হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ইরানের হাওজা ইলমিয়ার প্রধান আয়াতুল্লাহ আ‘রাফি একটি বার্তা প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি ফাতিমিয়া উপলক্ষে ধর্মীয় প্রচার, জনসচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ব এবং সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।
بسم الله الرحمن الرحیم
اللّهُمَّ صَلِّ عَلَی الصِّدّیقَةِ الطاهرةَ فاطِمَةَ الزَّکِیَّةِ وَکُنِ الثّائِرَ اَللّهُمَّ بِدَمِها و دم اَوْلادِها و دماء شهدائنا
হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান
বার্তার শুরুতে আয়াতুল্লাহ আ‘রাফি ইরানের জনগণ, হাওজা ইলমিয়ার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, বিশিষ্ট আলেম এবং ধর্মীয় প্রচারকদের প্রতি হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর শাহাদাতবার্ষিকীর শোক ও সমবেদনা জানান।
তিনি ঘোষণা করেন, ধর্মীয় প্রচার কার্যক্রমে আলেম ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ১৩ জমাদিউল আউয়াল থেকে সপ্তাহের শেষ দিন পর্যন্ত-অর্থাৎ ২ থেকে ৭ আবান (ইরানি ক্যালেন্ডার) পর্যন্ত-কোমের হাওজা ইলমিয়ার উচ্চতর ও বহিরাগত পাঠক্রম এবং বিশেষায়িত কেন্দ্রগুলোর ক্লাস বন্ধ থাকবে। এ সময় শিক্ষার্থী ও আলেমরা ধর্মীয় প্রচার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। অন্যান্য প্রদেশ এবং প্রাথমিক স্তরের পাঠক্রমের ছুটি ও প্রচার কার্যক্রমের ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.)-এর মর্যাদা সম্পর্কে তিনি বলেন, কুরআন, হাদিস, ইতিহাস ও ইসলামী ঐতিহ্যে বিশ্বনারীদের নেত্রী হিসেবে তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটেছে। তাঁর রেখে যাওয়া অমূল্য জ্ঞানভান্ডারও তাঁর অসাধারণ মর্যাদার পরিচায়ক। তাঁর প্রকৃত মর্যাদার গভীরতা অনুধাবন করা কেবল নিষ্পাপ ব্যক্তিত্বের পক্ষেই সম্ভব; তাঁর সেই মর্যাদা মানুষের পূর্ণ বর্ণনা ও উপলব্ধির ঊর্ধ্বে।
তিনি আরও বলেন, হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.)-এর আলোকোজ্জ্বল জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা অপরিহার্য। তিনি ছিলেন ঐশী আলোর প্রকাশ, আল্লাহর অনুগ্রহের মাধ্যম এবং আহলে বাইত (আ.)-এর ইমামগণসহ বিশ্বের নারী-পুরুষের জন্য আদর্শ। বেলায়েতের মর্যাদা রক্ষায় তিনি কোনো আত্মত্যাগ থেকে পিছপা হননি।
আয়াতুল্লাহ আ‘রাফি ধর্মীয় প্রচারকদের প্রতি আহ্বান জানান, ফাতিমিয়া উপলক্ষে মসজিদ ও শোকানুষ্ঠানগুলোকে প্রাণবন্ত করে তুলতে হবে। দলবদ্ধভাবে ধর্মীয় প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি হযরত ফাতিমা (সা.)-এর জ্ঞানগত, ইবাদতসংক্রান্ত, সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা তুলে ধরতে হবে এবং দেশজুড়ে ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।
জনগণের সমস্যা সমাধান ও সামাজিক সেবার ওপর গুরুত্বারোপ
আয়াতুল্লাহ আ‘রাফি বলেন, ধর্মীয় ও বিপ্লবী মূল্যবোধের প্রচার এবং মানুষকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে হলে জনগণের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের দুঃখ-কষ্ট কমাতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতে হবে।
একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রেখে দায়িত্বশীলদের কাছে ন্যায়সংগত ও সাহসীভাবে জবাবদিহি দাবি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণ, বিশেষ করে তরুণদের জন্য নিয়মিত সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গড়ে তোলা জরুরি। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও জনগণের সমস্যা সমাধান ও দেশের অগ্রগতির জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকট ও জনগণের জীবনযাত্রার সমস্যাগুলো কমাতে হবে।
তাঁর মতে, প্রতিরোধমূলক সংস্কৃতি ও অর্থনীতির চর্চার মাধ্যমে ইরানের জনগণ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতি অতিক্রম করতে পারেন।
জাতীয় ঐক্য, প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের সংস্কৃতি জোরদার করার আহ্বান
আয়াতুল্লাহ আ‘রাফি বলেন, সাহসিকতা, সহনশীলতা, প্রতিরোধ, সতর্কতা, অবিচলতা, পবিত্র ঐক্য, সামাজিক সংহতি, ইসলাম ও নেতৃত্বের অনুসরণ এবং জিহাদ ও শাহাদাতের সংস্কৃতি ইরানের জনগণ ও প্রতিরোধ অক্ষের অমূল্য সম্পদ।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব মূল্যবোধ বড় ধরনের বিপদ অতিক্রম করে নতুন ইসলামী সভ্যতার দিকে এগিয়ে যাওয়া, ইরানের মর্যাদা ও শক্তি রক্ষা করা এবং ইসলামী উম্মাহ, ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর বিজয় অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি ফাতিমিয়া উপলক্ষে ধর্মীয় প্রচার, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব মূল্যবোধ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও কঠিন পরিস্থিতি বিচক্ষণতার সঙ্গে মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
পরিবার, হিজাব ও শালীনতা রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে আয়াতুল্লাহ আ‘রাফি বলেন, পরিবার, সুস্থ ও অগ্রসর সমাজ এবং হিজাব ও শালীনতার মূল্যবোধ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বের নারীদের নেত্রী হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর মর্যাদাপূর্ণ, ঈমানদীপ্ত ও শালীন জীবনধারা তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ধর্মপরায়ণ নারী, তরুণী, আলেম ও ধর্মীয় প্রচারকদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষতি কমাতে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও প্রচারমূলক পদ্ধতির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাতে হবে।
দোয়া ও শুভকামনা
বার্তার শেষে আয়াতুল্লাহ আ‘রাফি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.), আহলে বাইত (আ.), ইমাম মাহদি (আ.), ইরানের প্রয়াত নেতৃবৃন্দ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি ইরানের জনগণ, ইসলামী উম্মাহ, আলেম সমাজ, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিরোধ অক্ষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সাফল্য কামনা করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.)-এর শোকানুষ্ঠান এবং এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সব প্রচেষ্টা মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হবে।
আপনার কমেন্ট