো নার্সিংয়ের নৈতিকতাও একটি অবশ্যপালনীয় কর্তব্য।
আপনাদের প্রতিদান অনেক বড়, কিন্তু আপনাদের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুতর। কারণ, একজন অসুস্থ মানুষ কোনো যন্ত্র নন; তিনি লোহা, ইস্পাত, প্যাঁচ ও নাট-বল্টুর সমষ্টিও নন। তিনি শুধু একটি শরীর নন।
মানুষের আত্মা, অনুভূতি ও আবেগ-বিশেষ করে অসুস্থতা ও যন্ত্রণার সময়-বিশেষ যত্ন, স্নেহ ও কোমল আচরণের প্রয়োজন অনুভব করে।
কখনো কখনো আপনাদের একটি হাসির মূল্য রোগীর জন্য প্রয়োগ করা ওষুধ ও চিকিৎসার চেয়েও বেশি হতে পারে; এর প্রভাবও হতে পারে আরও গভীর।
রোগী মানসিক অস্থিরতা ও অস্বস্তির মধ্যে থাকেন-বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা। তাঁদের সাহায্য করার অর্থ শুধু তাঁদের শরীরের চিকিৎসা করা নয়। ওষুধ, চিকিৎসা, ইনজেকশন এবং বিভিন্ন চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে শরীরের চিকিৎসা করতে হয়; কিন্তু তাঁদের আত্মা ও মনকে সুস্থ করতে হয় ভালোবাসা, স্নেহ, কোমলতা ও মমতার মাধ্যমে।
কখনো কখনো এই মানসিক চিকিৎসা শারীরিক চিকিৎসার স্থানও নিতে পারে। এটি যেমন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত, তেমনি অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও প্রমাণিত যে মানুষের মানসিক আনন্দ এবং স্নায়বিক ও আবেগগত প্রশান্তি তাঁর শরীরের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই বিষয়টি আপনাদের হাতে রয়েছে; এটি নার্সদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
প্রকৃতপক্ষে, নার্সদের জন্য একটি নৈতিক সনদ প্রণয়ন করা উচিত। নার্সিংয়ের অঙ্গীকার ও নৈতিক চুক্তি তাঁদের শেখানো এবং প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
প্রত্যেক নার্সকে নিজের কাজের মহান মর্যাদা উপলব্ধি করতে হবে। কারণ, কাজের এই মহান মর্যাদার সঙ্গে তাঁর নিজের ব্যক্তিত্বের মর্যাদাও সম্পর্কিত। তাঁকে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
(১ মে ২০১০)
দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণের ভূমিকা
যাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তাঁদের এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নার্সিং পেশাকে মূল্যায়ন করতে হবে এবং এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সাধারণ মানুষ সমাজের সব পর্যায়ের সেবাদানকারীদের যেভাবে সম্মানের চোখে দেখেন, নার্সিং পেশা এবং এই কঠোর পরিশ্রমে নিয়োজিত ব্যক্তিদেরও সেভাবেই সম্মান করা উচিত।
নার্সদের সম্মান করা অপরিহার্য। নার্সদের অনুভব করতে হবে যে তাঁদের পেশা, দায়িত্ব ও প্রচেষ্টাকে জনগণ, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গুরুত্ব দেন। এই উপলব্ধি তাঁদের পেশাগত জীবনের কঠিন পরিস্থিতিগুলো মোকাবিলা করা সহজ করে তোলে।
(৩ আগস্ট ২০০১)
সমাজের সংস্কৃতিতে নার্সদের কাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে
সমাজের সাধারণ মানুষের উপলব্ধি ও প্রচলিত সংস্কৃতিতে এই বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার যে, সমাজের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে নার্সিং পেশা সর্বোচ্চ গুরুত্বের দাবিদার।
অর্থাৎ, সেরা চিকিৎসক ও শল্যচিকিৎসকেরা যদি রোগীর চিকিৎসা সর্বোত্তমভাবে সম্পন্ন করেন, কিন্তু সেই রোগীর যথাযথ পরিচর্যা না করা হয়, তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই দক্ষ চিকিৎসক বা শল্যচিকিৎসকের কাজও নিষ্ফল হয়ে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রোগীর সুস্থতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে নার্সিং ও রোগীর পরিচর্যার ভূমিকা প্রথম সারির-এটি একজন দক্ষ চিকিৎসকের ভূমিকার সমপর্যায়ের।
অনেকেই এই বিষয়টি উপেক্ষা করেন। ফলে নার্সদের যে মর্যাদা ও মূল্য দেওয়া উচিত, তা তাঁদের বিবেচনায় আসে না এবং তাঁরা এ বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ দেন না।
(২৪ জুন ২০০৪)
আমার মতে, আমাদের দেশের সব মানুষ এবং যাঁরা রোগীদের ভবিষ্যৎ ও দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত, তাঁদের সবারই নার্সদের প্রতি মনোযোগ, ভালোবাসা ও গুরুত্ব প্রদর্শন করা উচিত। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণ-উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে।
সমাজের সংস্কৃতিতে নার্সদের কাজের গুরুত্ব এবং এই পেশার কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে যথাযথ উপলব্ধি গড়ে তুলতে হবে।
(২৪ জুন ২০০৪)
আপনার কমেন্ট