বৃহস্পতিবার ২১ আগস্ট ২০২৫ - ১০:৩২
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত দিবস: শোক, শিক্ষা ও মানবতার আলো

হিজরি সনের সফর মাসের ২৮ তারিখ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে গভীর শোক ও বেদনার দিন। এ দিনেই মানবজাতির মুক্তির পথপ্রদর্শক, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.) ইন্তেকাল করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং মুসলমানদের জন্য আত্মসমালোচনা, শিক্ষা এবং নবীর জীবনাদর্শ অনুসরণের এক বিশেষ উপলক্ষ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: রাসূলুল্লাহ (সা.) ২৩ বছরব্যাপী নবুয়তের জীবনে মানবজাতির কল্যাণ, তাওহিদের প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার, নৈতিকতা, সহমর্মিতা এবং মানবিকতার আদর্শ স্থাপন করেন। কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেন: “সত্যিই তোমাদের জন্যে আল্লাহর রাসূলে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” (সূরা আহযাব: ২১)

ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি নবীর আদর্শ অনুসরণ করে, আল্লাহ তাকে আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দান করবেন।” (আল-কাফি, খণ্ড ১, পৃঃ ৬০)

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও শিক্ষা
মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, মদিনার সনদ প্রণয়ন—প্রতিটি ধাপ মানবসমাজের জন্য এক মহান শিক্ষা। নবীর জীবন দেখায় যে সমাজে ন্যায়, শান্তি, সাম্য ও মানবমর্যাদা প্রতিষ্ঠাই ইসলামের মূলনীতি।

হাদিসে বর্ণিত, “আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী জিনিস রেখে যাচ্ছি; একটি হলো আল্লাহর কিতাব, অন্যটি আমার আহলুল বাইত। তোমরা যদি এ দু’টিকে আঁকড়ে ধর, কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।” (মুসলিম, শিয়া সূত্রেও সমর্থিত)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট, নবী (সা.) উম্মাহকে কোরআন ও আহলুল বাইতের শিক্ষা অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

ওফাত দিবসে শোক ও আচার-অনুষ্ঠান
বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা এ দিনে শোকসভা, দোয়া মাহফিল, মিলাদ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শিয়া সম্প্রদায় বিশেষভাবে আহলুল বাইতের দিকনির্দেশনা স্মরণ করে। ইমাম আলী (আ.), ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.) নবীর রেখে যাওয়া দায়িত্বকে বহন করেছিলেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “আমার আহলুল বাইতের ভালোবাসা ঈমানের অংশ।” (আল-কাফি, খণ্ড ২, পৃঃ ৩২০)

নবীর শিক্ষা: চিরন্তন দিশারি
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দারিদ্র্য বিমোচন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবিক সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের মধ্যেই তাঁর দাওয়াত নিহিত।

তিনি নিজে দরিদ্র ও অনাথদের যত্ন নিয়েছেন, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরোধিতা করেছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। নবীর জীবনের প্রতিটি দিক আজকের মুসলমানদের জন্য আলোকবর্তিকা।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত দিবস কেবল শোকের নয়, বরং আত্মসমালোচনা ও শিক্ষা গ্রহণের দিন। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে মানবতার কল্যাণ, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব। নবীর শিক্ষা ও আহলুল বাইতের দিকনির্দেশনা মুসলিম উম্মাহকে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও মানবতার পথে পরিচালিত করে।

অতএব, এ দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাসূলুল্লাহ (সা.) কেবল ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্ব নন, তিনি মানবতার জন্য চিরন্তন আলোকবর্তিকা।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha