শুক্রবার ২৮ মার্চ ২০২৫ - ১০:২৪
কুদস দিবস: জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও মাজলুমের পাশে দাঁড়ানোর প্রতীক

কুদস দিবস এমন একটি সুযোগ, যখন মুসলিম ও বিশ্বের সকল স্বাধীনতাকামী মানুষ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এই দিনটি বিশ্ববাসীকে একটি বার্তা দেয় যে, অত্যাচার ও দখলদারিত্ব কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় এবং মানবাধিকার সংরক্ষণ করতে হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ধর্মীয় গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম মোজতবা নাজাফী তার এক নিবন্ধে লিখেছেন: 

রমজান মাসের শেষ শুক্রবারে পালিত কুদস দিবস কেবল একটি ধর্মীয় ও সামাজিক দিনই নয়, বরং এটি মাজলুমদের পক্ষে এবং অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি বৈশ্বিক আওয়াজ। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনি (রহ.) ফিলিস্তিন ইস্যু ও সেখানে মানুষের ওপর চাপানো নির্যাতনের প্রতি বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই দিনটির প্রবর্তন করেছিলেন। কুদস দিবস মুসলিম ও বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে দখলদারিত্ব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর একটি সুযোগ করে দেয়। 

ফিলিস্তিনিদের মাজলুমিয়াত: শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও সহিংসতা

ফিলিস্তিনি জনগণ, বিশেষত গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে দীর্ঘদিন ধরে ইহুদিবাদী শাসনের দখলদারিত্ব, সহিংসতা ও অবিরাম আগ্রাসনের শিকার। নারী ও নিরীহ শিশুরা এই সহিংসতার প্রধান শিকার। যেসব শিশু এখনো জন্মায়নি, তারাও যুদ্ধ ও ভয়ের সাথে পরিচিত হয় এবং অনেকেই শৈশবেই প্রাণ হারায়। তারা মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত এবং সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করে। কুদস দিবসে অংশগ্রহণ এই শিশুদের জীবন ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে অবস্থান নেয়া এবং এই অন্যায় বন্ধ করার জন্য একটি বার্তা। 

ঐতিহাসিক সংযোগ: আশুরা ও কুদস দিবস

ইতিহাস জুড়ে অত্যাচার ও নির্যাতন সবসময় বিদ্যমান ছিল এবং আশুরার ঘটনা এর মর্মান্তিক ও শিক্ষণীয় ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি। আশুরার দিনে ইমাম হুসাইন (আ.), তাঁর পরিবার ও সঙ্গীরা এক অতুলনীয় মজলুমিয়াতের সম্মুখীন হন। এই মাজলুমিয়াতের একটি উদাহরণ হলো ছয় মাসের শিশু হযরত আলী আসগর (আ.)-এর শাহাদাত, যিনি শিশু হয়েও বিদ্বেষ ও নিষ্ঠুরতার হাত থেকে রক্ষা পাননি। এই নির্দোষ শিশু এমন এক অত্যাচারীর শিকার হন যারা কাউকেই রেহাই দেয়নি। আশুরার স্মৃতি আমাদেরকে অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং ন্যায় ও সুবিচারের পক্ষে অবস্থান নেয়ার প্রেরণা যোগায়। 

যেভাবে ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর আহলে বাইত নিজ সময়ের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, কুদস দিবসে অংশগ্রহণও সেই পথেরই ধারাবাহিকতা। এই দিনটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো একটি মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। ফিলিস্তিনি শিশুরা হযরত আলী আসগর (আ.)-এর মতোই অসহায়ত্ব ও মাজলুমিয়াতের প্রতীক। তাদের পক্ষে দাঁড়ানো মানবিক ও ইসলামী মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়ানো। 

কুদস দিবসে ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব

কুদস দিবস এমন একটি সুযোগ, যখন মুসলিম ও বিশ্বের সকল স্বাধীনতাকামী মানুষ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এই দিনটি বিশ্ববাসীকে একটি বার্তা দেয় যে, অত্যাচার ও দখলদারিত্ব কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় এবং মানবাধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। এই দিনে অংশগ্রহণ আমাদের ন্যায়বিচার, শান্তি ও মজলুমদের পক্ষে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha